মাশরাফীর উইকেটটাই টিনএজার ইয়াসিনের জন্য অন্যরকম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০১৮

মাশরাফীর উইকেটটাই টিনএজার ইয়াসিনের জন্য অন্যরকম

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:২২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮

মাশরাফীর উইকেটটাই টিনএজার ইয়াসিনের জন্য অন্যরকম

চলছে নিদাহাস ট্রফি। যে কারণে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নেই। তাই বলে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের উত্তেজনা এতটুকু কমেনি। বরং দশম রাউন্ডে এসে লড়াই পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। একক প্রাধান্য বিস্তার করে এগিয়ে চলা আবাহনী লিমিটেড বুধবার পেয়েছে তৃতীয় হারের স্বাদ। পয়েন্ট টেবিল এখন আর তাদের একক প্রাধান্যের কথা বলে না। আর তাদের হারিয়ে দেওয়া দলটি টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, যারা কিনা এক পর্যায়ে পড়ে গিয়েছিল রেলিগেশন এড়ানোর শঙ্কায়। এদিন আবাহনীর বিপক্ষে গাজীর জয়ের নায়ক ১৯ বছর বয়সী ইয়াসিন আরাফাত। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দেশের পক্ষে যিনি গড়লেন ইতিহাস। ফতুল্লায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে পেলেন ৮ উইকেট।

বিপিএলের সৌজন্যে ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেক ক্রিকেটারের নামই এখন সাধারণ দর্শকদের জানা। ইয়াসিন নামটা শুনে সবার একটু অন্য রকম আগ্রহই জাগার কথা। নামটা যে একেবারের অপরিচিত। অবশ্য সেটিই স্বাভাবিক। দুই বছর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হলেও খেলেছেন মাত্র ৩ ম্যাচ। বুধবারের আগে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞতাও ছিল মাত্র ২টি। বিপিএল তো খেলাই হয়নি কখনো। অথচ সেই ইয়াসিনই ৮ উইকেট পেলেন আবাহনীর বিপক্ষে, ৪০ রানে। সব মিলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে একাদশ বোলার হিসেবে এই কীর্তি তার। ঢাকা লিগের ইতিহাসেও এটা সেরা বোলিং।

এদিন ইয়াসিনের বোলিং ফিগার ৮.১-১-৪০-৮। এর আগে লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার ছিল আব্দুর রাজ্জাকের। ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি ১৭ রানে। এদিন নিজের গড়া কীর্তিকে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলেছেন ইয়াসিন, ‘বোলিং ভাল হচ্ছিল। উইকেট পাচ্ছিলাম। ৮ উইকেট পেয়ে যাবো ভাবিনি। যখন ৬টা পেলাম মনে হল শেষের উইকেটগুলো নেয়া যায় কিনা। হয়ে গেছে তাই ভাল লাগছে। এটা আমার জন্য অনেক বড় অর্জন।’

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে পেসারদের দাপট খুব বেশি দেখা যায় না। ইয়াসিন ৮ উইকেটের কীর্তি গড়ে তাই বিস্ময়েরই জন্ম দিয়েছেন। তার দাবি, ঘরোয়া ক্রিকেটে ফতুল্লার মতো উইকেটই যেন দেওয়া হয় সবসময়, ‘উইকেটে কিছুটা ঘাস ছিল। আমি সুবিধাটা কাজে লাগিয়েছে। সামনে বল করে ব্যাটসম্যানকে ড্রাইভ খেলিয়েছি। যে বলগুলো পেছনে করেছি সেগুলো ভাল হয়নি। যেগুলো সামনে খেলাতে চেষ্টা করেছি ব্যাটসম্যান ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে, গালিতে ও উইকটেরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়েছে। এমন উইকেট যদি আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটে পাই পেস বোলাররা সবসময় রাজত্ব করবে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের মান আরও উন্নত হবে।’

ইয়াসিন এদিন আউট করেছেন সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, মনন শর্মা, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, সানজামুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম সবুজকে। এদিন মাশরাফী ছিলেন তার পঞ্চম শিকার। ইয়াসিন জানান ‘মাশরাফী ভাইয়ের উইকেটটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি জুটি গড়ে ফেলেছিললেন। তাকে ফেরানোর পরই টানা উইকেট পেয়ে গেছি।’

টিএআর/ক্যাট