সুপার লিগে খেলার আশাও ছেড়ে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নরা!

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

সুপার লিগে খেলার আশাও ছেড়ে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নরা!

রামিন তালুকদার ৭:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৬, ২০১৮

সুপার লিগে খেলার আশাও ছেড়ে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নরা!

গত আসরের কথা। প্রিমিয়ার লিগের শুরু থেকেই একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে শেষে চ্যাম্পিয়ন হলো গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। যদিও শেষ দিকে সমীকরণ কঠিন করে দিয়েছিল আবাহনী লিমিটেড ও প্রাইম দোলেশ্বর। তারপরও চ্যাম্পিয়ন গাজী গ্রুপই। সবাই ভেবেছিল যেমন হয় আর কি, এবার শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে দলটি। কিন্তু দলগঠন থেকেই পিছিয়ে তারা। আসরের শুরু থেকেই ভিন্ন চেহারা চ্যাম্পিয়নদের। হারতে হারতে পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই ছিল তারা। তবে মঙ্গলবার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় পেয়েছে গাজী। ১৩৭ রানের সাদামাটা পুঁজি নিয়েও জয় ২৯ রানের। এমন জয়ের পর মোমেন্টাম ফিরে পাবেন আশা করছেন দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। কিন্তু তারপরও শিরোপা ধরে রাখা তো দূরের কথা, সুপার লিগ খেলার আশাই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

আর ছাড়বেনই বা না কেন? লিগের শেষ ৩টি ম্যাচে জিতলেও নিশ্চিত নয় সুপার লিগ। তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলগুলোর ফলাফলের উপর। যেখানে ভাগ্যই রাখবে মূল ভূমিকা। তাই সুপার লিগের স্বপ্ন ছেড়ে এখন পরের ম্যাচেই চোখ দিচ্ছেন সালাহউদ্দিন। কারণ, এখনও তারা অবস্থান করছেন তালিকার ১০তম অবস্থানে। পয়েন্ট ৬। তার মানে উন্নতি না করতে পারলে পরের মৌসুমে খেলতে হবে রেলিগেশন লিগ। তাই এখন একটি ম্যাচে পা হড়কালেই কে জানে প্রিমিয়ার লিগ খেলার সুযোগ হারাতে পারে দলটি! তাই রেলিগেশন এড়ানোই যে এখন মূল লক্ষ্য তা পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিলেন সালাহউদ্দিন। কাজটাও বেশ কঠিন। কারণ তাদের শেষ ৩টি ম্যাচ কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। এবারের ঢাকা লিগে ধারাবাহিক পারফর্ম করা আবাহনী, প্রাইম দোলেশ্বর ও প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে খেলাগুলো।

মঙ্গলবার তাই সালাহউদ্দিন নিজের লক্ষ্যের কথাটা জানিয়ে দিলেন স্পষ্ট, 'আমি আসলে সুপার লিগ খেলার স্বপ্ন এখনও দেখি না। আমি চিন্তা করছি পরের ম্যাচটা যেন আমরা ভালো খেলতে পারি। এই জয়টা যেন ধরে রাখতে পারি।' আর জয়ের ধারা ধরে রাখার জ্বালানী মোহামেডানের বিপক্ষে এই জয়ে পেয়েছেন বলেও জানালেন সালাহউদ্দিন, 'বোলাররা আজকে যে বোলিং করেছে এতে আমার মনে হয় ব্যাটসম্যানদেরও অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে যে আমরা যদি ব্যাটসম্যানরা একটু ভালো ব্যাটিং করতে পারি আমাদের বোলাররা ম্যাচ জেতাবে। এটা একটা ভালো দিক। যে কোন দলের বোলিং অ্যাটাক ভালো হলে তাদের দল অটোম্যাটিক ভালো হয়ে যায়। এটা হয়তো আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াবে। '

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়। এমন কি হলো যে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দলটিকে এবার খেলতে হচ্ছে রেলিগেশন এড়ানোর লড়াই মাথায় রেখে? এর জবাব অবশ্য লিগ শুরুর আগেই দিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন। প্লেয়ার্স ড্রাফট পদ্ধতিতে নিজের পছন্দ মতো খেলোয়াড় সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি। তখনই বলে দিয়েছিলেন, তাদের মূল লড়াই রেলিগেশন এড়ানোর।

কিন্তু এতোই দুর্বল তাদের দল যে হারের বৃত্তে থাকবে? যেখানে মুমিনুল হক, জহুরুল ইসলাম অমি, কামরুল ইসলাম রাব্বির মতো ঘরোয়া লিগের নিয়মিত পারফরমারদের সঙ্গে আছেন নাঈম হাসান, মেহেদী হাসানের মতো তরুণ তুর্কিরা। এমন প্রশ্নে দায়টা নিজের কাঁধেই নিলেন সালাহউদ্দিন, 'দল হিসেবে আমরা খুবই বাজে পারফর্ম করেছি। আসলে খেলোয়াড়দের চেয়ে আমার ব্যর্থতাই বেশি। আমি সঠিক কম্বিনেশন বের করতে পারিনি। অথবা আমি খেলোয়াড়দের কাছ সেরা পারফরম্যান্সটা আদায় করতে পারনি। মানে, আমার কোন গলদ থাকার কারণে এটা হচ্ছে। চেষ্টা করবো এখান থেকে কিছু শেখার। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার।'

এখন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ খেলেছে গাজী গ্রুপ। তার মধ্যে প্রায় প্রতি ম্যাচেই দুই-তিন খেলোয়াড় পরিবর্তন হয়েছে একাদশে। লিগ পর্বের শেষ পথে এসেও সঠিক কম্বিনেশন পায়নি দলটি। আর এটাকেই ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ বলছেন সালাহউদ্দিন, 'পুরো টুর্নামেন্টে আমরা খুব বাজে খেলেছি। আসলে পুরো টুর্নামেন্টে কম্বিনেশন করারও সুযোগ আমার ছিলো না। প্রতিদিন হয়তো দুইটা-তিনটা করে খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে হতো। হয়তো অনেকে জাতীয় দলে চলে গেছে, অনেকে ইনজুরি ছিল। আসলে একটা সঠিক কম্বিনেশন পাইনি, এজন্য দলটা একটা ভারসাম্যহীন আবস্থায় ছিল। এখনও মনে করি আমার দল অনেক ভারসাম্যহীন। এখনও অনেকে আসা যাওয়ার মধ্যে আছে। এ কারণে আমি বলবো দলটা একটা ভালো অবস্থানে যায়নি। এ কারণেই আমাদের ফলাফল ভালো হয়নি। যেহেতু দল হারছিল...যে কোন দল হারতে থাকলে মানসিকভাবে তারা পিছিয়ে থাকে। যতই আপনি মোটিভেশনাল কথা বলেন বা অন্য কিছু দেন; কাজ হয় না।'

পয়েন্ট তালিকায় শেষ দুই অবস্থানে আছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ও অগ্রণী ব্যাংক। দুই দলের পয়েন্ট ৪ করে। অর্থাৎ গাজী গ্রুপের ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছে তারা। অগ্রণী ব্যাংকের ম্যাচ আছে ৩টি। প্রতিপক্ষ ব্রাদার্স ইউনিয়ন, প্রাইম দোলেশ্বর ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আর কলাবাগানের ম্যাচ আছে ৪টি। প্রতিপক্ষ ব্রাদার্স ইউনিয়ন, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। অর্থাৎ এবারের লিগের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কিছুটা দুর্বল দলের বিপক্ষে খেলবে দলদুটি। তাই চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি গাজী গ্রুপের জন্য। তবে একদিক থেকে কিছুটা হলেও সুবিধা পাবে তারা। রানরেট বিবেচনায় তাদের উপরে রয়েছে ব্রাদার্স। পয়েন্ট সমান ৬। যদিও তাদের ম্যাচ ১টি বেশি রয়েছে। এছাড়া উপরে থাকা মোহামেডানের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট পার্থক্য মাত্র ১। আর ৩ থেকে ৭ নম্বর অবস্থানে থাকা দল ৫টির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ২। তাই ভাগ্য কিছুটা সহয়তা করলে সুপার লিগেও খেলতে পারে গাজী গ্রুপ।

তাই স্বপ্নটা দেখতেই পারে গাজী গ্রুপ। প্রয়োজন আত্মবিশ্বাসের। তার কিছুটা হলেও মোহামেডানের বিপক্ষে পেয়েছে দলটি। ১৩৭ রানে ২৯ রানের জয়টি মূলত বোলারদের কৃতিত্বেই। 'একটা জয় দরকার ছিল। আর এই ম্যাচ তো আমরা প্রায় হেরেই গিয়েছিলাম। ১৩৭ রান ডিফেন্ড করা এই কন্ডিশনে অনেক কঠিন। ২৪০ রান করার মতো উইকেট ছিল। দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই খারাপ খেলেছে। বোলাররা খুবই ভালো বল করেছে, ভালো কাম ব্যাক করেছে। এবং আমার মনে হয় এতে মোমেন্টাম বদলাতে পারে সামনের ম্যাচ থেকে-' এই আশা নিয়েই শেষ করেন ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশের সফলতম এবং সুপারস্টার কোচ সালাহউদ্দিন।

আরটি/ক্যাট