৭ তো আসলেই লাকি

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

৭ তো আসলেই লাকি

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৯

৭ তো আসলেই লাকি

‘লাকি ৭’। বহুল প্রচলিত এই কথাটি এখন সবচেয়ে বেশি মানানসই বালাদেশের ক্রিকেটের ক্ষেত্রে। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তার দলের সদস্যরা এখন জোর গলাতেই বলতে পারেন, ‘৭ আসলেই লাকি। আমরা ৭-কে লাকি রূপ দিতে পেরেছি।’ ফাইনালে বাংলাদেশের অদৃশ্য গিট্টুটা যে খুলল ৭-এ এসে। ৭ নম্বর ফাইনালে এসেই বাংলাদেশ পেল অধরা শিরোপার স্বাদ!

গত কয়েক বছর ধরেই ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ধারাবাহিক বাংলাদেশ। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠা, ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনালে খেলা। বৈশ্বিক এই দুটি টুর্নামেন্টে স্বপ্নের সীমানা ছাড়ানো সাফল্যের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে অনেকগুলো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের স্বাদও পেয়েছে বাংলাদেশ।

কিন্তু ‘ফাইনাল’, এই শব্দটা যেন বাংলাদেশের সেই সাফল্যের গায়ে একটা কালো তিলক হয়ে এঁটে বসেছিল। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে একে একে ৬টি ফাইনাল খেলেও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। কীভাবে ফাইনাল জিততে হয়, সেই মন্ত্রটাই যেন খুঁজে পাচ্ছিল না বাংলাদেশ।

অবশেষে সেই ফাইনাল গিট্টু গতকাল খুলেছে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে, নিজেদের ৭ নম্বর ফাইনালে। অদৃশ্য সেই বাঁধাটা আবার দূর হয়েছে অবিশ্বাস্য এক জয়ে। মাত্র ২৪ ওভারে বাংলাদেশ ২১০ রান তাড়া করে জিতবে, শুরুতে এটা বিশ্বাস করাটাই ছিল কঠিন। কিন্তু সৌম্য, মোসাদ্দেকদের বিস্ময়কর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ডাবলিনে সেই বিস্ময় উপহার দিয়েছে।

জয়ের পর ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো বাংলাদেশ, সৌম্য ও মোসাদ্দেকের নামের আগে ‘বিস্ময়কর’ শব্দটি জুড়ে দিয়েছে। আসলেই কাল ৭-কে নিজেদের জন্য লাকি বানাতে ব্যাট হাতে বিস্ময়কর ছিলেন সৌম্য-মোসাদ্দেক। এই দুই বিস্ময়ের কাঁধে চেপে বিস্ময় উপহার দিয়েছে বাংলাদেশও।

ডাবলিনের মালাহাইডের ‘দ্য ভিলেজ’ স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুটা করেছিল দারুণ। শাই হোপ ও সুনিল অ্যামব্রিসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২৪ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই ক্যারিবীয়রা তুলে ফেলে ১৫২ রান। পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারলে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামতো, নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে ক্যারিবীয়দের পুঁজিটা যে পাহাড়সম হতো এটা নিশ্চিতই।

কিন্তু বৃষ্টি ক্যারিবীয়দের সেই ঠিকানা দেখতে দেয়নি। ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ১৫২ রানেই থামিয়ে দেয় তাদের। বৃষ্টি আইনে ওই ২৪ ওভারেই বাংলাদেশের লক্ষ্য নির্ধারিত ২১০! বৃষ্টি আইন বেশির ভাগ সময়ই পরে ব্যাটিং করা দলের জন্য সহায়কের ভূমিকা পালন করে থাকে।

কিন্তু কাল যেন বৃষ্টি আইনের ভারি বোঝাটা আরও ভারি করে চাপিয়ে দেয় বাংলাদেশের ওপর। ডি/এল পদ্ধতির হিসাব-নিকাশ অনেক সময়ই গোলমেলে লাগে! ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৫২/১ এক লাফে বাংলাদেশের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্য হয়ে যাওয়ায় কাল সেটি আরও বেশি গোলমেলে মনে হলো!

কিন্তু বিস্ময়কর সৌম্য-মোসাদ্দেকের কাছে সেই গোলমেলে হিসাবটাও হয়ে গেল লাকি! ফুটল সৌভাগ্যের ফুল হয়ে। এমনিতে বাংলাদেশের জয়ের পটভূমিটা সব সময়ই নির্মিত হয় পঞ্চপাণ্ডব তথা মাশরাফি-তামিম-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের হাতে।

কি্ন্তু কাল ডাবলিনে ইতিহাস রচনার ম্যাচটিতে ঘটল ঠিক তার উল্টোটা। চোটের কারণে দলের সেরা তারকা সাকিব আল হাসান ফাইনালে খেলতেই পারেননি। পঞ্চপাণ্ডবের বাকি ৪ জন তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফিরাও কাল তেমন কিছু করতে পারেননি। তারপরও বাংলাদেশ প্রথম বারের মতো ‘ফাইনাল’ জেতার ইতিহাস গড়ল দুই তরুণ সৌম্য ও মোসাদ্দেকের ব্যাটের জাদুতে।

তামিম-সাব্বির দ্রুত ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে সৌম্য খেললেন ৪১ বলে ৬৬ রানের আলো ঝলমলে এক ইনিংস। ব্যাটিং রোসনাইয়ে তাকেও ছাপিয়ে গেছে মোসাদ্দেকের ইনিংস। শেষ দিকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে তিনি ৫ ছক্কা ও ২ চারে মাত্র ২৪ বলে করেছেন অপরাজিত ৫২ রান।

পরিসংখ্যান বলছে, ওয়ানডেতে এটাই মোসাদ্দেকের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। ২৬ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এর আগে একটাই হাফ সেঞ্চুরি ছিল তার। ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ৫৭ বলে করেছিলেন কাটায় কাটায় অপরাজিত ৫০। বাস্তবতা হলো, মোসাদ্দেকের এই ইনিংস বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা। পাহাড়সম আস্কিং রানরেটটা যেভাবে ঠাণ্ডা মাথায় ৭ বল বাকি থাকতেই মিলিয়ে দিলেন তিনি, সত্যিই অবিশ্বাস্য, বিস্ময়কর।

অবিশ্বাস্য এই জয়ের পর মাশরাফিদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে আমরাও বলতে পারি, ‘৭ আসলেই লাকি। লাকি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য।’

কেআর/আরপি

 

ক্রিকেট: আরও পড়ুন

আরও