প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার ভালোবাসাতেই তো শ্রীলঙ্কা জেতে না, বাংলাদেশ পায় জয়ের সমান ড্র’র গৌরব!

ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ ২০১৮

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার ভালোবাসাতেই তো শ্রীলঙ্কা জেতে না, বাংলাদেশ পায় জয়ের সমান ড্র’র গৌরব!

খাইরুল আমিন তুহিন, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম থেকে ৯:৫১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৮

print
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার ভালোবাসাতেই তো শ্রীলঙ্কা জেতে না, বাংলাদেশ পায় জয়ের সমান ড্র’র গৌরব!

শ্রীলঙ্কায় আজ (রোববার, ৪ ফেব্রুয়ারি) প্রাণখোলা উৎসব। এটা তাদের বৃটিশদের শিকল পরানো দাসত্বে দুশো বছরের করুণ ইতিহাস শেষ হওয়ার দিন। ৭০তম স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৮ সালের এই দিনে অর্জিত স্বাধীনতার গৌরব। কলম্বো থেকে সারা দেশে এবং দুনিয়ার যেখানে যতো লঙ্কান তাদের বিশেষ উৎসবের দিন এটি। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে সেই দেশটির উৎসবের জোয়ারে বাড়তি রঙ লাগতে দিল না কিছুতেই, এই চট্টগ্রামে। খানিক সম্ভাবনা জাগিয়েও প্রথম টেস্টের শেষ বিকেলে হাল ছেড়ে ড্র মেনে নেওয়া শ্রীলঙ্কা টেস্ট দলের। এবং সংবাদ সম্মেলনে এসে ওপেনার দিমুথ করুনারত্নেও দেশের মানুষকে বাড়তি উদযাপন উপহার দিতে না পারার হতাশাটা গোপন করেন না মোটে, ‘এটা আমাদের স্বাধীনতা দিবস। তাই (জয়) ওটা পেলে তা সব শ্রীলঙ্কানের জন্য বেশ ভালো ব্যাপার হতো।’ কিন্তু এদিন নিজেদের মাটিতে টাইগারদের অর্জিত বিজয়ের চেয়ে বড় ড্রটা কি আসলে কোনোভাবে বঞ্চিত করেছে ১৮৩২ সালে যে দেশে প্রথম ক্রিকেট ক্লাব হয়েছে সেই দেশের টেস্ট দলটিকে? তাদের চেয়ে কি ক্রিকেট ইতিহাসে যোজন যোজন পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশেরই ‘না হারা’ বেশি সুবিচার নয়? যদি ভাবতে বসা হয় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার ভালোবাসার সুনিপুণ শৃঙ্খলা নিয়ে!

বলতে পারেন এ কেমন প্রশ্ন! জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই তো দেখা মিলল প্রকৃতির কতো খেলা। সেখানে কোথাও খেয়াল, কোথাও তার নিষ্ঠুর প্রতিশোধ আবার পরম ভালোবাসার উপহার দুহাত ভরে দিয়ে দেওয়ার খণ্ড খণ্ড গল্প। যাতে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য এই ভেবে যে আসলে, ‘সত্যি। একেই তো বলে ন্যায্য বিচার।’

এই যে ৮১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা দ্বিতীয় ইনিংসে, শনিবারের শেষ বিকেলে, সেটা তো ভয় ধরিয়েছিল খুব টাইগারপ্রেমীদের হৃদয়ে। আর লঙ্কানরাও আশায় বুক বেঁধেছিল, তখনো যেহেতু ১১৯ রানে এগিয়ে পরের তিন সেশনেই জয় তুলে নেওয়া যেতেই পারে। এমন কতো ঘটনাই তো টেস্ট ইতিহাসের পাতায় পাতায়। যেমন ২০১৬ সালে ঢাকা টেস্টে মাত্র এক সেশনেই প্রবল প্রতিপত্তিময় ইংল্যান্ডকে বাংলাদেশের হারিয়ে দেওয়া কি তেমনই এক জ্বলন্ত উদাহরণ নয়? এখানে সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি, মাহমুদউল্লাহর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নেতৃত্ব পেয়ে যাওয়া সেই সূত্রে এবং প্রথম ইনিংসেই গ্ল্যাডিয়েটরের মতো লড়ার মাঝেই সেইসব কাব্য। একে একে চলে আসেন মুমিনুল হক, লিটন কুমার দাস, চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এবং অবশ্যই প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা দল। পাকিস্তানকে যারা সেদিনও সিরিজ হারাল, ভারতের সাথে দারুণ খেলল কোহলিদের মাটিতে, সেই তাদের কাছ থেকে সব আতঙ্ক জয় করে এভাবে প্রথম টেস্টে ড্র করে ২ টেস্টের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখা!

পিছু ফিরে তাকালে আজ সাকিব আল হাসানের গেল বছরের সেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর মিস করার প্রসঙ্গ আসতে বাধ্য। ছয় মাসের ছুটি চাইলেন দেশের দাসত্ব থেকে এই তিন সংস্করণের বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার ও তখন শুধু টি-টুয়েন্টিতে টাইগারদের অধিনায়ক। সব মেলেনি। সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটে খেলেছেন। কিন্তু প্রোটিয়াদের মাটিতে বিশ্বের সেরা টেস্ট দল ভারতের কি হালই না হল কদিন আগে। সেখানে কিভাবে দলের সেরা খেলোয়াড় হয়েও না যেয়ে পারেন সাকিব?

সেই সাকিব টেস্ট দলেরও নেতৃত্ব পেয়ে যান মুশফিকুর রহীম নেতৃত্ব হারালে। এবং ত্রিদেশীয় সিরিজে দারুণ খেললেন। ফাইনালে গিয়ে এমন ইনজুরি যে ছিটকে পড়লেন এই টেস্ট সিরিজ থেকেই। এখান থেকেই তো দ্বিতীয়বারের মতো দেশের টেস্ট অধিনায়কের মর্যাদা নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল তার!

২০১২ সালে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন তিন সংস্করণেই সহ-অধিনায়ক। মাঝে বাজে পারফরম্যান্সের পর দল থেকে ছিটকে পড়লেও পরে ফিরে আসেন রাজসীকভাবে। সেই তাকেই গেল বছর তখনকার কোচ শ্রীলঙ্কান চন্ডিকা হাথুরুসিংহে টেস্ট দল থেকে বাদ দিয়ে দিলেন! দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে মাহমুদউল্লাহর ফেরার পেছনেও তো প্রকৃতির শূন্যতা পূরণের খেলা। সাকিব নেই। অভিজ্ঞতা লাগবে। হাথুরুকে মেনে নিতে হয় টেস্ট দলে তাকে, যাকেই কিনা ছুড়ে ফেলতে চেয়েছিলেন আস্তাকুড়েতে।

সেই মাহমুদউল্লাহর আগে এই টেস্টেই ছোট্ট মুমিনুল হক কীর্তি গড়ে ফেলেন হাথুরুর দলের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথে ২০১৯ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোচ থাকার চুক্তি ভাঙেন। উল্টো দেশেরই কোচ হয়ে প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট পড়ে এই মাটিতে। সেখানেও প্রথম লড়াইয়ে হাথুরুর ওপর প্রকৃতির শোধটা ছিল বড় নির্মম। রেকর্ড ব্যবধানে তার দলকে প্রথম দেখায় হারিয়েছিল টাইগাররা। উপেক্ষার জবাব!

শেষ পর্যন্ত ওই ফাইনাল জিতলেও মুমিনুলের সাথে প্রতিপক্ষ দলের কোচ-খেলোয়াড়ের লড়াইয়ে হাথুরুর হার। বাংলার ব্র্যাডম্যান বলা হয় যাকে ক্যারিয়ারের শুরুতে ঈর্ষনীয় ৭৫ ছোঁয়া গড় ও সেঞ্চুরির নেশার জন্য সেই তাকে হাথুরু ছিটকে ফেলতে চেয়েছিলেন। মুমিনুল নাকি এটা পারেন না, ওটা পারেন না। যোগফলে সীমিত ওভার শুধু নয়, টেস্ট খেলারও যোগ্য নন! হাথুরুর এই খেলায় ছোট সংস্করণ থেকে ছিটকে পড়েন মুমিনুল। হাথুরুর আমলে করা রানের হিসেবে গড় ৩৩ এর ঘরে। শিল্পী ব্যাটসম্যানকে ব্রাত্য বানিয়ে এক পর্যায়ে টেস্টের দল থেকেও ছুড়ে ফেলেন হাথুরু। আর যাকে ছুড়ে ফেলেছিলেন সেই মুমিনুল হাথুরুর চোখের সামনে তার দলের বিপক্ষেই গড়েন কতো ইতিহাস! প্রথম ইনিংসে ৯৬ বলের সেঞ্চুরি, ১৭৬ রানে থামা। ডাবল সেঞ্চুরি মিসের কষ্ট?

প্রকৃতি আড়ালে হাসেন। মুমিনুল কিংবা এই জাগতিক ভূবনের কেউ কি জানতো পরের ইনিংসে ম্যাচ বাঁচানো একটা সেঞ্চুরি আসবে সেই খুদে ব্যাটারেরই ব্যাট নামের তরবারী থেকে! শ্রীলঙ্কার স্বপ্নভঙ্গ করে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রকৃতি লিটন কুমার দাসের সাথেই মুমিনুলের দেশের ইতিহাসের অন্যতম দামি ১৮০ রানের জুটি গড়িয়ে দেন চতুর্থ উইকেটে। তাতেই না বাংলাদেশের টেস্ট হারের সব শঙ্কা গিয়ে পড়ে বঙ্গোপসাগরে। ১০৫ রানের ইনিংস মুমিনুলের। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক টেস্টে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি। ক্রিকেটের অভিজাত পরিবারের প্রথম দশ দেশের মধ্যে এতদিন শুধু টাইগারদেরই কোনো ব্যাটসম্যানের এক ম্যাচের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল না। আরো রেকর্ড আছে মুমিনুলের ইনিংসটায়। কিন্তু আগের বিশাল সেঞ্চুরিটা তার ফেরার গল্প লিখলেও এই সেঞ্চুরিটাকেই এগিয়ে রাখেন মুমিনুল। কারণ, এটি ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস। সাথে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তো আছেই। প্রকৃতি তো তার জন্য আরো বড় উপহার জমা করে রেখেছিল নিজের কোলে।

যে লিটনকে চেষ্টা করে যাওয়া হচ্ছিল, ভরসা করা যাচ্ছিল না, সেই তিনি এবার এমন এক দিনে নির্ভরতার বিরাট প্রতিক। মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ। কিন্তু প্রবল চাপের দিনে টেস্টে নবীন হয়েও এমন ইনিংস খেলে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ তাকে করে দিয়ে গেছে প্রকৃতি। মুমিনুলের ডাবল সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ যেমন আরেকটি বিস্ময়কর সেঞ্চুরি, আরো মূল্যবান কিছু দিয়ে পূরণ করেছে প্রকৃতি, সেটা তো ৯৬ রানে আউট হওয়া লিটনের জন্য উদাহরণ হতে পারেন।

আসুন মাহমুদউল্লাহতে আবার। ভাগ্যচক্রে আধিনায়ক আবার, ভারপ্রাপ্ত। কিন্তু মুমিনুলের বিশাল সেঞ্চুরির পরও এই মাহমুদউল্লাহর বীরোচিত অপরাজিত ৮৩ রানই তো বাংলাদেশকে দিয়েছিল ৫১৩ রানের সংগ্রহ। লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে এমন কাণ্ড হাথুরুর চোখের সামনে ঘটানো মাহমুদউল্লাহকে দিয়ে করানোর মানে কি? বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের রানটা অতো বড় না হলে তো লঙ্কানদের অতো বড় পাহাড়ে উঠে শেষ পর্যন্ত সময়ের অভাবে ১৭ ওভার হাতে রেখেই ড্র মেনে নিতে হয় না! আবার ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ তো শেষটায় ২৮ রানে মাহমুদউল্লাহকে অপরাজিত রেখে মাঠ ছাড়িয়েছে বিজয়ীর বেশে! এই ড্র তো প্রকৃতির ভারসাম্য বিধানের হিসেবে এবং বাংলাদেশের চোখ দিয়ে দেখতে গেলে জয়েরই সমান! হাথুরু যেখানে পরাজিত তাদের কাছে যাদের এই তিনিই করেছিলেন চরম বঞ্চনা, অবহেলা আর উপেক্ষার শিকার। তাই বলতেই হয়, আসলে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার ভালোবাসাতেই তো শ্রীলঙ্কা জেতে না, বাংলাদেশ পায় জয়ের সমান ড্র’র গৌরব!

তা বৃটিশ রাজরা এই মাটিকেও প্রায় সমান সময় শিকল পড়িয়ে রাখলেও এখানেও এক হিসেবে ২০০ বছরের ক্রিকেট ইতিহাস। কিন্তু সেটাকে লঙ্কানদের মতো করে বলা যায় না। ওই দ্বীপরাষ্ট্রে ১৮০০ থেকে ক্রিকেট খেলার চল। ১৮৩২ এ গিয়ে নিয়মিত ম্যাচ আয়োজনের প্রথা চালু। ক্রিকেট দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা অনেক আগে থেকে। এখনো তো জনপ্রিয়তার চূড়ায়।

১৭৯২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেবদের কলকাতায় ক্রিকেট খেলার ইতিহাস শুরুর কথা জানা গেলেও বাংলাদেশের জন্য ব্যাপারটা ছিল ভিন্ন। নদিমাতৃক দেশ। গাঁও-গ্রাম অধ্যুসিত। বন্ধুর পথ বলে বৃটিশদের আগ্রহটাও তাই ছিল কম। ইতিহাস বলে, ১৮৭৬ এর দিকে সাহেবরা নিজেদের ও এখানকার দল বানিয়ে প্রথম মাঠে নামল একবার। ওই পর্যন্তই।

এই অঞ্চলের মানুষের ক্রিকেটের সাথে সম্পর্কের একটু আধটু বাঁধন তৈরির ইতিহাসও ১৯৩০ এর পরে। আর পাকিস্তান থেকে পরাধীনতার শিকল ভাঙা তো লঙ্কানদের স্বাধীনতা উৎসব শুরুরও ২৩ বছর পর। টেস্টের কুলীন পরিবারে লঙ্কানরা যখন ১৯৮২ তে, বাংলাদেশ ২০০০ সালে। ১৯৯৯ এ যখন বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায় তারো তিন বছর আগে ওয়ানডেতে বিশ্ব শিরোপা জেতার গৌরব শ্রীলঙ্কার! টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টুয়েন্টি বা ফার্স্ট ক্লাস, কোনো দিক দিয়েই তো লঙ্কানদের ইতিহাসের ধারেকাছে নেই বাংলাদেশিরা। অর্জনে তো সেই প্রশ্নই তোলার সুযোগ আসেনি এখনো। কিন্তু নবীনেরই কি এই পৃথিবীর ওপর প্রবীনের চেয়ে বেশি অধিকার নয়? তাও পাওয়ার প্রশ্নে? শ্রীলঙ্কার মাটিতেই গেল বছরের গোড়ায় বাংলাদেশের নিজেদের শততম টেস্টে জয়ের রেকর্ড গড়ে আসা। প্রথমবারের মতো লঙ্কানদের হারানো টেস্টে, একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে। সেখানেও কি এই প্রকৃতির এই ছাড়পত্রের ঘোষণা নয় যে, নতুনেরই পাওয়ার অধিকার বেশি! এই যেমন সেদিন ঢাকাতে ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেওয়াও তো সেই কথার ইঙ্গিত দিয়ে গেছে।

এতকিছুর পরও যদি প্রকৃতির এই ভারসাম্য এবং নবীনকে জায়গা করে দেওয়ার বিষয়টিতে বিশ্বাস না জন্মে তাহলে যে কেউ পড়ে নিতে পারেন সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের ‘ছাড়পত্র’ কবিতাটি। ক্ষণজন্মা অমিত প্রতিভাবান কবি কি বিশাল উচ্চারণেই না গোটা দুনিয়াকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, ‘‘যে শিশু ভূমিষ্ট হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুমঃ

সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,

নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার

জন্মমাত্র সুতীব্র চীৎকারে।

খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত

উত্তোলিত, উদ্ভাসিত

কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।

সে ভাষা বুঝে না কেউ,

কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।

আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা

পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের-

পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ট শিশুর

অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।’’

সুকান্ত তার এই কবিতাতেই কিন্তু পরের দিকে জানিয়ে যাচ্ছেন প্রকৃতির ভারসাম্যের বিধানের কথা। নবীনের বেড়ে ওঠা আরো দৃপ্তপদে, নতুন ভাবনায়, নতুন যুগের সন্ধানে, নতুন বিশ্বের দায়িত্ব নিতে। যেমন শ্রীলঙ্কা সেই ১৯৯৬ সালে গোটা ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপায় চুমু খেয়ে ঘোষণা করেছিল। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ, সব মিলে চারবার এশিয়া কাপ জয়ের ইতিহাস। বাংলাদেশও তো এখন ধারাবাহিকভাবে ওয়ানডের পর টেস্টে দিচ্ছে চমক। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার মতো দলকে এই সময়ে হারিয়ে দেওয়া তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। সেইসব হিসেব কষে এই সিদ্ধান্তে তো পৌঁছানোই যায় যে এসব ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বকে শাসন করারই এক আগাম বার্তা। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার ভালোবাসার চিরায়ত নিয়মেরই ফল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাগরিকার এই জয়ের সমান কিংবা কারো চোখে জয়ের চেয়ে বড় লড়াকু ড্র সেই ওই নিয়ম রক্ষার কথাই কি বলছে না!

ক্যাট

 
.


আলোচিত সংবাদ