মাশরাফির বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ আব্দুন নূর তুষারের?

ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

মাশরাফির বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ আব্দুন নূর তুষারের?

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০১৯

মাশরাফির বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ আব্দুন নূর তুষারের?

মাশরাফি বিন মর্তুজা। একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত এমপি। বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। তার নেতৃত্বেই আগামী মাসে ইংল্যান্ডে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ। তারই জোর প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতির মধ্যেই গত ২৫ এপ্রিল খবরের শিরোনাম হলেন মাশরাফি। দু’দিনের সফরে নিজ আসন নড়াইল যান। সেখানে তিনি সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে ক্ষুব্ধ হন।

তার হঠাৎ পরিদর্শনের সময় চিকিৎসক না পেয়ে হাজিরা খাতা দেখেন। তাতে আরও চমকে যান তিনি। দেখতে পান ছুটি ছাড়াই টানা অনুপস্থিত চিকিৎসকরা।

এতে ক্ষোভটা আরও বেড়ে যায়। নিজেই রোগী সেজে এক চিকিৎসককে ফোন করেন। কিন্তু, চিকিৎসক রোববার হাসপাতালে এসে তাকে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন।

পরে নিজের জনপ্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ছুটি ছাড়া তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে আশানুরূপ জবাব চান। কিন্তু, ওই চিকিৎসক সদুত্তর না দিলে কথা বলার এক পর্যায়ে নড়াইল এক্সপ্রেসখ্যাত মাশরাফি একটু চড়াও হন। বলে ফেলেন, আপনি কি আমার সঙ্গে ফাজলামো করছেন? আপনার কি সাজা হওয়া উচিত আপনিই বলেন?

মাশরাফির ফোনের এই কথোপকথন কেউ রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। এরপরই চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে মাশরাফির প্রতি ক্ষোভ উগরে দেয়া হচ্ছে, অনেক অকথ্য ভাষায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে লেখালেখি করা হচ্ছে।

এই ক্ষোভ উগরে দেয়াদের দলে যোগ দিয়েছেন আব্দুন নূর তুষারও, যিনি নিজেও চিকিৎসক। চিকিৎসা ছাড়াও পর্দার পরিচিত মুখ তুষার। জনপ্রিয় উপস্থাপক। এখন দায়িত্বে আছেন বেসরকারি নাগরিক টিভির প্রধান নির্বাহী পদে।

মাশরাফির উদ্দেশে নিজের ফেসবুকে আব্দুন নূর তুষার লেখেন, ‘প্রিয় ম্যাশ, মাশরাফি!

১১ জনের দলে ৪ জন নিয়ে ক্রিকেট খেলতে রাজী হবেন?

হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের কথা শুনছেন মাশরাফি

তাহলে ২৭ জনের জায়গায় ৭ জন দিয়ে হাসপাতাল চলে কিভাবে সে প্রশ্ন সংসদে করেন!

প্রশ্ন করেন ৩০০ বেডের হাসপাতালে ১৮০০ রোগী ভর্তি করলে, ডাক্তার নার্স কেন ছয়গুন বেশি নিয়োগ দেয়া হয় না?

স্টোরে গিয়ে প্রশ্ন নয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন হাসপাতালে স্টোরগুলি কি যথাযথভাবে ঔষধ সংরক্ষণের জন্য মানসম্মত?’

তিনি লেখেন, ‘ম্যাশ, আন্তর্জাতিক নিয়মে যে কোন স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালীন দর্শকদের জন্য ডাক্তার নার্স এমনকি নেবুলাইজার, অ্যামবু ব্যাগ, ডিফিব্রিলেটর থাকতে হয়।

মিরপুর স্টেডিয়ামে কোথায় সেই ডাক্তার বসেন, ডি ফিব্রিলেটর আছে?

আশা করি আগামীতে খেলার আগে মাঠে এগুলা নাই কেন সেটা ক্রিকেট বোর্ডে জিজ্ঞাসা করে, সেই ভিডিও ভাইরাল করবেন!

মেরুদণ্ডহীন ডাক্তার সমাজকে ওএসডি করা যতো সোজা, রোগীর জন্য সেবা নিশ্চিত করা ততো সোজা না।’

আব্দুর নূর তুষার আরও লেখেন, ‘আপনার জেলা হাসপাতালে কার্ডিওলজিস্ট আছে, তার জন্য সব যন্ত্রপাতি আছে কিনা প্রশ্ন করেন?

বল ছাড়া ক্রিকেট খেলতে পারবেন? তাহলে আধুনিক দুনিয়ায় চিকিৎসার জন্য কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন, স্টেন্ট বসানো এবং পেস মেকার বসানোর যন্ত্রপাতি আছে আপনার হাসপাতালে? সেটা জানতে চান। না থাকলে কার্ডিওলজিস্ট থাকা আর তার ছবি দেয়ালে ঝুলায় রাখা একই কথা।

ওটিতে যে এসি আছে সেটায় হেপা ফিল্টার আছে? সেন্ট্রাল মেডিকেল গ্যাস সাপ্লাই?

আপনাকে কি ক্রিকেট বোর্ড খেলার জন্য বল-ব্যাট দেয়?

প্রশ্ন করেন কার্ডিওলজিস্ট যে বিশেষ কার্ডিয়াক স্টেথো দিয়ে রোগীকে পরীক্ষা করে সেটা কি সরকার দেয়? সরকার প্রেসক্রিপশন লেখার কাগজ দেয়? সরকারি আউটডোর স্লিপে বিএমডিসি নাম্বার থাকে? জায়গা আছে সব ওষুধের নাম লেখার? কলম দেয়? ডাক্তারের নাম ও নাম্বার ছাড়া সকল প্রেসক্রিপশন কিন্তু অবৈধ।

এভাবে অসম্মান, অপমান সয়ে, ঢাল তলোয়ারহীন নিধিরামগিরি করে ডাক্তারি করাটা পুরো ডাক্তার সমাজের একটা বিরাট ফাইজলামি। সকলকে ওএসডি করে, দানের গরু (ডিজি) অফিসে ন্যস্ত করে দেন। জাতি ফাজিলদের হাত থেকে রক্ষা পাক।’

এরপরই এই চিকিৎসক লেখেন, ‘একটা অপ্রিয় কথা বলি, ক্ষমা প্রার্থনা পূর্বক।

আপনি বেতন নেন খেলায় জেতার জন্য, উইকেট পাওয়ার জন্য। তারপরে দুই চারটা টুর্নামেন্টে রানারআপ হয়ে বেতনের অতিরিক্ত প্লট পান, কোটি টাকা এক্সট্রা পান। তাহলে বেতন নেন কি খেলার মাঠে যাওয়া আসা করার জন্য? জেতার জন্য নয়? ভালো খেলার জন্য তাহলে এক্সট্রা উপহার লাগে কেন? উইকেট নেয়াই তো আপনার কাজ। তাহলে বেশি উইকেট পেলে এক্সট্রা উপহার লাগে কেন? উইকেট না পেলে কি জরিমানা হয়?

কারণ এটা হলো উৎসাহ।’

তিনি লেখেন, ‘চাবকায়া ছাল তুলে ফেলেন ডাক্তারদের। কোন আপত্তি নাই। কিন্তু একটু প্রশ্ন করেন। মাগুরায় মায়ের পেটের মধ্যে গুলি খাওয়া সুরাইয়া নামের শিশুকে বাঁচালে কোন ডাক্তার কিন্তু প্লট উপহার পায় না। হাজার টাকা এক্সট্রা পায় না। পৃথিবীর কঠিনতম অপারশেন জোড়া লাগা বাচ্চা আলাদা করলে কোন পুরস্কার নাই।

কারা গোলাগুলি করেছিল মাগুরায়, সেটা পত্রিকায় দেখে নেবেন। না হলে মাগুরার সাকিব আল হাসানকে জিজ্ঞাসা করবেন। তাদের কি বিচার হয়েছে সে প্রশ্নও করবেন।

প্রশ্ন করেন বিনা অপরাধে শারীরিকভাবে আক্রান্ত একজন চিকিৎসকও কি বিচার পেয়েছেন?

আপনি যে সার্জনকে অপারেশনের কথা বললেন, জানতে চান তো জেলা হাসপাতালে অ্যানেসথেশিওলজিস্ট এর পদে সরকারি কোন ডাক্তার আছে কিনা? অ্যানেথেশিওলজিস্ট ছাড়া অপারেশন হয়?

এবার একটা লিংক দেই... পড়েন

২০১৭ সালের রিপোর্ট

নড়াইলে হাসপাতালে ডাক্তার পোস্টিংই দেয় নাই মন্ত্রণালয়

http://www.theindependentbd.com/arcprint/…/128848/2017-12-20

সংসদে প্রশ্ন করেন, আপনার এলাকায় ২০১৫ সাল থেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসক পোস্টিং দেয় নাই কেন?

ডাক্তারতো মানুষ ভাই। তার ছুটি লাগে, বিশ্রাম লাগে। নিরাপত্তাও লাগে। যন্ত্রপাতিহীন হাসপাতালে রোগী মরলে তাকে যখন মারধর করা হয়, তখন হাসপাতালে কেন তার কোন নিরাপত্তা থাকে না?

চিকিৎসক কর্মস্থলে যায় না, সেটার জন্য নিয়মানুযায়ী শাস্তি হবে, প্রতিকার হবে, হোক। কিন্তু তাকে ধমকানো তো সরকারি বিধান নয়। প্রশ্ন করেন, সবার ডিউটি আট ঘণ্টা। সপ্তাহে ৫ দিন। চিকিৎসক কেন ৬ দিন? কোন সরকারি আইনে এটা করা হচ্ছে?

ডাক্তারদের অন্যায় থাকলে সেটার শাস্তি হোক। কিন্তু এলাকার লোককে তো স্বাস্থ্য সেবা দিতে হবে। তাই প্রশ্ন করতেই হবে। উত্তরও দরকারি।’

এরপর আব্দুন নূর তুষার অনেকটা তাচ্ছিল্যের সুরে মাশরাফিকে বলেন, ‘ডাক্তার কোন ফেরেশতা না। কিন্তু সবখানে অনিয়ম রেখে হাসপাতালকে শুধু স্বর্গোদ্যান বানানো সম্ভব না। আল্লাহ আপনাকে আরো বড় করুক। এত বড় যাতে আপনি একদিন এসব প্রশ্ন করতে পারেন সংসদে।’

আইএম