স্মিথ-ওয়ার্নারের জন্য যে কারণে জাভেদের সমবেদনা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫

স্মিথ-ওয়ার্নারের জন্য যে কারণে জাভেদের সমবেদনা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০১৮

print
স্মিথ-ওয়ার্নারের জন্য যে কারণে জাভেদের সমবেদনা

বল ট্যাম্পারিংকাণ্ডে স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, ক্যামেরন ব্যানক্রফটদের শাস্তি কি কম হলো না বেশি? আইসিসি স্মিথকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও সঙ্গে ম্যাচ ফির শতভাগ জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছে। ওয়ার্নারের বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণ পায়নি। ব্যানক্রফট নিজ হাতে কাণ্ডটি করলেও শাস্তি পেয়েছেন কম। তাকে করা হয় ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা, সঙ্গে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বুধবার এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে। ব্যানক্রফকে নয় মাসের জন্য। বল ট্যাম্পারিংকাণ্ডে জড়িয়ে এমন শাস্তির নজির আগে কখনো ছিল না। তবে এমনও তো শোনা যাচ্ছিল আজীবনও নাকি নিষদ্ধ হতে পারেন স্মিথ-ওয়ার্নার। সময়ের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড়ের এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়াও তো কম নয়। বাংলাদেশর সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিমের মনে একদিক থেকে স্মিথ-ওয়ার্নারদের জন্য থাকছে সমবেদনা।

ক্রিকেটে যুগ যুগ ধরেই হয়ে আসছে ট্যাম্পারিং ঘটনা। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, মাইক অ্যাথারটনদের বিরুদ্ধে ট্যাম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি শচীন টেন্ডুলকারও এমন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। বুধবার স্মিথ-ওয়ার্নারদের শাস্তির খবর সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসার পর পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে আলাপে যোগ দেন বাংলাদেশের সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর। এসময় তার ব্যাখ্যায় বলেন, ‘অন্যায় অন্যায়ই। এর আগে এ ধরনের অন্যায় অনেক হয়েছে। যার জন্য খুব অল্প শাস্তি হয়েছে। স্মিথ-ওয়ার্নারদের এতো বেশি শাস্তি হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। অন্যতম হলো- অস্ট্রেলিয়া সবাইকে প্রচুর নাড়ে। স্মিথ অবশ্যই বাজে কাজ করছে। তবে আরো বেশি আলোড়িত হয়েছে এজন্য যে সে অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়। অস্ট্রেলিয়া সব সময়ই সবাইকে নাড়ে। সেটা খেলা দিয়ে হোক, মুখ দিয়ে হোক। অফ দ্য ফিল্ড তারা খুব ভালো।’

এরপর জাভেদ বলেছেন কেন তার মনে হচ্ছে শাস্তিটা একটু বেশি হয়ে গেছে, ‘এটা হয়তো অনেকে ভালোভাবে নেবে না। তবে অতীতে অনেকে অল্পতে পার পেয়েছে। আগেও এটা অনেক হয়েছে। ক্যামেরা এতো আপডেট ছিল না বলে হয়তো ধরা পড়েনি। টেন্ডুলকারের মতো খেলোয়াড় যার নামের সঙ্গে কোনো কলঙ্ক নেই তাকেও এমন কান্ডে জড়াতে দেখা গেছে। এটা খেলার একটা পার্ট। হয়তো মানুষের সেন্স তখন সেভাবে কাজ করে না। তবে স্মিথ অনেক বেশি শাস্তি পেয়েছে।’ জাভেদ যোগ করে বলেন, ‘ওরা দুজন গ্রেট খেলোয়াড়...। ওয়ার্নার-স্মিথের যে শাস্তি হয়েছে এর জন্য ওদের প্রতি আমার সমবেদনা আছে। তবে আমার মনে হয় পরবর্তীতে আর কেউ এমন কিছু করার সাহস পাবে না।’

স্মিথ-ওয়ার্নারদের এমন শাস্তি যে আগামী দিনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে সেটিই বলছেন জাভেদ, ‘পরবর্তীতে মনে হয় না কোনো খেলোয়াড় এভাবে ট্যাম্পারিংয়ে জড়াতে সাহস পাবে। এবার যেভাবে আলোচিত হয়েছে সেটা যে কোনো সময়ের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। স্মিথ আর ওয়ার্নার অস্ট্রেলিয়া দলে না থাকা মানে দল অর্ধেক কাবু হয়ে যাওয়া। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড সেখানে বড় উদাহরণ দাঁড় করিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড সবাইকে বার্তা দিয়েছে কেউ ডিসিপ্লিন বা ফেয়ার প্লের উর্ধে না।’

স্মিথের প্রতি সমবেদনার কথা বলছিলেন জাভেদ। কেন? আরেকটু পরিষ্কার করলেন জাভেদ নিজেই, ‘এখন এতো কিছু ব্যাটসম্যানদের পক্ষে...। একটা বাউন্সারের বেশি মারা যাবে না। উইকেটে রান লাগবে, ঘাস থাকলে হবে না। কত কিছু...সবই আসলে ব্যাটসম্যানের। বোলারদেরকে এই বল মেইন্টেন করার বেলায় যা টেকনিক্যালি না করলেই না, সেগুলোতে ছাড় দেওয়া উচিত। আর স্মিথ যেটা করেছে তার জন্য সমবেদনা এই জন্য যে- এরকম অনেকেই অন্যায় করেছে আগে। সে এতো বড় খেলোয়াড় বলে এতো বেশি চোখে পড়ছে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড যে শাস্তি দিয়েছে এটা বাংলাদেশসহ সবার জন্য ম্যাসেজ হয়েই থাকবে।’

টিএআর/ক্যাট

 
.



আলোচিত সংবাদ