রূপার ঘাতকদের ফাঁসি কার্যকরের দাবি পরিবারের

ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

রূপার ঘাতকদের ফাঁসি কার্যকরের দাবি পরিবারের

আব্দুল্লাহ আল নোমান ও আশরাফুল ইসলাম রনি, টাঙ্গাইল ৪:০৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

print
রূপার ঘাতকদের ফাঁসি কার্যকরের দাবি পরিবারের

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে জাকিয়া সুলতানা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ৪ খুনির ফাঁসির অধীর অপেক্ষায় আছেন তার মা। এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও রূপার ভাই হাফিজুর রহমান, তার  পরিবার, আইনজীবী ও রূপার গ্রাম সিরাজগঞ্জের তাড়াশের আসানবাড়ির মানুষ।

দ্রুত ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ করে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় চার আসামিকে সোমবার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার নাছিম। তাকে সহযোগিতা করেন মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস আকবর খান, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এমএ করিম মিঞা এবং মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ।

বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার নাছিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আলোচিত রূপা হত্যা মামলার এই রায়টি যুগান্তকারী একটি রায়। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়েছে। ১৪  কার্যদিবদের মধ্যেই মামলার রায় প্রদান করায় বিজ্ঞ আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীরা ৭ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট আপিল করতে পারবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এই রায়ে আসামিরা ন্যায়বিচার পায়নি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।  

মামলার রায়ের দিন সোমবার সকালেই আদালতে আসেন মামলার বাদি ও রূপার ভাই হাফিজুর রহমান এবং  বোন পপি খাতুনসহ কয়েকজন নিকট আত্মীয়।

রায় ঘোষণার পর তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাফিজুর রহমান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পরিবর্তন ডটকমকে  বলেন, ‘আমরা এই রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি ও অনুরোধ জানাচ্ছি। যাতে ভবিষতেও কোন বোনকে আর এই রকম নির্মম পরিনতির শিকার হতে না হয়।

তিনি আরো বলেন, কাঁদতে কাঁদতে আমার  মায়ের  চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। মা এই খুনিদের ফাঁসির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন।

রূপার হত্যার আসামীদের ফাঁসির দাবিতে দৌঁড়ের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদকারি মির্জা শাহজাহান পোষ্টার নিয়েই রায়ের দিন আদালত চত্বরে অবস্থান নেন। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন ‘ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। ভবিষতেও এই ধরনের জঘন্য কাজের বিরুদ্ধে আমার প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে, রূপার গ্রাম সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের  প্রত্যান্ত আসানবাড়ির মানুষ  রায়ে সন্তোষ রূপার গ্রামের বাড়ির মানুষ।

তাদের দাবি আদালতের এই রায় বহাল রেখে দ্রুত আসামীদের ফাঁসি কার্যকর করা হোক।

এই রায়ে খুশি হয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বারুহাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোক্তার হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আলোচিত মেধাবী ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপা কে ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার করে আদালত তাদেরকে সর্ব্বোচ শাস্তি দিয়েছেন। এতে আমরা খুব খুশি। সেই সাথে তাদের এ রায় দ্রুত কার্যকরা করার দাবি জানাই।

নিহত রূপার চাচা প্রবীন শিক্ষক আলহাজ ফজলুল হক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমরাতো আর রূপাকে ফিরে পাবো না। কিন্তু ঘাতকদের শাস্তির রায় হয়েছে। এতে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা। যেন এদের এমন শাস্তি দেখে কেউ আর অপরাধ করতে না পারে তাই দ্রুত এ রায় কার্যকর করার দাবি জানাই।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুরের পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে লাশ ফেলে রেখে যায়।

পুলিশ ওই রাতেই লাশ উদ্ধার করে পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবররস্থানে দাফন করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

ঘটনার দুই দিন পর পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে নিহতের বড়ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে বোন রূপার লাশ সনাক্ত করেন। রূপার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামে।

গত বছরের ১৫ অক্টোবর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

এরপর গত বছরের ২৫ অক্টোবর আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। মামলায় মোট ৩২ জনের মধ্যে ২৭ জন সাক্ষ্য দেন।

এই মামলায় ৫জন কে গ্রেফতার করে পুলিশ তাদের স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দিতে মুত্যুর ১৭১ দিন পর আদালত এই রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯)।

এ মামলায় বাসটির সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এএএন-এআইআর/এএফ

আরও পড়ুন...
টাঙ্গাইলে রূপা হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

 
.


আলোচিত সংবাদ