ভারতের বিপক্ষে ‘হংকং’ রূপকথা লেখা হলো না

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

ভারতের বিপক্ষে ‘হংকং’ রূপকথা লেখা হলো না

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

ভারতের বিপক্ষে ‘হংকং’ রূপকথা লেখা হলো না

এশিয়া কাপে রূপকথার আভাস মিলছিল মঙ্গলবার রাতে। ভারতের বিপক্ষে যে রূপকথা প্রায় লিখেই ফেলছিল হংকং। ২৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৭৪ রান তুলে ফেলে নিজাকাত খান ও অংশুমান রাঠ জুটি। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত যেন তখন ম্যাচ থেকে একটু একটু করে ছিটকেই যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কুলদ্বিপ যাদব ভাঙেন হংকংয়ের অবিশ্বাস্য ওপেনিং জুটি। আর এরপর দারুণভাবে খেলায় ফিরে ম্যাচটাও নিজেদের পকেটে পুরেছে ভারত। ২৬ রানের জয়ে এশিয়া কাপ শুরু করেছে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ২৮৫ রান করে ভারত। সেঞ্চুরি করেন শিখর ধাওয়ান। জবাবে অবিশ্বাস্য ওপেনিং জুটির পরও ৫০ ওভারে হংকংয়ের ইনিংস শেষে হয় ৮ উইকেটে ২৫৯ রানে।

‘এ’ গ্রুপ থেকে নিজেদের দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো হংকং। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৮ উইকেটে হারে দলটি। হংকং বিদায় নেওয়া এক ম্যাচ হাতে রেখেই সুপার ফোরে উঠে গেল পাকিস্তান ও ভারত। বুধবারই মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও ভারত। তবে এক অর্ধে এই আসরের জন্য ম্যাচটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতার। ‘বি’ গ্রুপ থেকেও এক ম্যাচ হাতে রেখে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। শ্রীলঙ্কা বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।

ভুবনেশ্বর কুমার, শার্দুল ঠাকুর, যুজবেন্দ্র চাহাল, কুলদ্বিপ যাবদদের নিয়ে গড়া ভারতীয় বোলিং লাইন। সঙ্গে অভিষিক্ত খলিল আহমেদ। এই বোলিংয়ের সামনে হংকং ভেঙে পড়বে এটাই ধারনা ছিল সবার। কিন্তু সবাইকে অবাক করে ওপেনিং জুটিতে ইতিহাস গড়েন নিজাকাত খান ও অংশুমান রাঠ। তাদের ১৭৪ রানের জুটি। ভারতীয় বোলাররা কোনো ভাবেই এই জুটির পতন ঘটাতে পারছিল না।

শেষ পর্যন্ত কুলদ্বিপে কাটা পড়েন অধিনায়ক আংশুমান। রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৯৭ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৭৩ রান করেন তিনি। পরের ওভারে ১ রানের ব্যবধানে ফিরেন ৯২ রান করা নিজাকাতও। অভিষিক্ত খলিল আহমেদ এলবিডব্লিউয়ের শিকার বানান তাকে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় ফিফটিটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার আভাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত পারেননি নিজাকাত।

ঘাম ছুটানো দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে ভারত। ম্যাচ নিজেদের করার আত্মবিশ্বাস তখন ভারতীয় খেলোয়াড়দের চোখে মুখে ফুটে ওঠে। যেনো এই দুই ওপেনারকে ফেরানোর অপেক্ষাতেই ছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পরের অংশে দুর্দান্ত বোলিং করে জয় ছিনিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত। বাবর হায়াত ১৮ ও ইহসান খান ২২ রান করে মাথা তুলার চেস্টা করলেও পারেননি শেষ পর্যন্ত।

দারুণ বোলিং করেছেন খলিল আহমেদ। ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। যদিও ১০ ওভারে ব্যয় করেছেন ৪৮ রান। তবে লাইন-লেন্থ ও গতি ছিল দুর্দান্ত। যুজবেন্দ্র চাহাল নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট নেন কুলদ্বিপ।

এর আগে ভারতের স্কোরটা হতে পারতো তিন’শ পেরোনো। ৪০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ২৩৭ রান যোগ করলেও ৫০ ওভার শেষে তাদের স্কোরটা হলো ২৮৫/৭। শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে এলো মাত্র ৪৮ রান।

তবে তার আগে দারুণ ব্যাটিংয় নিজের ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরিটি তুলে নেন শিখর ধাওয়ান। কিঞ্চিত শাহর শিকার হওয়ার আগে ১২০ বলে ১২৭ রান করেন এই ওপেনার। ৬০ রান করেন অম্বতি রাইডু। দ্বিতীয় উইকেটে ধাওয়ান ও রাইডুর জুটি ছিল ১১৬ রানের। তৃতীয় উইকেটে ৭৯ রান যোগ করেন ধাওয়ান ও দিনেশ কার্তিক। কিঞ্চিত শাহর শিকার হওয়ার আগে কার্তিক করেন ৩৩ রান। কেদার যাদব অপরাজিত ২৮ রান করেন।

হংকংয়ের পক্ষে সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়েছেন কিঞ্চত শাহ। ২ উইকেট নেন ইহসান খান। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন ইহসান নেওয়াজ ও আইজাজ খান। সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন শিখর ধাওয়ান।

টিএআর/এএল/