শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকাটাই ছিল বেশি তৃপ্তিদায়ক: সাকিব

ঢাকা, ২১ মে, ২০১৯ | 2 0 1

শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকাটাই ছিল বেশি তৃপ্তিদায়ক: সাকিব

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৯

শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকাটাই ছিল বেশি তৃপ্তিদায়ক: সাকিব

ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় (টানা দুই ম্যাচে) সেঞ্চুরি করেছেন। ৯৯ বলে অপরাজিত ১২৪ রানের ইনিংস খেলে দেশকে এনে দিয়েছেন সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিঁইয়ে রাখা জয়। ক্যারিয়ারে ২০ বারের মতো পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।

এই এক ইনিংসেই গড়েছেন এত্তোগুলো রেকর্ড-মাইলফলক। সোমবার টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটিতে সাকিব আল হাসানের অর্জন-প্রাপ্তির শেষ নেই।

এই যে এত্তো এত্তো অর্জন-প্রাপ্তি, এর মধ্যে কোন প্রাপ্তিটিতে বেশি খুশি সাকিব আল হাসান? উপরে উল্লেখিত প্রাপ্তির একটিতেও নয়!

সাকিব নিজেই শুনিয়েছেন এই বিস্ময়ের কথা। উপরে প্রাপ্তি-অর্জনের ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে, তার একটির নামও বলেননি সাকিব। ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি বা তৃপ্তির কথা বলতে সাকিব অন্য একটি বিষয় সামনে এনেছেন। সেটি কি? শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকতে পারা!

মানে শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারাটাই বেশি স্বস্তি দিয়েছে সাকিবকে। এমন অসাধারণ একটা জয়ের পর আপনার কেমন লাগছে, উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের উত্তরে সাকিব হাসিমুখেই বলেছেন, ‌অনুভূতিটা অসাধারণ। উইকেটে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাটাই সবচেয়ে বেশি তৃপ্তিদায়ক। আমি আমার ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেছি এবং তার ফলও পাচ্ছি।’

ক্যারিয়ারে সাকিব সবচেয়ে বেশি ব্যাট করেছেন ৫ নম্বরে। ব্যাট করেছেন ৪ এবং ৬ নম্বরেও। তবে এই বিশ্বকাপে তিনি ৩ নম্বরে ব্যাট করছেন। ব্যাটিং লাইনআপে ৩ নম্বর পজিশনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যিনি ব্যাট করেন, তাকে পুরো দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হয়। ওপেনাররা ব্যর্থ হলে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার গুরুদায়িত্ব তুলে নিতে হয় কাঁধে।

পাশাপাশি দলকে বড় সংগ্রহের ভিত্তিটা গড়ে দিতে। কখনো কখনো দলকে টেনে নিতে হয় একাই। গুরুত্বপূর্ণ এই পজিশনে ব্যাট করবেন, এটা তিনি নিজেই চেয়ে নিয়েছেন।

বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টও সাকিবের ওপর আস্থা রেখে তাকে ৩ নম্বরেই খেলাচ্ছে। সাকিবও চেয়ে নেয়া পজিশনে নিজের কাজটা করছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। ৩ নম্বরে ব্যাট করে বিশ্বকাপে প্রথম ৪ ম্যাচেই খেলেছেন পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কীর্তি আছে আর শুধু ৩ জনের। ভারতের সাবেক দুই ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিং সিধু (১৯৮৭ বিশ্বকাপে), শচীন টেন্ডুলকার (১৯৯৬ বিশ্বকাপে) ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের (২০০৭ বিশ্বকাপে)।

৪ ম্যাচেই বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার সাকিব। কালতো দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে মাঠে নামেন ৫২ রানে ১ উইকেট হারানোর পর। জয়ের জন্য তখনো দরকার ছিল ২৭০ রান। ওভার বাকি ছিল ৪১.৪টি। হাতে উইকেট ছিল ৯টি।

উইকেট যতই থাক, ৪১.৪ ওভারে ২৭০ রান করা মুখের কথা নয়। সেটিও বিশ্বকাপের ম্যাচে। কিন্তু, ব্যাটের অবিশ্বাস্য ম্যাজিকে কঠিন সেই সমীকরণ ৮.৩ ওভার বাকি থাকতেই মিলিয়ে দিয়েছেন সাকিব। মানে মাত্র ৩৩.১ ওভারেই দলকে এনে দিয়েছেন প্রয়োজনীয় ২৭০ রান।

এতে তামিম ইকবাল এবং লিটন দাসের অবদানও অনেক।  বিশেষ করে লিটন দাসের কথা বলতে হয়। যিনি মাত্র ৬৯ বলে খেলেছেন অপরাজিত ৯৪ রানের অসাধারণ ইনিংস। কিন্তু, তার সেই ইনিংসটিও ঢাকা পড়ে গেছে সাকিবের ব্যাটের রোসনাইয়ের কাছে।

সাকিবের ব্যাট থেকে ছিটকে বের হওয়া ‌’জিতবই’ আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়াতেই দুর্দমনীয় হয়ে উঠেছিলেন লিটন! দরকার ছিল উইকেটে টিকে থেকে ঝড়োগতিতে রান তোলা।  সাকিবের ব্যাট কাল চাহিদার চেয়েও বেশি সচল ছিল। দলের জয় প্রয়োজন মেটাতে শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকতে পেরেছেন, রেকর্ড-মাইলফলক, ম্যাচসেরার পুরস্কারের চেয়ে তাই এটাই বেশি তৃপ্তি দিয়েছে সাকিবকে।

সেই তৃপ্তির ঢেঁকুর নিয়েই ৩ নম্বরে ব্যাট করা প্রসঙ্গে বললেন, ‌’আমি জানি আমি যদি ৩ নম্বরে ব্যাট করি, তাহলে রান করার বেশি সুযোগ পাব, বেশি সময় পাব। আমি যখন ৫ নম্বরে ব্যাটি করেছি, দেখেছি আমাকে ৩০ কিংবা ৪০ ওভারের সময় নামতে হয়। সেক্ষেত্রে রান করার তেমন সুযোগ থাকে না। তাই আমি মনে করি, ‌ওটা (৫ নম্বর পজিশন) আমার জন্য আদর্শ জায়গা নয়।’

ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করার আগে কাল সাকিব বল হাতেও নিয়েছেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। নিজের বোলিং নিয়েও কথা বলেছেন সাকিব,‌’ আমি আমার বোলিং নিয়ে কাজ করছি। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমি আমার কাজটা ঠিকঠাকভাবেই করছি। তবে আমার আরও ভালো করার সুযোগ আছে।’

ইংল্যান্ডে প্রতিটা ম্যাচেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা গ্যালারিতে হাজির হয়ে প্রিয় দলকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যপট দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ যেন নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছে।

গ্যালারিভর্তি প্রবাসী দর্শকদেরও প্রশংসা করেছেন সাকিব, ‘‌এই বিশ্বকাপে দর্শকরা আমাদের চমৎকারভাবে সমর্থন দিচ্ছে। আশা করি, পুরো টুর্নামেন্টেই তারা আমাদের এমন সমর্থন দিয়ে যাবে।’

কেআর

 

ইতিহাস: আরও পড়ুন

আরও