হোয়াইটওয়াশের শঙ্কাই বাজছে পাকিস্তান শিবিরে

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

হোয়াইটওয়াশের শঙ্কাই বাজছে পাকিস্তান শিবিরে

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

হোয়াইটওয়াশের শঙ্কাই বাজছে পাকিস্তান শিবিরে

প্রথম দুই টেস্টেই হেরে এরই মধ্যে সিরিজ খুঁইয়েছে পাকিস্তান। জোহানেসবার্গের তৃতীয় টেস্টে হারলে ডুবতে হবে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায়। টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান শিবিরে সেই শঙ্কাই গাঢ়। টেস্টের এখনো তিন দিন বাকি। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসই শেষ হয়নি। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস তো পড়েই আছে। এখনো হোয়াইটওয়াশ শঙ্কার ওড়াওড়ির কারণ, স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা এরই মধ্যে ২১২ রানে এগিয়ে। তাদের হাতে রয়েছে আরও ৫ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ২৬২ রানের জবাবে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে অল আউট হয়েছে ১৮৫ রানে। মানে প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা পায় ৭৭ রানের লিড। এই লিড হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে তারা। দ্বিতীয় দিন শেষে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৩৫ রান। হাতে আরও ৫টি উইকেট আছে তাদের। ফলে স্বাগতিকদের লিডটা ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

এদিকে সফরকারী পাকিস্তানের বিপদের কাঁটা হয়ে এখনো উইকেটে আছেন হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক। আমলা ৪২* ও ডি কক ব্যাট করছেন ৩৪* রানে। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বলছে, এই অবস্থায়ও যদি ইনিংস ঘোষণা করে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা, তাহলেও পাকিস্তানের পক্ষে জয় পাওয়াটা কঠিন হবে!

এমন শঙ্কার কারণটাও স্পষ্ট। সফরে পাকিস্তান এ পর্যন্ত যে ৫ ইনিংসে ব্যাট করেছে, তার মধ্যে একবার মাত্র তারা ২০০ অতিক্রম করতে পেরেছে। বাকি ৪ ইনিংসেই অল আউট হয়েছে ২০০ এর নিচে। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার লিড তো এরই মধ্যে ২১২।

তবে ডিন এলগার যে এখনই ইনিংস ঘোষণা করবে না, সেটা অনুমিতই। বরং যতক্ষণ ব্যাটিং করার সুযোগ পাবে, ব্যাট করে যাবে তারা। কারণ, টেস্টের এখনো পুরো তিনটি দিন পড়ে আছে। সব মিলে জোহানেসবার্গে যেন সফরকারী পাকিস্তানের জন্য হোয়াইটওয়াশ লজ্জাই অপেক্ষা করছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ২৬২ রানের জবাবে পাকিস্তান প্রথম দিনেই ২ উইকেট হারিয়ে করে ১৭ রান। এই পুঁজি নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে বাকি ৮ উইকেটে কাল দ্বিতীয় দিনে যোগ করতে পেরেছে আর মাত্র ১৬৮ রান। এই রান পাকিস্তান পেয়েছে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ, বাবর আজম ও ওপেনার ইমাম-উল-হকের কল্যাণে। সরফরাজ করেছেন সর্বোচ্চ ৫০ রান। বাবর আজম ৪৯, ইমাম-উল-হক ৪৩।

বাকিদের মধ্যে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন আর মাত্র দুজন। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা মোহাম্মদ আব্বাস ১১ ও  মোহাম্মদ আমির ১০। বাকিদের হিসেব না নেওয়াই ভালো! পাকিস্তানকে দ্রুত গুটিয়ে দিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ভালো হয়নি। ৪৫ রানের মধ্যেই হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। পাকিস্তানি পেসারদের শিকার হয়ে একে একে ফিরে যান ডিন এলগার (৫), মারকরাম (২১), টেম্বা ডি ব্রুইন (৭) ও জুবায়র হামজা (০)।

ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আমিরের দারুণ বোলিং পাকিস্তান তখন ভালোভাবেই ফিরে আসে ম্যাচে। কিন্তু তাদের সেই সুখ তৃপ্তিতে ধীরে ধীরে জল ঢালেন হাশিম আমলা, বাভুমা ও ডি ককরা মিলে। প্রথমে বাভুমাকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়েন আমলা।

২৩ রান করে বাভুমা আউট হওয়ার পর আমলা জুটি বাঁধেন ডি ককের সাথে। দিন শেষে তাদের সেই জুটি এখনো অক্ষত। দুজনে এরই মধ্যে গড়ে ফেলেছেন ৪২ রানের জুটি। যার ৩৫ রানই করেছেন ডি কক। বোঝাই যাচ্ছে, ঠিক ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করছেন তিনি। ৩৫ বল খেলে অপরাজিত আছেন ৩৪ রান করে। বিপরীতে আমলা ধৈর্যের মূর্তপ্রতীক। ৪২ রান করেছেন ৯০ বল খেলে।

পাকিস্তানের পক্ষে ফাহিম আশরাফ নিয়েছেন ২টি উইকেট। একটি করে নিয়েছেন আব্বাস, আমির ও শাদাব খান।

কেআর/পিএ