সাকিব-তামিম ছাড়া কেমন হবে বাংলাদেশের কম্বিনেশন?

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

সাকিব-তামিম ছাড়া কেমন হবে বাংলাদেশের কম্বিনেশন?

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৮

সাকিব-তামিম ছাড়া কেমন হবে বাংলাদেশের কম্বিনেশন?

জিম্বাবুয়ে সিরিজে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল থাকবেন না এটা নতুন কোনো খবর নয়। তামিম ইকবাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফেরার জন্য পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। সাকিব আল হাসানের ফেরার অপেক্ষাটা হবে আরো দীর্ঘ। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর একদিন আগেও ঘুরে ফিরে আসছে এই দুই ক্রিকেটার প্রসঙ্গ।

না এসে উপায় কী! দলের দুই শীর্ষ ক্রিকেটারকে ছাড়া মাঠে নামতে হলে কতো কিছুই তো ভাবতে হয়। বাংলাদেশ দল সেই ভাবনা থেকেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫ সদস্যের দল সাজিয়েছে। রোববার প্রথম ওয়ানডের আগে এখন ভাবতে হচ্ছে একাদশ নিয়ে। তা একাদশ নিয়ে কী ভাবছে টিম বাংলাদেশ?

ম্যাচের একদিন আগেই একাদশ ঘোষণা হয়ে যাবে এমন প্রচলন বাংলাদেশ দলে কখনো ছিল না। এবারও নেই। ম্যানেজম্যান্টের নানা সূত্র থেকে যদি কোনো খবর মেলে! তবে শনিবার বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তাজাকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা শুনতে হলো।

সাকিব-তামিমকে ছাড়া কেমন হতে পারে কম্বিনেশন, এমন প্রশ্নে মাশরাফি হাসি ফুটিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘বলে দেব?’ মাশরাফির সেই হাসি ছেয়ে গেল পুরো সংবাদ সম্মেলন কক্ষকে।

একটু পর সিরিয়াস মাশরাফি বললেন, ‘এশিয়া কাপে একেক ম্যাচে একেক জন অসুস্থ ছিল। দুই জন (সাকিব ও তামিম) তো টিম থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। এখন যেটা আমরা জানি ওই দুজন খেলবে না। রুবেল হাসপাতালে ছিল। শারীরিক দিক থেকে হয়তো একটা-দুইটা জায়গা নিয়ে কনসার্ন আছে। ওভারঅল চেষ্টা করবো সেরা একাদশ দাড় করাতে।’

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে যে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না বাংলাদেশ সেই কথাও বলে দিলেন অধিনায়ক, ‘টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সেটা মাথায় থাকবে। কিছু নতুন খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপকে চিন্তা করলে তাদেরকে দেখার এটাই সুযোগ। একই সঙ্গে ম্যাচ জেতাটাও জরুরী হবে।’

বিশ্বকাপের কথা বললেন মাশরাফি। আসলে এক অর্থে জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ড্রেস রিহার্সেল শুরু করতে চায় টাইগাররা। বিশ্বকাপের আগে মোট চারটি সিরিজ পাচ্ছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পরই ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ। এরপর নিউজিল্যান্ড সফর। আছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ।

সবমিলেই এই সিরিজগুলোতে নিজেদের তৈরি করে নিতে চায় বাংলাদেশ, ‘আল্লাহ যদি সবাইকে সুস্থ রাখেন তাহলে কিছু খেলোয়াড় আছে যেখানে চিন্তা করার সুযোগ নেই। নাম বললে, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ ওদের জায়গায় চিন্তা করার সুযোগ খুবই কম। একইভাবে মোস্তাফিজ, লিটন, রুবেল ওরা ভালো করছে। ওরা ভালো করতে থাকলে হয়তো বা ওদের জায়গা নিয়ে ভাবনা নেই। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, আমি আগেও বলেছি আমাদের কিন্তু ব্যাকআপ খেলোয়াড় কম। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফর্ম করার মতো খেলোয়াড়।’

মাশরাফি যোগ করে বলেন, ‘এখন আস্তে আস্তে ঘরোয়া ক্রিকেট উন্নতি হচ্ছে। খেলোয়াড়রার নিজ ইচ্ছে থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে চাচ্ছে। এরকম খেলতে থাকলে হয়তো সুযোগ বেড়ে যাবে। ব্যাকআপ খেলোয়াড় তাড়াতাড়ি চলে আসবো।’

তবে দলে ডাক পাওয়া সাইফউদ্দিন, ফজলে রাব্বীদের পরখ করে নিতে চাইছে বাংলাদেশ দল, ‘বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করলে সাইফউদ্দিন, ফজলে রাব্বী অবশ্যই সেটা… কারণ সাকিবের যদি আল্লাহ না করুক সমস্যা হয়ে যায় তাহলে তার জায়গায় বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান সঙ্গে স্পিনার চিন্তা করতে হতে পারে। ব্যাকআপ যে খুব কম সময়ে তৈরি হয়ে যাবে সেটাও না। কিন্তু সুযোগগুলো আমাদের নিতে হবে। সেই সব কথা চিন্তা করেই ওরা ১৫ জনের দলে এসেছে।’

তবে যতোই নতুনদের সযোগ দেওয়ার চিন্তা থাকুক, ম্যাচ জয়টাকে প্রাধান্য দিয়েই সাজবে টাইগার একাদশ। বাংলাদেশ অধিনায়ক বললেন, ‘আমাদের ম্যাচ হারা যাবে না। সেভাবেই আমাদের একাদশ চিন্তা করতে হবে। আস্তে আস্তে একজন, দুজন করে (তরুণদের) হয়তো দেখতে হবে।’

১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল :

মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, ইমরুল কায়েস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনি, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, ফজলে রাব্বি।

টিএআর/এএসটি