রাজকোটের ‘ভুলগুলো’ নাগপুরে করতে চায় না বাংলাদেশ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

রাজকোটের ‘ভুলগুলো’ নাগপুরে করতে চায় না বাংলাদেশ

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

রাজকোটের ‘ভুলগুলো’ নাগপুরে করতে চায় না বাংলাদেশ

দিল্লির প্রথম ম্যাচে জয়ের পর রাজকোটের দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। গড়তে চেয়েছিল ইতিহাস। দিল্লির অসাধারণ জয়ে বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সেই স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাস হাওয়ায় মিলিয়ে দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশিদের হতাশ করে স্বাগতিক ভারত ২৬ বল বাকি থাকতেই তুলে নিয়েছে ৮ উইকেটের অনায়াস জয়।

যদি প্রশ্ন করা হয় রাজকোটে বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পনের পেছনে কারণ কি? খেলা দেখা সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা একবাক্যে স্বীকার করবেন, বাংলাদেশের হারের কারণ রোহিত শর্মা। রোহিতের তাণ্ডবের কাছেই হেরেছে বাংলাদেশ। সমান ৬টি করে ছক্কা-চারের সমতায় মাত্র ৪৩ বলে ৮৫ রানের ইনিংস, ক্রিকেটবোদ্ধারাও বলবেন রোহিতই হারিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশকে।

হ্যাঁ, রোহিতের দানবীয় ব্যাটিং অবশ্যই বাংলাদেশের হারের অন্যতম বড় কারণ। তবে হারের পেছনে এর চেয়েও বড় কারণ আছে। তা হলো ম্যাচে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের করা ভুলগুলো! বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অন্তত নিজেদের করা ভুলগুলোকেই হারের বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তার মতে, ম্যাচে বেশ কিছু ভুল করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ভুলগুলো যেহেতু চিহ্নিত করতে পেরেছেন, তাই মাহমুদউল্লাহ এই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, রাজকোটে করা ভুলগুলো নাগপুরের তৃতীয় ম্যাচে করবেন না।

তা রাজকোটে কি কি ভুল করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা? মাহমুদউল্লাহর মতে, সবচেয়ে বড় দুটি ভুল হলো অনেক বেশি ডট বল দেওয়া এবং মিডল অর্ডারে দ্রুত উইকেট হারানো।

হিসাবটা দেখলে আপনিও মাহমুদউল্লাহর কথাটা মানবেন। টি-টোয়েন্টিতে একটা দল মাত্র ১২০টি বল মোকাবিলা করার সুযোগ পায়। এই ১২০ বলের মধ্যে রাজকোটে ৩৮টি বল ডট দিয়েছে বাংলাদেশ। মানে ১২০ বলের মধ্যে ৩৮ বলে কোনো রান নিতে পারেনি।

এত বেশি বল ডট দিলে নিশ্চিতভাবেই তার প্রভাব পড়ে দলীয় স্কোরে। রাজকোটে বাংলাদেশের ইনিংসেও তা পড়েছে। লিটন দাস ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেছিলেন ৬০ রান। শক্ত এই ভিতের উপর দাঁড়িয়ে তখন ১৭০-১৮০ রানের স্বপ্নই দেখছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ডট বল দেওয়ায় এবং মিডঅর্ডারে দ্রুত উইকেট হারানোয় বাংলাদেশ করতে পারে মাত্র ১৫৩ রান। মাহমুদউল্লাহ মনে করেন, ম্যাচটা বাংলাদেশ হেরেছে আসলে সেখানেই। তার মতে দলের স্কোর ১৭০১৮০ হলে ম্যাচের ফল অন্য রকমই হতে পারত। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে ৪০টির মতো ডট বল দিলে জয়ের আশা তখনই শেষ হয়ে যায়। আমরা ৩৮টি ডট বল খেলেছি। পরের ম্যাচে এ ভুলগুলো করা যাবে না। দলের সবাইকে এ দিকটিতে ভালোভাবে নজর দিতে হবে।’

সেদিন মিডলঅর্ডারে দ্রুত উইকেট হারানোর ভুলটা করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান। এই ভুলের কারণে ৩৮টি ডট বল খেলার ভুলটা হয়েছে। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়াতেই দেখে-শুনে খেলার পথে হাঁটতে হয়েছে বলে মনে করেন মাহমুদউল্লাহ, ‘মিডল অর্ডারে বেশ কয়েকটি উইকেট দ্রুত হারানোর ফলে আমাদের রান তোলার গতি কমে যায়। সাবধানতা বশতৎ বেশি ডট বল খেলে ফেলেছি। পরের ম্যাচে তাই এ দিকটিতেও নজর দিতে হবে। দ্রুত উইকেট হারানো যাবে না।’

দুই ম্যাচ পর ৩ সিরিজের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। যার অর্থ, নাগপুরের তৃতীয় ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারণী ‘ফাইনাল’। সেই অলিখিত ফাইনালে যারা জিততে তারাই হাতের মুঠোয় পুরবে সিরিজ। মাহমুদউল্লাহ চান রাজকোটের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে নাগপুরে ‘নিখূঁত’ ক্রিকেট খেলতে। আর সেটা পারলে সিরিজ জেতা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন তিনি।

বাংলাদেশ দল পারবে রাজকোটে করা এই ভুল থেকে নাগপুরে শিক্ষা নিতে? উত্তর মিলবে আগামীকাল রোববারই।

কেআর/জেডএস 

 

ক্রিকেট: আরও পড়ুন

আরও