কি ঘটেছিল মাঠে?

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

নিদাহাস ট্রফি- ২০১৮

কি ঘটেছিল মাঠে?

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৮

কি ঘটেছিল মাঠে?

২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানের জন্য জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতের কাছে হেরেছে মাত্র ১ রানে। তবে নিদাহাস ট্রফির সেমি ফাইনাল হয়ে ওঠা ম্যাচে দলটিকে এমন পরাজয় ভাগ্য বরণ করতে হয়নি। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ১ বল ও দুই উইকেট হাতে রেখে বাংলাদেশ পেরিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার দেয়া ১৬০ রানের লক্ষ্য। নিশ্চিত করেছে ফাইনালে খেলা। নিশ্চিতভাবেই এই ম্যাচ দুই দলেরই স্নায়ুর পরীক্ষা নিয়েছে। দু'দলের খেলোয়াড়রাই মেজাজ হারিয়ে প্রমাণ দিয়েছেন চাপের। দেখে আসা যাক ম্যাচের শেষ ওভারে এবং ম্যাচ শেষে দু'দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আসলে কি হয়েছিল।

সবকিছুর সূত্রপাত লঙ্কান পেসার ইসুরু উদানার করা শেষ ওভারে। বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। হাতে ৩ উইকেট। কিন্তু সেট ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে। প্রথম বলটি বাউন্সার দিয়েছিলেন উদানা। পরেরটিও। মোস্তাফিজুর রহমান রান আউট হলেও স্ট্রাইক দেন মাহমুদউল্লাহকে। এক ওভারে দুইটি বাউন্সার দেওয়ায় নো বলসহ একটি ফ্রি-হিট পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। লেগ আম্পায়ার নো বল ডেকেছিলেনও। কিন্তু পরে মূল আম্পায়ারের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। ঝামেলার শুরু হয় এখানেই।

এরপর মাহমুদউল্লাহ যখন আম্পায়ারের সাথে এ নিয়ে তর্ক করছিলেন সেসময় পানীয় নিয়ে মাঠে আসেন বাংলাদেশের একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড়। তিনিও লঙ্কান ক্রিকেটারদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। শ্রীলঙ্কা দলের একজন তাকে ধাক্কা দেন। এরপরই বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নিচে নেমে আসেন। বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি রিজার্ভ আম্পায়ার লিন্ডন হ্যানিবালের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। নো-বল না দেওয়া ও ধাক্কা দেয়ার ঘটনার কারণে সাকিব মাঠ থেকে দুই ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল হোসেনকে উঠে আসতে বলেন। পরে দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন তাদের ফিরে যেতে বলেন। সাকিব চলে যান ড্রেসিংরুমে। এরপরই ইতিহাস। ৪ বলে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। মাহমুদউল্লাহ একটি চার, একটি ডাবল ও এক ছয়ে তিন বলেই প্রয়োজনীয় রান তুলে দলকে জেতান।

জয়ের পর পুরো বাংলাদেশ দলই মাঠে ঢুকে পড়ে এবং এর মধ্যেই বিখ্যাত হয়ে যাওয়া 'নাগিন' ড্যান্স দিয়ে জয় উদযাপন করে। এসময় আরেক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় দু'দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে। শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিসকে দেখা যায় বাংলাদেশ দলের কারো উদ্দেশ্যে চিৎকার করতে এবং আগ্রাসী ভঙ্গিতে সেই খেলোয়াড়ের দিকে এগিয়ে যেতে। বাংলদেশের কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় এবং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। তামিম ইকবাল মেন্ডিসকে শান্ত করে তাকে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহকে দেখা যায় নুরুল হাসান সোহানকে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে শাসন করতে।

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এসে সাকিব স্বীকার করেন যে নো বলের ঘটনাই তাদের উত্তেজিত করে দিয়েছিল। তাছাড়া নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দুঃখও প্রকাশ করেন এই অল রাউন্ডার। তাছাড়া দুই দলের খেলোয়াড়দের বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ টেনে বলেন মাঠের ব্যাপার মাঠেই শেষ হওয়ার কথাও।

সূত্র : ক্রিকইনফো।

এসএম/ক্যাট