১৮.৩ ওভারের স্নায়ুযুদ্ধ এবং জবাবহীন রশিদ খান

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

১৮.৩ ওভারের স্নায়ুযুদ্ধ এবং জবাবহীন রশিদ খান

খলিলুর রহমান ৭:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

১৮.৩ ওভারের স্নায়ুযুদ্ধ এবং জবাবহীন রশিদ খান

কখনো কখনো আপনার কথা আপনার দিকে তাকিয়েই বিদ্রূপের হাসি হাসে। এই মুহূর্তে কথাটার সত্যতা হয়তো সবচেয়ে বেশি বুঝতে পারছেন সাকিব আল হাসান। চতুর্থ দিন শেষে সাকিব জয়ের অসম্ভব যে চিত্রটা এঁকেছিলেন, তিনি ১৫০ এবং সৌম্য ১২০ করলেই তো ম্যাচটা জিতে যাবে বাংলাদেশ। হতে পারে দলকে আত্মবিশ্বাসী রাখতেই অধিনায়ক হিসেবে অবাস্তব এই ছকটা এঁকেছিলেন। কিন্তু এঁকেছিলেন তো। উপায় থাকলে তিনি হয়তো এখন নিজের কথাটা গিলেই ফেলতে চাইতেন।

৪ উইকেট হাতে নিয়ে ২৬২ রান করে জয় পাওয়া বা সারাদিন কাটিয়ে দূরে থাক। সাকিবের বাংলাদেশ উতরাতে পারল না ১৮.৩ ওভারের স্নায়ুযুদ্ধ।

সাকিবের অবাস্তব জয়ের ছক নয়, চট্টগ্রাম টেস্টের শেষদিনে বাংলাদেশকে হার এড়ানোর আশা দিয়েছিল বৃষ্টি। পরম আশীর্বাদ হয়ে নামা বৃষ্টি খেয়ে দিয়েছিল দিনের সাড়ে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময়। বৃষ্টির পর শেষ বিকেলে যখন খেলা মাঠে গড়াল, দিনের তখন ঘণ্টা দেড়েকের মতো বাকি। সময়ের হিসেবে তাই নির্ধারণ হয়, খেলা চলবে সর্বোচ্চ ১৮.৩ ওভার।

সাকিবের আঁকানো অবিশ্বাস্য ছক বাস্তবায়নের দরকার তখন ছিল না। কোনো রকমে ওই ১৮.৩ ওভার উইকেটে কাটিয়ে দিলেই মিলতো মান বাঁচানো ড্র। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে এই পথটুকু পাড়ি দেয়া, এ আর এমনকি! কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এই পথটুকুই হয়ে উঠল মঙ্গল গ্রহের দূর!

ক্রমাগত চেষ্টা করে যাওয়া মনুষ্য জীবের পক্ষে এখনো যেহেতু মঙ্গল গ্রহে পদচিহ্ন আঁকা সম্ভব হয়নি, সাকিব-সৌম্য-তাইজুল-মেহেীদ-নাঈমদেরও দূরত্বটা অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি! ১৮.৩ ওভারের পথের বরং ৩.২ ওভার বাকি থাকতেই বাংলাদেশের হাঁটার পা আটকে গেছে।

১৮.৩ ওভারের স্নায়ুযুদ্ধ পাড়ি দিতে নেমে বাংলাদেশ ১৫.১ ওভারে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রামের একমাত্র টেস্টটিতে হার মেনেছে ২২৪ রানে। বৃষ্টি আশীর্বাদের যে হাতটা মাথার উপর বিছিয়ে দিয়েছিল, ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তাও বিফলে গেছে। বৃষ্টি ঝরানোর দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা সাকিবদের কানে ফিসফিস করে বলতেই পারেন, ‘তোমাদের পক্ষ নিয়ে কারসাজির জাল পেতেও লাভ হলো না!’

যদি প্রশ্ন করা হয়, কেন এই পথটুকুও পাড়ি দিতে পারল না বাংলাদেশ? উত্তরটা স্কোর কার্ডেই। আফগানিস্তানের তারকা লেগস্পিনার রশিদ খানের কোনো জবাব বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের কাছে ছিল না! ৪ উইকেটের মধ্যে শেষ ৩টিই তুলে নিয়েছেন তিনি।

শেষ বেলার এই স্নায়ুযুদ্ধে নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে যান ভরসার বড় প্রতীক হয়ে থাকা সাকিব। সারাদিনের বৃষ্টিতে ফিকে হয়ে গিয়েছিল আফগানদের জয়ের আশা। সাকিবকে প্রথম বলেই ফিরিয়ে দিয়ে সেই আশার বাতিটা আবার জ্বেলে দেন জহির খান। এরপর বাকি কাজটুকু সেরেছেন রশিদ খান।

নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে তাইজুল আউট হওয়ার পরও খেলা ছিল ৭.৩ ওভার। সৌম্য ও নাঈম হাসান মিলে তার ৪.১ ওভার কাটিয়ে দেন। তখনো আশাটা ছিল। আর ২০টি বল কাটিয়ে দিতে পারলেই রক্ষা হতো মান। কিন্তু রশিদ খান তা হতে দেবেন কেন! ঐতিহাসিক জয়ের ক্ষুধায় টগবগ করে ফুটতে থাকা রশিদ তা দেনও নি। সৌম্যকে নিজের ৬ নম্বর শিকার বানিয়ে সেরেছেন জয়ের কাজ।

শুধু আজ শেষ বিকেলে নয়, পুরো ম্যাচেই রশিদ খানের স্পিনের জবাব দিতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে রশিদ খানের ৬ উইকেট প্রাপ্তির তথ্য সেটাই বলছে।

এটাও সত্যি যে, বৃষ্টির কারণে আফগানরা জয়বঞ্চিত হলে সেটা তাদের সঙ্গে অন্যায়ই হতো! টেস্টের প্রথম দিন সকালের ঘণ্টা দেড়েক বাদে পুরো সময়টাতেই বাংলাদেশের ওপর ছড়ি ঘুড়িয়েছে আফগানিস্তান।

ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই সাকিবের দলকে কোণঠাসা করেছে রশিদ খানের দল।

ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণে টেস্টটাকে চতুর্থ দিন শেষে যে জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল তারা, তাতে জয়টা তাদের প্রাপ্যই ছিল। তাই বুঝি শেষ বেলায় বিধাতা বৃষ্টির ছাতাটা তুলে নিয়ে খুলে দেন জয়ের পথ।

কেআর/এইচআর

 

ক্রিকেট: আরও পড়ুন

আরও