মনে হলো সিনেমার ভয়াবহ দৃশ্য দেখছি: পাইলট (ভিডিও)

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯ | ৮ চৈত্র ১৪২৫

মনে হলো সিনেমার ভয়াবহ দৃশ্য দেখছি: পাইলট (ভিডিও)

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল-নূর মসজিদে বন্দুকধারীর ভয়াবহ হামলার শিকার হওয়ার কবল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা।

আরও মিনিট কয়েক আগে তারা মসজিদে পৌঁছলে চরম দুর্ভোগ নেমে আসতো পুরো দলের ওপর। হয়তো বন্দুকধারীর নৃশংস হামলার শিকার হতে পারতো দল।

শুক্রবার দুপুরে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে পার্ক সংলগ্ন আল-নূর মসজিদে হামলার চাক্ষুষ সাক্ষী হয়ে রইলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। সেই সময় টিম বাসে দলের সঙ্গে ছিলেন ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) খালেদ মাসুদ পাইলটও।

বিসিবি ফেরিফাইড পেজে দেয়া এক ভিডিও বক্তব্যে ভয়াবহ হামলার শ্বামরুদ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন পাইলট। বলেন, ‘এই ধরনের দুর্ঘটনা বা হামলা কোনো দেশে হোক, সেটা আমরা কেউ চাই না।’

তিনি বলেন, ‘এই হামলা থেকে আমরা বেঁচে গেছি ভাগ্যের জোরে। বাসে আমরা অনেকজন ছিলাম। ১৬/১৭ জন। সৌম্য সরকারও ছিল আমাদের সঙ্গে। আর হোটেলে দু’জন প্লেয়ার ছিল লিটন ও নাঈম। আমরা নামায পড়ার জন্য বাসে করে মসজিদে যাই। মসজিদ থেকে খুব বেশি হলে আমরা ৫০ গজ দূরে ছিলাম। বাস থেকে আমরা মসজিদ দেখতে পাচ্ছিলাম।’

পাইলট বলেন, ‘আমরা ভাগ্যের জোরেই মূলত বেঁচে গেছি। আর যদি তিন চার মিনিট আগে আমরা চলে আসতাম, তাহলে হয়তো মসজিদের ভেতরেই থাকতাম। এই হামলার মধ্যেই পড়তাম। তখন হয়তো বা বিশাল ভয়াবহ কিছু ঘটে যেতো!’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাইরে থেকে পুরো ঘটনার ভয়াবহতা দেখেছি। দেখে মনে হয়েছে যেন কোনো সিনেমার ভয়াবহ দৃশ্য দেখছি! বাসের ভেতর থেকে উঁকি মেরে বাইরে আমরা দেখছি সেখানে মানুষজন রক্তাক্ত মুখমণ্ডল, বিধ্বস্ত চেহারা ও আতঙ্ক নিয়ে বেরিয়ে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ৮/১০ মিনিট আমরা বাসের মধ্যেই ছিলাম। সবাই মাথা নিচু করে ছিলাম, যাতে গুলির আঘাত না লাগে। এক সময় আমাদের মনে হলো হামলাকারীরা যদি কোনো কারণে বাসের দিকে এসে এলোপাথাড়ি গুলি করে, তাহলে তো সবাই মারা পড়ব। তাই বাস থেকে নেমে আমরা যেপথ দিয়ে এসেছিলাম, সেদিকেই পায়ে হেঁটে রওনা হই। কি ভয়াবহ কেটেছে সেই সময়টা!’

সেই সময়ের পরিস্থিতি বিষয়ে পাইলট বলেন, ‘এখানে খুব কাছ থেকে খেলোয়াড়রা এই হামলার ভয়াবহতা দেখেছে। দেখেছে প্রাণ বাঁচাতে মানুষজন রক্তাক্ত অবস্থায় ছোটাছুটি করছে। এই পরিস্থিতিতে যে কোনো মানুষই কিন্তু ভেঙে পড়ার কথা। নিজের ওপর যে হামলা হচ্ছে না সেই নিশ্চয়তাও বা কোথায় তখন! এত কাছ থেকে এই হামলার নৃশংসতা দেখে ক্রিকেটারদের অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। বেশ কয়েকজন কান্নাকাটিও করে। একটা ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে এই সময় ক্রিকেটাররা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা সবাই নিরাপদ। কিন্তু, এই হামলার পুরো বিষয়টা মানসিকভাবে তাদের মুষড়ে দিয়েছে। আমাদের সবাই এখন হোটেলে আছে। আমরা সবাইকে নিয়ে হোটেলে একসঙ্গে বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে কোচিং স্টাফের সদস্যরাও সবাই উপস্থিত ছিলেন। এই ভয়াবহ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বাকি নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে এখন বাংলাদেশ দল।’

টিএটি/আইএম