'চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে, কষ্টও করতে হবে'

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫

'চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে, কষ্টও করতে হবে'

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০২, ২০১৮

print
'চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে, কষ্টও করতে হবে'

চ্যাম্পিয়ন শব্দের সমার্থক শব্দই যেন এখন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের যেখানেই হাত দেন সোনা হয়ে ফলে সব। সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আরও একটি শিরোপায় হাত দিয়ে রাখলেন আবাহনী লিমিটেডের এই চালিকাশক্তি। শেষ ম্যাচে অবিশ্বাস্য কিছু না হলে চ্যাম্পিয়ন হবে তারই দল। আর এমন দিনে নিজেও গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। লিস্ট 'এ' ক্রিকেট হওয়ার পর প্রিমিয়ার লিগের সর্বাধিক উইকেট শিকারি এখন মাশরাফী। ৩৮টি উইকেট পেয়েছেন এর মধ্যেই। এখন বাকি ১টি ম্যাচ। এমন মাইলফলকের দিনে গণমাধ্যমের সঙ্গে মন খুলেই কথা বললেন অধিনায়ক। তার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো পরিবর্তন ডট কমের পাঠকদের জন্য-

 -লিস্ট ‘এ’ তে এই বয়সে এসে এমন একটা রেকর্ড গড়লেন, এই বয়সে অনুপ্রেরণা পান কোথা থেকে?

মাশরাফী : লিগের শুরুতে জানতাম এ মৌসুমে পুরোটা খেলার সুযোগ আছে। যেহেতু টি-টোয়েন্টি খেলছি না। নিদাহাস ট্রফিতে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। মাইন্ড সেটটা ওইরকম ছিল না, তবে প্রস্তুতি যেন ঠিকঠাক হয় পরের ওয়ানডে সিরিজ আসার আগে। এই লিগ তাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখনো পর্যন্ত সব ভালো যাচ্ছে। শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে।

-দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা কাজে দিয়েছে কতটা?

মাশরাফী : না, যদি আমার খেলার কথা বলেন, অন ফিল্ডে আমার পারফরম্যান্সের কথা বলেন, সে জায়গায় পার্থক্য তৈরি হয়নি। একটা পার্থক্য তৈরি হয়েছে ম্যানেজিং পাওয়ারটা। ম্যানেজিং পাওয়ারটা মাঠের বাইরেও হতে পারে। জিম, রানিং হতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে হবে। এটা অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে হবে। আপনি যখন দীর্ঘদিন খেলবেন, আপনাকে অন ফিল্ডে সেটা সহায়তা করবে।

-এবারের আসরে তো পুরোটাই খেললেন, খুব কাছ থেকেই দেখেছেন পেসারদের। আপনার দৃষ্টিতে কে কে নজর কেড়েছে এবার?

মাশরাফী : এ বছর বেশ কজন ভালো খেলেছে। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকা আপনারা দেখেছেন, বলেছেন। ওখান থেকে জানা যায়। শীর্ষ তালিকার পাঁচ–ছয়জনের মধ্যে চারজন ফাস্ট বোলার আছে। এটা ভালো সাইন আমাদের জন্য। এদের মেইনটেইন করতে হবে, এদের তৈরি করে রাখতে হবে। ফরহাদ রেজা বাদে বেশিরভাগ বোলার কিন্তু তরুণ। উইকেট অনেক ফ্ল্যাট ছিল, ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব সহায়ক ছিল। এ ধরনের উইকেট পেস বোলারদের অনুশীলনের জন্য ভালো। যদি বাইরের টুর্নামেন্টে বা যদি বিশ্বকাপের দিকে তাকান, ফ্ল্যাট উইকেট বোলিং করতে হবে। সে জায়গা থেকে বলব পেস বোলারদের এই পারফরম্যান্স ইতিবাচক। এটা ধরে রাখতে হবে।

-কয়েকটা নাম উল্লেখ করা যায়?

মাশরাফী : এই মুহূর্তে মোস্তাফিজ–তাসকিন তো আছেই। কাজী অনিক ভালো বল করেছে। আরও কিছু অনূর্ধ্ব–১৯ দলের ফাস্ট বোলার আছে। প্রাইম দোলেশ্বরের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে দেখলাম শাকিল নামের একজন বোলার ছিল, প্রথম বিভাগ থেকে এসেছে। এরা ইন–আউট ভালো করেছে। এদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে ভালো প্রস্তুতির মধ্যে রাখতে পারলে নিকট ভবিষ্যতে ভালো করবে।

-আপনি এ বয়সে এসেও এখনও শতভাগ দিয়ে খেলেন। কিন্তু এখনকার তরুণদের মধ্যে ক্ষুধাটা কম...।

মাশরাফী : প্রতিটা খেলোয়াড় চায় তার দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে। আমি যেটা বললাম, উইকেট অনেক বেশি ভালো ছিল। আমার মনে হয় নেতিবাচক দিক না নিয়ে ইতিবাচক দিক দিয়ে ভাবা উচিত। বিশেষ করে তরুণদের পজিটিভ দিকগুলো তুলে ধরা উচিত। ভুল তো আমরা সিনিয়ররাও করি। ওদের ভুলগুলো না তুলে ইতিবাচক দিক তুলে সেভাবে তাদের গাইড করা উচিত। যেন দুই তিন চার পাঁচ বছর পর তারা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ফুল সার্ভিস দিতে পারে। শুধু এরকম না 'আসলাম আর গেলাম'। যেন ধারাবাহিকভাবে সার্ভিস দিতে পারে।

-আজকের ম্যাচটা নিয়ে কিছু বলবেন? এমন দাপুটে জয় পেলেন...।

মাশরাফী : আমরা খবই বাজে অবস্থা পড়ে গিয়েছিলাম। মিরাজের দারুণ ইনিংস আমাদের বাঁচিয়েছে। শান্ত ভালো ব্যাটিং করেছে। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা সেট হয়ে আউট হয়ে যাচ্ছি, বড় ইনিংস খেলতে পারছে না। তারপরও দুই -তিনজন আছে তারা ৬০০র মতো রান করেছে। আমি বিশ্বাস করি, তাদের ৭৫০-৮০০ রান করা উচিত ছিল। যেটা আমরা পারিনি। একারণেই আমাদের চ্যাম্পিয়নশিপ আরও আগে নিশ্চিত হওয়া ছিল। আমাদের ড্রেসিংরুমে ওরকম খেলোয়াড় ছিল। আমি তারপরও বলব, ওরা এখন পর্যন্ত সেখন পর্যন্ত যে প্রত্যাশা ওভাবে পূরণ না হলেও গড় খুব একটা খারাপ না। একটা ম্যাচ বাকি আছে, ওটায় হার-জিতের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমাদের ওই ম্যাচ নিয়ে ফোকাসড থাকা উচিত। 

-আপনি যেখানেই যান দল চ্যাম্পিয়ন হয়, এর রহস্য যদি বলতেন।

মাশরাফী : পরিশ্রম তো করতেই হবে। আমি ভাগ্যে অনেক বিশ্বাসী, এটাও গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে। সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম ট্রাই নেশনে চ্যাম্পিয়ন হলে। তারপরও একটার পর একটা সিরিজ আসবে। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কষ্টও করতে হবে। যতদিন খেলব। তারপর কিছু পেলে তো ভালোই লাগে। সেটা হলে ভালো লাগে, না হলেও পরের দিনে আবার উঠে একই কাজ করতে হয়। ওটা ধরে চলা খুব কঠিন।

-সামনে বিসিএল আছে। সেখানে খেলবেন?

মাশরাফী : আমি নিশ্চিত নই এখনো। একটা ম্যাচ বিশ্রাম নিতে পারি, এরপর দেখব

-ক্যারিয়ারের এ সময়ে এসে আসলে খেলাটা কতটা উপভোগ করছেন?

মাশরাফী : আমার জন্য ভালো সুযোগ ছিল নিজেকে প্রকাশ করার। আমি যেটা চেয়েছিলাম সেটা করতে পেরেছি। অনেক কিছুই আমি নতুন করে করতে পেরেছি লিগে, যেটা আমার হচ্ছে। যেটা হয়তো প্রত্যাশা করিনি, শুরুতে ফার্স্ট ক্লাসের জন্য জন্য বিশ্রাম নেব কি না। কিন্তু আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেই ঝুঁকিটা নেওয়া কাজে এসেছে। আন্তর্জাতিক কোয়ালিটির মতো না হলেও আমার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কাজে এসেছে। যেটা হয়তো অফ সিজনে অনুশীলনে কোচদের সাথে আলোচনা করে জিনিসটা বিল্ড আপ করা যায় কি না, যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও কাজে লাগাতে পারি। আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য ছিল আমি যেন ভালো অবস্থায় থাকি, প্রস্তুতি যেন ভালো থাকে। উইকেটের ব্যাপার না আসলে। যেটা আমার ফোকাস ছিল আমি এখন পর্যন্ত সেটা পেরেছি, এটাই বড় ব্যাপার।

আরটি/ক্যাট

 
.



আলোচিত সংবাদ