কী নাটক নিয়ে অপেক্ষায় মিরপুর?

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজ

কী নাটক নিয়ে অপেক্ষায় মিরপুর?

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৮

কী নাটক নিয়ে অপেক্ষায় মিরপুর?

কে চায় দুঃস্বপ্ন ফিরে আসুক বারবার? একবার এক দুঃস্বপ্নের দেখা মিললে তা থেকে বেরিয়ে আসার প্রর্থনা থাকে সবার। ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও এই কথা খুব যায়। কিন্তু দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি এড়াতে চেষ্টাও লাগে ক্রিকেটে। বাংলাদেশের টপ অর্ডারদের বোধ হয় এই চেষ্টাটাই নেই। আর নেই বলেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা চতুর্থবার ব্যর্থ টাইগারদের টপ অর্ডার। যা মিরপুর টেস্ট এখন রঙ বদলে নাকটের আভাস দিচ্ছে।

 

বুধবার মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিন একটা কৌতুহল নিয়ে ঘুম ভেঙেছিল সবার। বাংলাদেশ কি ফলো অন করাবে প্রতিপক্ষকে? কিন্তু নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার প্রতিপক্ষকে ফলো অন করানোর সুযোগ পেয়েও করাল না তারা। ২১৮ রানের লিড পেয়েও ব্যাটিংয়ে নেমে পড়ল দ্বিতীয় ইনিংসে। নিশ্চিতভাবেই চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করার ঝুঁকি এড়াতে।

কিন্তু কি বিবর্ণ ব্যাটিংয়ে শুরু টাইগারদের। লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস টেস্ট সিরিজে আরো একবার ব্যর্থ। অবশ্য সিলেটে দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা রান করেছিলেন ইমরুল। লিটনও। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই ম্যাচে যা যথেষ্ট ছিল না মোটেও।

মিরপুরে প্রথম ইনিংসে বিপর্যয়ের পর ১৬১ রানের ইনিংস খেলা মুমিনুল হক এবার আর পারলেন না। ইমরুল ৩, লিটন ৬ করে বিদায় নেওয়ার পর মুমিনুলের ১ রানেই বিদায়। প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশফিকুর রহীম ব্যাটিং অর্ডারে একধাপ উপরে উঠে আসলেন। কিন্তু ৭ রানের বেশি করতে পারেননি তিনিও। ফলে ২৫ রানেই বাংলাদেশের নেই ৪ উইকেট!

মিরপুরের প্রথম সকালেই তাই সন্ধ্যার ছায়া নেমে এলো। যে ছায়া মনে মায়া লাগায় না, বরং শুধুই অজানা আশঙ্কার জানান দেয়। তবে কি দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতায় ম্যাচটাই হাতছাড়া হবে?

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচাতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের। সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে খুব বাজেভাবে। ১৭ বছর পর জিম্বাবুয়ে পেয়েছে বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ। এই ম্যাচ ড্র হলেও জিম্বাবুয়ে জিতে নেবে সিরিজ। আর সেটি হলে ২০০১ সালের পর জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারবে বাংলাদেশ। না জানি কি আঁধারে ঢাকে তখন দেশের ক্রিকেট!

এই টেস্ট শুরুর পর শুধু প্রথম দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই এমন শঙ্কা বাসা বেঁধেছিল। এরপর তৃতীয় দিন শেষেও এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জিতবে এমন কোনো প্রশ্ন উঁকি দেয়নি। ড্র করতে হলেও যে মিরাকল কিছু করতে হবে তা জানা ছিল জিম্বাবুয়েরও। কিন্তু টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে শুরুর বিবর্ণতায় এখন হারের শঙ্কাও জাগছে।

পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুন দলকে ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে তোলার চেষ্ট করছেন। লাঞ্চের আগে ৫৩ রানের জুটি উপহার দিয়েছেন এই দু’জন। লাঞ্চের পর যাদের সামনে থাকছে আরো বড় পরীক্ষা।

স্কোর বোর্ডে লাঞ্চের আগে ২৯৬ রানের লিড জমা পড়ে গেছে অবশ্য। কিন্তু বাকী পাঁচ সেশনের কোনোটি জিম্বাবুয়ের হলেও যে বিপদ। পাঁচ সেশন নয়, আপাতত চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনটা বাংলাদেশের চাই-ই। না পারলে নাটক জমে উঠবে চূড়ান্তভাবে। টেস্টের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই হারাতে হতে পারে বাংলাদেশ। যদিও এই টেস্ট জিততে হলে চতুর্থ ইনিংসে অন্তত তিনশ’র বেশি রান তাড়া করার মতো কাজটাও করতে হবে।

টিএআর/পিএ