স্বগোত্রের বিরুদ্ধে ম্যাশের হয়ে যা বললেন স্বাচিপ নেতা

ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

স্বগোত্রের বিরুদ্ধে ম্যাশের হয়ে যা বললেন স্বাচিপ নেতা

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০১৯

স্বগোত্রের বিরুদ্ধে ম্যাশের হয়ে যা বললেন স্বাচিপ নেতা

জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগদানের আগে নিজ নির্বাচনী এলাকা নড়াইলে এসে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

গত ২৫ এপ্রিল ঝটিকা সফরে নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে নানা অনিয়ম দেখে, পরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই পেসার।

রোগী সেজে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত চিকিৎসকদের ফোন করেন মাশরাফি। তারা তাকে তিন দিন পরে এসে চিকিৎসা নিতে বললে নিজের জনপ্রতিনিধি পরিচয় দেন।

এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘এখন যদি হাসপাতালের সার্জারি প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই রোগী কী করবে?’ চিকিৎসককে তার কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে কড়া ভাষায় দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দেন।

মাশরিাফির এই কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই বাংলাদেশের অধিনায়কের প্রসংশা করেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে এমন আচরণের সামালোচনাও করেন কেউ কেউ।

এমন পরিস্থিতিতে স্বগোত্রের চিকিৎসদের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ক্ষমতাসীন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আতিকুজ্জামান ফিলিপ। বলা চলে লেজের ব্যাটসম্যান হিসেবে মাশরাফির হয়ে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

বানান সংশোধনসহ আতিকুজ্জামান ফিলিপের ফেসবুক পোস্ট তুলে দেয়া হলো—

মাশরাফির প্রতি আমার অন্যরকম একটা ভালোবাসা আছে, দুর্বলতা আছে, মায়া আছে সর্বপরি একটা পক্ষপাতিত্ব আছে!

স্বাচিপ নেতা আতিকুজ্জামান ফিলিপ

সবিনয়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি চাইলেই মাশরাফিকে সমালোচনা করতে পারি না, সে যোগ্যতা আমার নেইও!

কারণ— আমি মাশরাফির মতো এতোটা দেশপ্রেমিক না। হাঁটুতে এমন সাতটা কিংবা সতেরটা অপারেশন নিয়ে আমি দেশের জন্য সিনা টান করে দৌড়াতে পারি না যেমনটি মাশরাফি পারে!

কারণ— মাশরাফির মতো আমি এতোটা নির্লোভ না যে কোটি টাকার লাক্সারি গাড়ির অফার ফেরত দিয়ে গরিব-দুঃখী রোগিদের জন্য একটা অ্যাম্বুলেন্স কেনার চিন্তা মাথায় আনতে পারি!

কারণ— আমি মাশরাফির মতো এতোটা উদার পরোপকারী না যে নিজের গাটের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে হাজার হাজার কৃষককে বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করতে পারি!

কারণ— আমি মাশরাফির মতো এতোটা দরিদ্রপ্রেমী না যে কয়েকশ’ দরিদ্র ছেলেমেয়ের পড়াশুনার খরচ নিজের টাকায় চালানোর মানসিকতা ধারণ করি!

কারণ— আমি মাশরাফির মতো এতোটা যুধিষ্ঠির না যে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে নিজের বাড়ি বা নিজের নানার বাড়ি ভেঙে ফেলারও হুকুম দিতে পারি!

কারণ— আমি মাশরাফির মতো এতোটা প্রচার ও প্রসংশা বিমুখ না যে যখন কেউ আমাকে প্রসংশা করতে বা তোষামোদি করতে এগিয়ে আসে তখন বলব যে আমি নই বরং এদেশের কৃষক চিকিৎসক আর মুক্তিযোদ্ধারই এদেশের প্রকৃত নায়ক!

আমি পারিনি তাই মাশরাফির সমালোচনা করিনি! কিন্তু আমার যেসব প্রিয় চিকিৎসক ভাইয়েরা মাশরাফির সমালোচনা করছেন তারা একবারও কি ভেবেছেন সমালোচনা করতে করতে আপনারা নিজেরাও কতোটা নিচে নেমে যাচ্ছেন!

গত দু’দিন ধরে কমবেশি আপনাদের সকলের সমালোচনাই পড়লাম! স্বীকার করে নিচ্ছি মাশরাফির বলা শব্দগুলোর মধ্যে আপত্তির যথেষ্ট কারণ আছে!

কিন্তু সেই আপত্তিজনক শব্দের প্রতিবাদে মাশরাফির সমালোচনা করতে গিয়ে আপনারা যেসব শব্দ ব্যবহার করছেন সেগুলো যে আরো আপত্তিজনক তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন?

সেই কয়টি আপত্তিজনক শব্দের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আপনারা যে মাশরাফির বিরুদ্ধে সত্যমিথ্যা গালগল্প বানিয়ে মাঠের গরু ছাদে উঠাচ্ছেন তা কি ভেবে দেখেছেন?

আমার মনে হয়েছে অভিজ্ঞতার অভাব এবং আঞ্চলিকতার (নিজের বন্ধুবান্ধবের সাথে যে টোনে কথা বলেন) কারণে মাশরাফি এই শব্দগুলো ব্যবহার করে ফেলেছেন!

যদি মাশরাফি জানতেন যে নড়াইলের ওই হাসপাতালে কতজন চিকৎসকের পোস্ট আছে এবং পোস্টের বিপরীতে কতজন চিকিৎসকের ঘাটতি আছে!

যদি মাশরাফি জানতেন দুপুর সাড়ে তিনটা চিকিৎসকদের অফিস আওয়ার না বরং ইমার্জেন্সি আওয়ার এবং ইমার্জেন্সি আওয়ারে সকল চিকিৎসকের একসাথে ডিউটি থাকে না তাহলে হয়তো তার আচরণটা এমন নাও হতে পারতো!

আপনারা মাশরাফির সমালোচনা করছেন! আপনাদের নিজেদের মন্ত্রীইতো জানে না যে ইমার্জেন্সি আওয়ারে কতজন ডিউটি করে এবং কতক্ষণ ডিউটি করে!

মনে আছে কি আপনাদের মন্ত্রী একবার এই আদেশ জারি করে লোক হাসিয়েছিল যে, ‘এখন থেকে ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি খোলা থাকবে।’

স্বীকার করে নিচ্ছি— যে কনসালটেন্ট বিনা নোটিসে টানা তিন দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিল তার সাথে মাশরাফি যে ভাষায় কথা বলেছেন তা মোটেও অফিসিয়াল ও মার্জিত ছিল না!

আপনারা শুধু মাশরাফির অশালীন ভাষাটাই দেখছেন কিন্তু যে চিকিৎসক বিনা নোটিসে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিল তার দোষটা দেখছেন না!

স্বীকার করে নিচ্ছি মাশরাফি যে ভাষায় কথা বলেছেন সেটা কোনো অফিসিয়াল এটিকেট না যদিও আমি এখনো মনে করি অভিজ্ঞতার অভাব এবং অপরিপক্ব বয়সের কারণেই মাশরাফি এই ভুল শব্দগুলো ব্যবহার করে ফেলেছেন!

একজন দেশপ্রেমিক মাশরাফির দুটো অর্বাচীন শব্দে আপনাদের সম্মান ধুলোয় লুটিয়ে যাচ্ছে!

অথচ অন্য কোনো লুটেরা, দুর্নীতিবাজ এমপি মন্ত্রী বা অশিক্ষিত পাতি নেতারা যখন এর চেয়েও নোংরা ভাষায় আপনাদেরকে অযাচিত অন্যায় শাসন করে তখন তো আপনাদের মুখে রা শব্দটি দেখি না!

পিএ/আইএম