ইনিংস ঘোষণায় বিশাখাপত্তমের মরা টেস্টে হঠাৎ রোমাঞ্চ

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

ইনিংস ঘোষণায় বিশাখাপত্তমের মরা টেস্টে হঠাৎ রোমাঞ্চ

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৫, ২০১৯

ইনিংস ঘোষণায় বিশাখাপত্তমের মরা টেস্টে হঠাৎ রোমাঞ্চ

টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ। অথচ দুই দলের প্রথম ইনিংসই শেষ হয়নি। গতকাল তৃতীয় দিন শেষে বিশাখাপত্তম টেস্টেকে তাই ম্যাড়ম্যাড়ে ড্র’র রেলগাড়িই মনে হচ্ছিল। কিন্তু চতুর্থ দিন শেষে ম্যাড়ম্যাড়ে ড্রয়ের সেই রেলগাড়িই এখন ছড়াচ্ছে শেষের উত্তেজনার রোমাঞ্চ। মরা টেস্টে হঠাৎ প্রান ফেরানোর নায়ক বিরাট কোহলি। ভারত অধিনায়কের নাটকীয় ইনিংস ঘোষণাই নিষ্প্রাণ বিশাখাপত্তম টেস্টে ফিরিয়ে এনেছে প্রাণ।

চতুর্থ দিন শেষে টেস্ট যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছে দুই দলই। হ্যাঁ, কোহলির নাটকীয় ইনিংস ঘোষণার ফলে, স্বাগতিক ভারত এবং সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা, দুই দলই জয়ের স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছে। তবে টেস্টের আদি-অন্ত যাদের ভালো জানা, তারা নিশ্চিতভাবেই বলে দিতে পারবে, স্বাগতিক ভারতের জয় স্বপ্নটাই বেশি উজ্জ্বল।

জয়ের জন্য কাল শেষ দিনে ভারতের দরকার ৯ উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৮৪ রান। তাদের হাতে রয়েছে ৯টি উইকেট। একদিনে ৩৮৪ রান, অসম্ভব নয়। তবে খুবই কঠিন। আর প্রোটিয়াদের সেই কঠিন সেই পথটার কথা আজই মনে করিয়ে দিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ডিন এলগারকে মাত্র ২ রানেই ফিরিয়ে দিয়ে।

কোহলির নাটকীয় ইনিংস ঘোষণার পর দক্ষিণ আফ্রিকা ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে। কোহলির হয়তো লক্ষ্য ছিল, অন্তত দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনিং জুটি বিচ্ছিন্ন করা। সেই আশাতেই কোহলি দুই দিক থেকেই সাজান স্পিন আক্রমণ। এক পাশ থেকে বোলিং করেন অফ-স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন। অন্য পাশ থেকে বল করেন রবীন্দ্র জাদেজা। তো নিজের দ্বিতীয় ওভারেই অধিনায়ক কোহলির ‘ওপেনিং জুটি ভাঙার’ স্বপ্নটা পূরণ করে দেন জাদেজা। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেনডিন এলগারকে। এই ১ উইকেট হারিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ১১ রান। শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকানদের ৩৯৫ রানের জয় লক্ষ্যটা তাই নেমে এসেছে ৩৮৪ রানে।

প্রথম ইনিংসে পাওয়া ৭১ রানের লিড নিয়ে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করেছে অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে। মাত্র ৬৭ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে তুলে নেয় ৩২৩ রান। এর সঙ্গে প্রথম ইনিংসের ৭১ রানের লিড মিলিয়ে লিড ৩৯৪ হতেই ইনিংস ঘোষণা করেন কোহলি।

ভারত অধিনায়ককে নাটকীয় এই ইনিংস ঘোষণার সুযোগ করে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় নায়ক রোহিত শর্মা। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলা রোহিত দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় ওপেনার হিসেবে একই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন রোহিত। ভারতীয়দের মধ্যে তার আগে এই কীর্তি আছে আর মাত্র একজনের, সুনিল গাভাস্কার।

এছাড়াও আরও দুটি রেকর্ড গড়েছেন রোহিত। টেস্টে ওপেনার হিসেবে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ৩০৩ রান করেছেন তিনি। এটাও রেকর্ড। ওপেনার হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টে এত বেশি রান ইতিহাসে কেউ করতে পারেনি। এর আগের সর্বোচ্চ ছিল শ্রীলঙ্কার সাবেক ওপেনার তিলকরত্নে দিলশানের। ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টে ২১৫ রান করেছিলেন তিনি।

যাই হোক, দলের রানের চাকা দ্রুত ঘুরাতে হাত খুলে খেলেছেন রোহিত। ৭ ছক্কা ও ১০ চারে মাত্র ১৪৯ বলেই করেছেন ১২৭ রান। এই ইনিংসের পথে তিনি দ্বিতীয় উইকেটে চেতেশ্বর পুজারার সঙ্গে গড়েন ১৬৯ রানের জুটি। যাতে পুজারার অবদান ৮১ রান।

রোহিত ও পুজারার এনে দেওয়া শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে শেষ দিকে ব্যাট ঝড়ে তোলেন রবীন্দ্র জাদেজা, বিরাট কোহলি, অজিঙ্কা রাহানেরা। জাদেজা ৩২ বলে করেন ৪০, কোহলি ২৫ বলে অপরাজিত ৩১ ও রাহানে ১৭ বলে করেন অপরাজিত ২৭ রান।

ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এই ইনিংস বিবৃতিই বলে দিচ্ছে, কী ঝড়টা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের উপর দিয়ে। সেই ঝড়ের মধ্য্ও বাঁ-হাতি স্পিনার কেশব মাহারাজ নিয়েছেন ২টি উইকেট। তবে সেজন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ১২৯ রান! অন্যদের কথা না-ই বা বললাম।

কেআর

 

ক্রিকেট: আরও পড়ুন

আরও