টাঙ্গাইলে চায়ের কাপে নির্বাচনী ঝড়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯ | ৫ চৈত্র ১৪২৫

টাঙ্গাইলে চায়ের কাপে নির্বাচনী ঝড়

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮

টাঙ্গাইলে চায়ের কাপে নির্বাচনী ঝড়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডে বেলাল হোসেনের চা স্টল। তখন সকাল ৮টা। শীতের সকালে চা পান করতে বসেছেন কয়েকজন। চা তৈরি হচ্ছে আর লোকজন চালিয়ে যাচ্ছেন আড্ডা। আলোচনার বিষয় সংসদ নির্বাচন।

গত নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে অনেকের। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিনা ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হন।

এবার বিএনপিসহ অন্য দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তাই নির্বাচনী আলোচনায় যেন প্রাণ পেয়েছেন ভোটাররা। এবার তাদের মনের মতো প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন।

তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে আশার সঙ্গে আশঙ্কাও রয়েছে। ভোট ঠিকমতো দিতে পারবেন কি না, কেন্দ্র দখল করা হবে কি না, সরকার দলীয় প্রার্থী জোর করে জয় ছিনিয়ে নেবে কি না এসব আশঙ্কা তাদের মধ্যে। আশার কথা, বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এতে জাগবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। জমে উঠবে নির্বাচন।

সেখানে চা পান করতে বসেছিলেন ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে শুধু আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী থাকায় ভোট হয়নি। এবার প্রায় সব দল আছে। মনে হচ্ছে ভালই জমবে নির্বাচন। পছন্দের লোককে হয়তো ভোট দিতে পারবো।’

কৃষক আরশেদ আলী বলেন, ‘ভোটের আগে কি হয় বুঝতাছি না। যদি কোনো হাঙ্গামা হয় তাইলে ভোট আর দেয়া হবে না।’

 চা স্টলের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন আসায় চা খেতে আসা মানুষ অনেক সময় বসে থেকে গল্প-গুজব করে। কে জিতবে, কে হারবে, আওয়ামী লীগ কি চায়, বিএনপি কি চায়, কে কি বুদ্ধি করে আরো কত কথা যে তারা কয়! আমি শুনি, মজা পাই আর চা বিক্রি করি।’

কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড থেকে বল্লা রোডে একটু এগিয়ে গেলেই রাস্তার ডানপাশের চা স্টলে ছয়জন বিভিন্ন বয়সের লোক বসে চা পান করছেন। তাদের কাছে নির্বাচনের খবর জানতে চাইলে বলেন, বিএনপি এ নির্বাচনে আসায় ভালো হয়েছে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে যারা ঝিমিয়ে পড়েছিল তারা এবার জাগবে। আমারাও খুশি। শক্তিশালী দুই দল আছে নির্বাচনে। গত নির্বাচনে ভোট ছাড়াই অনেকে এমপি হয়েছিল। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়।

মির্জাপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, গত ১০ বছর আগে মির্জাপুরে জাতীয় নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে মির্জাপুর আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী একাব্বর হোসেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু ভোটের আশা করছি। নির্বাচন কমিশন দেশের জনগণের শান্তির জন্য নিরপেক্ষ ভোটের ব্যবস্থা করবে বলে আমাদের আশা।

মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আশা করছি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সেই উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি।

দেলদুয়ার বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বলেন, গত নির্বাচনে দেলদুয়ারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন খন্দকার আব্দুল বাতেন। একজন নামমাত্র তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ফলে নির্বাচন জমেনি একতরফা ।

এএএন/এআরই