নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টা

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টা

সালাহ উদ্দিন জসিম, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর থেকে ১১:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮

নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টা

আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টায় দেশের ৫টি জেলার ৭ আসনে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে গোপালগঞ্জের বাড়িতে নিজ আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

এরপর জাতির পিতার মাজার জিয়ারত ও দোয়া-মুনাজাত করে বের হন। সকাল ৯টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহর। ওই বহর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণভবনে প্রবেশ করে। পথিমধ্যে টানা পাঁচটি জেলার সাতটি এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।

এর মধ্যে ফরিদপুর মালিগ্রাম ভাঙ্গার মোড়, ফরিদপুরের কমরপুর মোড়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌরসভা মোড়, ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণ এবং সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী এসব আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

এছাড়াও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী মোড়ে গাড়ি থেকে নেমে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভনেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে যাত্রার ধারাবাহিক অব্যাহত রাখতে দেশবাসীকে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশসেবার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাশাপাশি দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, উন্নয়নের জোয়ার অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন। বিএনপি-জামায়াত আসলে দেশের সব উন্নয়ন ধ্বংস করে দেবে, খুন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-জঙ্গীবাদের মাধ্যমে দেশকে আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে। আমরা আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছি, অন্ধকারের যুগে ফিরে যেতে চাই না। তাই, নৌকায় ভোট দিয়ে আলোর পথেই এগিয়ে যেতে হবে। আ’লীগ ক্ষমতায় না আসলে পদ্মাসেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে’

ফরিদপুর ভাঙ্গার মোড়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য নির্বাচনী এলাকার জনগণের কাছে অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বর নৌকার ও আওয়ামী লীগের বিজয়ের মাস। আমরা একজন প্রার্থী করেছি, তাকে নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক কিছু প্রলোভন দেখাতে পারে। অনেক কথা বলতে পারে। কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাদী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীরা আপনাদের ভোট ছিনতাই করতে না পারে সেজন্য সবাই সতর্ক থাকবেন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবেন। আপনার ভোট আপনি দেবেন, নৌকায় মার্কায় ভোট দেবেন। সবাই মনে রাখবেন একটি ভোট ও একটি আসন ও আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান। একটি আসনের কারণেও হয়তো সরকার গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। সে কারণে যেখানে যাকে নৌকার প্রার্থী করেছি, তাদেরকে ভোট দিয়ে আমাদেরকে সরকার গঠন করতে সহায়তা করুন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল, অনেকে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। কিন্তু বিশ্বব্যাংক কোন দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। কোনো কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমি দেশবাসীর কাছে প্রত্যাশা করি, গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে সবাই নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন।

নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য এসব এলাকার ভোটারদের ওয়াদার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীও তাদের কাছে ওয়াদা দিয়ে বলেন, আপনারা ওয়াদা দিয়েছেন নৌকায় ভোট দিয়েছেন। আমিও ওয়াদা দিচ্ছি ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করব। দেশের মানুষের একটি ঘরও অন্ধকারে থাকবে না। প্রতিটি ঘর বিদ্যুতের আলোতে আলোচিত হবে। প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবো। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবোই। আমরা ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। আমরা ক্ষমতায় থেকেই এটি পালন করতে চাই।

ঠাট্টার ফকিরপুর এখন উন্নত ফরিদপুর

কমরপুরের জনসভায় ফরিদপুর-৩ আসনে বর্তমান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এরা ক্ষমতায় থাকতে দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে, এতিমের টাকা আত্মসাত পর্যন্ত করেছে। এ কারণে বিএনপি নেত্রী দণ্ডিত হয়ে এখন কারাগারে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-বিদেশে অর্থ পাচার, এতিমের টাকা আত্মসাত, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি এটাই ছিল তাদের নীতি। দুর্নীতিকেই তারা নীতি হিসেবে নিয়েছিল, দেশের কোন উন্নয়ন করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে পুরো বাংলাদেশেই ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন বলেই এই উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এই উন্নয়নের মহাসড়কের গতি যেন চলমান থাকে সেটাই আমার চাওয়া।

সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। কারণ মাদকের কারণে শুধু তরুণ সমাজই নয়, একটি সমাজ, পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

দেশের যুব সমাজের সকল অভিভাবক, শিক্ষক, মাদ্রাসার ইমামসহ সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সন্তান-ছাত্ররা মাদক কিংবা জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়ছে কি না, কে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে- নজর রাখুন। চলমান সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানে সহযোগিতা করুন।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে চাই। এটা সম্ভব হবে যদি আপনার নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও দেশ সেবার সুযোগ দেন।

ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফরিদপুরবাসীকে কোন দাবি করতে হবে না। আগে ফরিদপুরকে ফকিরপুর বলা হতো। এখন আর ফকিরপুর নেই, সত্যিই উন্নত ফরিদপুর হয়েছে।

ফরিদপুর বিভাগ ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ফরিদপুরকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। আগামীতে ক্ষমতায় আসলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।

ক্ষমতায় আসলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে

রাজবাড়ী-১ আসনে কাজী কেরামত আলী এবং রাজবাড়ী-২ আসনে জিল্লুল হাকিমকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য জেলার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দৌলদিয়া ফেরিঘাটে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েই তা মিথ্যা প্রমাণিত করেছি।

আগামীবার ক্ষমতায় আসলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রয়োজনে এখানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার কোন চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বাবা-মা, ভাইসহ সবাইকে হারিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছি, যাতে দেশের মানুষ একটু ভাল থাকে। দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য আমরা একটা উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ রেখে যেতে চাই। আগামীতে ক্ষমতায় এলে দেশের একটি মানুষের ঘর অন্ধকার থাকবে না, কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। এজন্য আরেকটিবার দরকার, আওয়ামী লীগ সরকার।

মায়ের কোলে শিশু, শেখ হাসিনা কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ: নায়ক ফেরদৌস

একই জনসভায় দেশের দুই জনপ্রিয় চলচ্চিত অভিনেতা নায়ক ফেরদৌস ও রিয়াজও রাজবাড়ী জেলার নেতাকর্মীদের সামনে নৌকা মার্কায় ভোট চান।

অভিনেতা ফেরদৌস বলেন, মায়ের কোলে যেমন শিশুরা নিরাপদে থাকেন, তেমনি শেখ হাসিনা কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে। আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে, যাতে দেশের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর কন্যাই থাকেন।

অপর নায়ক রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কারণ দেশের উন্নয়নের যাদুর কাঠি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই। তিনি সবাইকে হারিয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই এবারের ভোট শেখ হাসিনার পক্ষে, নৌকার পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষেই হোক, বিজয়ী হোক।

মানিকগঞ্জে অনেক মানিক, আমি কিছু কুড়িয়ে নিছি

পাটুরিয়া ঘাটে আয়োজিত সমাবেশে মানিকগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এ এম নাইমুর রহমান দুর্জয়কে বিজয়ী করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকায় দেবে উন্নয়ন, গতিশীলতা ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। নৌকা না আসলে এসব কিছুই থাকবে না, সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে দেশকে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে, আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে সারাবিশ্বে দেশকে উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, মানিকগঞ্জে অনেক মানিক আছে। আমরা কিছু মানিক কুড়িয়ে এনেছি। নাইমুর রহমান দুর্জয় ক্রিকেটের একটি মানিক। তিনি আপনাদের এমপি। মমতাজ বেগম আরেকজন মানিক। তিনি গানের শিল্পী। তাদের দু’জনকে নৌকা মার্কার প্রার্থী করেছি। তাদেরকে বিজয়ী করুন।

মানিকগঞ্জে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম ও অর্থনৈতকি অঞ্চলের প্রতিশ্রুতি

মানিকগঞ্জ পৌরসভা মোড়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী জাহিদ মালেক স্বপনকে নৌকা মার্কায় বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি নানা উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে বলেন, এবার আমরা নির্বাচিত হলে মানিকগঞ্জে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেবো। তাতে এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

পাটুরিয়ায় মানিকগঞ্জে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম করারও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকানো এবং সরকারের উৎখাতের নামে খালেদা-তারেক জিয়া হুকুম দিয়ে পাঁচশ’ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অগ্নিসন্ত্রাস করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। আর কোন সুস্থ্য মানুষ কোন জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে না। দেশের মানুষের প্রতি এদের এতটুকু দরদ নেই, মানুষের ভাল তারা বোঝে না, শুধু ধ্বংস করতে জানে।

৩০ গাড়ির টোল ও ফেরি ভাড়া দিলেন শেখ হাসিনা

নির্বাচনী প্রচারণা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, নিজ ও দলের তহবিল থেকে টোল বিল এবং ফেরিভাড়া আদায় করেন। এসময় তিনি ৩০টি গাড়ির টোল ও ফেরি ভাড়া দেন।

এছাড়াও ঢাকা জেলার ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণ এবং সাভারের সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় করে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী।

এসময় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি দেশের উন্নয়নের গতি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাহলে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আরেকটিবার দেশসেবার সুযোগ দিন। একমাত্র নৌকায় দেবে উন্নয়ন, গতিশীলতা আর মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। নৌকা না থাকলে এসব থাকবে না, সবকিছু ধ্বংস করে দেবে।

তিনি বলেন, খুনী, সন্ত্রাসী, বিদেশে অর্থপাচারকারী, অগ্নিসন্ত্রাসকারী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, স্বাধীনতা বিরোধী ও এতিমের টাকা আত্মসাতকারীরা (বিএনপি-জামায়াত) আর যাতে ক্ষমতায় যেতে পারে, দেশকে আবারও ধ্বংস করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ ও মাদকমুক্ত তরুণ সমাজের জন্য উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনই আগামীতে আমাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তরুণ সমাজ বিশেষ করে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে আপনাদেরই (দেশবাসী) সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? বাংলাদেশে আবারও জঙ্গীবাদ, বাংলাভাই, একই দিনে পাঁচশ’ স্থানে বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, সন্ত্রাস, দুর্নীতির মতো অতীতের অন্ধকারের দিকে ফিরে যাবেন, নাকি জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-দুর্নীতিমুক্ত বর্তমানের উন্নয়নের আলোর পথেই থাকবেন? সেই সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে। নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার, স্বাধীনতা, উন্নত-সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছেন, আবারও নৌকায় ভোট দিন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আপনাদের উপহার দেব। প্রত্যেক গ্রামকে আমরা শহরে পরিণত করব।

এরপর রাত প্রায় সাড়ে ৭টায় গণভবনে পৌঁছায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহর।

এসইউজে/এআরই