মাশরাফি ধর্মান্ধ, বিএসএমএমইউ চিকিৎসকের কটাক্ষ

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

মাশরাফি ধর্মান্ধ, বিএসএমএমইউ চিকিৎসকের কটাক্ষ

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২০ অপরাহ্ণ, মে ০২, ২০১৯

মাশরাফি ধর্মান্ধ, বিএসএমএমইউ চিকিৎসকের কটাক্ষ

মাত্রই কয়েক দিনের অপেক্ষা। নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে স্বপ্নের বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ।

আগামী ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে শেষ সময়ের জোর প্রস্তুতি চলেছে টাইগার শিবিরে। ঘাম ঝরিয়েছেন মাশরাফি-সাকিবরা। বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি হিসেবে আয়ারল্যান্ডে খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। সেজন্য গতকাল বুধবার তারা দেশ ছেড়েছেন।

কিন্তু, দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ দল এবার ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। বলা চলে বিব্রতকর অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুরুটা হয়েছে ক্রিকেটার মাশরাফি নন, এমপি মাশরাফিকে নিয়ে। পর্যায়ক্রমে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাসকে টেনে এনে কটাক্ষ করা হয়েছে।

নিজ আসনের সদর আধুনিক হাসপাতালে গেয়ে রোগিদের কষ্টে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নড়াইল এক্সপ্রেস। কোনো চিকিৎসককে দায়িত্বে না পেয়ে গত ২৫ এপ্রিল ক্ষুব্ধ হন তিনি। হাজিরা খাতা খতিয়ে দেখেন, চিকিৎসকরা বিনা ছুটিতেই টানা কয়েক দিন কর্মস্থলে নেই।

এরপর প্রথমবার সংসদে যাওয়া মাশরাফি রোগি সেজে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ফোন দেন। তারা তখন, তাকে ২৮ এপ্রিল হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে বলেন। এরপর মাশরাফি নিজের জনপ্রতিনিধিত্বের পরিচয় দিয়ে, তাদের টানা কর্মস্থলে না থাকার বিষয়ে জানতে চান। সদুত্তর না দিয়ে চিকিৎসকরা প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাইলে এক পর্যায়ে দেশসেরা এই পেসার এক চিকিৎসককে বলেই বসেন, ‘আপনি কি আমার সঙ্গে ফাজলামো করছেন?’

পরে অবশ্য বিনয়ী মাশরাফির দাবি, তিনি তার ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে ‘সরি’ বলতে পাঁচ পাঁচবার ফোন করেছেন।

কিন্তু, হাসপাতালে রোগি সেজে চিকিৎসকের সঙ্গে মাশরাফির কথোপকথন কেউ একজন ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। এরপর থেকেই মূলত চিকিৎসকরা মাশরাফি এবং বাংলাদেশ দলের অন্য ক্রিকেটারদের ঠিকুজি উদ্ধারে উঠেপড়ে লেগেছেন। তারকা চিকিৎসক ও জনপ্রিয় উপস্থাপক আব্দুন নূর তুষার থেকে শুরু করে এই বিষোদগারে শামিল হয়েছেন অনেকেই।

তাদেরই একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের চিকিৎসক (এফসিপিএস, মেডিসিন ও এমডি, চেস্ট ডিজিস) আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam) ।

তিনি মাশরাফির নামায পড়া থেকে শুরু করে পোশাক নিয়ে নানা কটাক্ষ করেছেন।

আমিনুল ইসলামের ভাষ্যে, ‘মাশরাফি তার মেয়েকে মাদ্রাসায় দিক বা আহলুল হুফফাজে তেলোয়াত করতে পাঠাক এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু, তার ইমাম মুশফিক রিয়াদেরা যখন নামাযের বাইরেও টেপ দিয়ে বাঘের ছবি তথা লোগোটা ঢেকে রাখে গুনাহ হবার ভয়ে তখন অধিনায়ক হিসেবে তা নিয়ে কিছু না বলাটা কোন ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, সরাসরি ওসবকে সমর্থন করা। নানা অনুসঙ্গই বলে দেয় মাশরাফির মাইন্ডসেট সেই সাইদ আনোয়ার, সাকলায়েন মোস্তাক বা দেশী পাকি মুশফিকের চেয়ে উন্নত কিছু নয়। আর এরে নিয়া তোমরা গড়বা ধর্মান্ধতা মুক্ত বাংলাদেশ? ধর্মান্ধরে আইডল বানিয়ে ধর্মান্ধ মুক্ত বাংলাদেশ? ফাইজলামি পাইছো না?’

গতকাল বুধবার দুপুরে দেয়া এই ফেসবুক পোস্টে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আহসান হাবীব নামে আরেক চিকিৎসকের পোস্টও প্রসঙ্গক্রমে জুড়ে দিয়েছেন। আহসান হাবীবের পোস্টেও ক্রিকেটারদের, বিশেষ করে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে স্পষ্ট বিষোদগার ফুটে উঠেছে।

আমিনুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট পরিবর্তন ডটকমের নিজস্ব বানান রীতিসহ তুলে ধরা হলো—

‘কারও পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। চেহারা-ছুরতে বিশেষ মতবাদের ছাপ নিয়ে আসা কোনো সেলেব্রেটি যখন তার এই নামায পড়াটাকে মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করতে থাকে, সে আসলে তখন কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ব্র‍্যান্ড অ্যাম্ব্যাসেডর হিসেবে সুক্ষ্ম কৌশলে কাজ করে যায়। তাতেও সমস্যা নাই। কেউ ভাল ডাংগুলি খেলতে জানলেই তাকে ওহাবিজমকে না বলার মতো মননশীলতাও অর্জন করার যোগ্যতা থাকতে হবে তেমন কোনো কথা নাই।

তবে একটা জায়গায় কথা আছে। যে মাশরাফি মিডিয়ায় সবাইকে জানিয়ে বেড়ায়, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব মুসলিম ক্রিকেটার পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন। আমরা প্রায় সবাই ওমরাহ সেরে ফেলেছি। বিদেশ সফরে আমরা জামাতে নামায পড়ি। সেখানে ইমামতি করেন মুশফিকুর রহিম না হলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ’। তখন তার ঘিলুর ভাইরাস নিয়ে চিন্তিত না হয়ে একদল প্রগতিমনা ব্যানার শেয়ার করে বেড়াচ্ছে মাশরাফির মাধ্যমে তারা ধর্মান্ধতামুক্ত বাংলাদেশ গড়বে।

মাশরাফি তার মেয়েকে মাদ্রাসায় দিক বা আহলুল হুফফাজে তেলোয়াত করতে পাঠাক, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু তার ইমাম মুশফিক রিয়াদেরা যখন নামাযের বাইরেও টেপ দিয়ে বাঘের ছবি তথা লোগোটা ঢেকে রাখে গুনাহ হবার ভয়ে তখন অধিনায়ক হিসেবে তা নিয়ে কিছু না বলাটা কোনো ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, সরাসরি ওসবকে সমর্থন করা। নানা অনুসঙ্গই বলে দেয় মাশরাফির মাইন্ডসেট সেই সাইদ আনোয়ার, সাকলায়েন মোস্তাক বা দেশী পাকি মুশফিকের চেয়ে উন্নত কিছু নয়। আর এরে নিয়া তোমরা গড়বা ধর্মান্ধতা মুক্ত বাংলাদেশ? ধর্মান্ধরে আইডল বানিয়ে ধর্মান্ধ মুক্ত বাংলাদেশ? ফাইজলামি পাইছো না?’

আমিনুল লেখেন, ‘জার্সির রং পাকিদের সাথে মিলে গেলে যাদের গা জ্বলে, ফ্যানাটিজমে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম যখন তাদেরকেও ছাড়িয়ে যায়। এরাই আবার সেটার মৌন সমর্থক হয়ে থাকে। হিপোক্রেটের দল।

এদের নিয়ে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘অনেকের মাশ্রাফী ফ্যানাটিসিজম মৌলবাদীদেরকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কারও কাছে পীর পুরোহিতদের নিয়ে কিছু বলা যায় না। আর আরেকদলের কাছে মাশরাফীরে নিয়েও কিছু বলা যায় না। ট্রল শুরু হয়ে যায়। একই ফ্যানাটিক জিন দু’পক্ষের কোষে- শুধু প্রকাশটা ভিন্ন। একদল আশেকে মাশরাফি, অন্যরা আশেকে দেওয়ানবাগী। একই রোগ লক্ষণ ভিন্ন। দুই গ্রুপই ছাগু।’

এরপরই তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক আহসান হাবীবের (Ahsan Habib)  পোস্ট প্রসঙ্গ হিসেবে পুরোটা জুড়ে দিয়েছেন— Ahsan Habib ভাইয়ের লেখাটা এখানে উল্লেখ করা প্রসঙ্গত। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেছে- ‘আমি সব সময় ভাগ্যে বিশ্বাসী, পুরো দলের ভাগ্যে যেটা আছে সেটাই হবে। তবে কষ্ট করতে হবে।’

এই হচ্ছে আমাদের সাহসী অধিনায়কের বিশ্বকাপ ভাবনা! ‘ভাগ্যে যা আছে সেটাই হবে’, এর সঙ্গে ‘তবে’ যুক্ত করে একটা দুর্বল লেজুড় লাগিয়েছে ‘কষ্ট করতে হবে!’ ভাগ্যে যা আছে তাই ঘটবে তাহলে কষ্টের কি দরকার? এই কথার একটাই মানে ‘ফলাফল যাই হোক মনে করতে হবে এটাই ভাগ্যে লেখা ছিল’। এর চেয়ে দুর্বল মানসিকতার কি হতে পারে?

এই বক্তব্য কোত্থেকে সে পেল? ধর্ম থেকে। ধর্মই ওকে শিখিয়েছে ‘ভাগ্য’ নামের এক অলীক বস্তুর কথা। মানুষ যতই চেষ্টা করুক ধর্ম বলছে ভাগ্যে না থাকলে হবে না। এই বস্তাপচা বাণীর আড়ালে সে নিজেদের সব দায় মুক্তি নিয়ে ফেলেছে, ফলাফল যাই হোক।

তাই তো যখন দেখি মুশফিক তার বুক থেকে রয়াল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ঢেকে দেয়, অধিনায়কের তা চোখে পড়ে না। কেউ উইকেট পেলে মাঠে সেজদা দিয়ে মাঠকে জায়নামায বানিয়ে ফেলে পাকিদের অনুকরণে! সদ্য বানানো জার্সি থেকে ‘লাল’ রঙ মুছে ফেলা হয়েছে। যে লাল বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতার কথা বলে। এটাও আমাদের অধিনায়কের চোখে পড়ে না। অথচ সে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত বীর বলে! এ কেমন আত্মপ্রবঞ্চনা! ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে দলকে কেঁচো বানিয়ে ফেলা, লাল মুছে পাকিদের অনুকরণ করা, বুক থেকে রয়েল বেঙ্গল ঢেকে ফেলা, সেজদায় নত হওয়া!

এখন শুধু একটি প্রতীক যুক্ত করা বাকি- একটি চাঁদ তারা...’

ওএস/আইএম

 

ক্রিকেট: আরও পড়ুন

আরও