সর্বজয়ী অস্ট্রেলিয়ার আমেরিকা জয়

ঢাকা, ২১ মে, ২০১৯ | 2 0 1

ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা— ৯

সর্বজয়ী অস্ট্রেলিয়ার আমেরিকা জয়

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০১ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৯

সর্বজয়ী অস্ট্রেলিয়ার আমেরিকা জয়

ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার স্বর্ণযুগের সূচনা ঘটে স্টিভ ওয়াহর হাত ধরে। ১৯৯৯ সালে তার নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে তারা। পরের আসরেও ওয়াহর সেই বিজর-রথ অব্যাহত থাকে, তবে নতুন নেতৃত্বে। রিকি পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বে ২০০৩ সালে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এবং নিজেদের ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে অস্ট্রেলিয়া।

২০০৭ সালে বিশ্বকাপের আয়োজন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজন করে ক্যারিবীয়ান অঞ্চলের বোর্ডটি। ক্রিকেটে তখনো চলছি অস্ট্রেলিয়ার নিরঙ্কুশ আধিপত্য। পন্টিংয়ের নেতৃত্বে হারতে ভুলে গেছে দলটি।

সেটি ছিল বিশ্বকাপের নবম আসর। ওই আসরেও ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া। এই আসরে অংশ নেয় ১৬টি দল। এত বেশি দল এর আগে কখনো অংশ নেয়নি। ১০টি সদস্য দেশ ছাড়াও ক্যারিবীয়ান বিশ্বকাপে যোগ দেয় ৬টি সহযোগী রাষ্ট্র।

এর আগের ৮টি আসরে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলেছিল দলগুলো। এই আসরেই প্রথম ৪টি গ্রুপে ভাগ করা হয় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে। ‘এ’ গ্রুপে ছিল অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও বারমুডা। ‘সি’ গ্রুপে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, কেনিয়া ও কানাডা। আর ‘ডি’ গ্রুপে ছিল পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড।

গ্রুপপর্ব শেষে সুপার এইটে ওঠে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড। এই পর্বের শীর্ষ চার দল অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা চলে যায় সেমি ফাইনালে। এই পর্ব থেকেই বিদায় নেয় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিদায় নেয় বাংলাদেশও।

প্রথম সেমি ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে শ্রীলঙ্কা। আর দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। আর সব মিলিয়ে এটা তাদের ষষ্ঠ ফাইনাল। শ্রীলঙ্কার জন্য ছিল দ্বিতীয় ফাইনাল।

বারবাডোজের ব্রিজটাউন ২৮ এপ্রিল ফাইনালে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি ম্যাচ। ফলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনার ৩৮ ওভারে (প্রতি ইনিংস)।

টস জিতে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৩৮ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮১ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। টানা তিন আসরের ফাইনাল খেলা গিলক্রিস্ট ১০৪ বলে করেন ১৪৯ রান। ৮টি ছক্কা ও ১৩টি চারে সাজানো ছিল তার দ্যুতিময় ইনিংসটি। এছাড়া ম্যাথু হেডেইন ৩৮, পন্টিং ৩৭ ও অ্যান্ড্রু সাইমন্ড অপরাজিত ২৩* রান করেন।

জবাবে শ্রীলঙ্কাও ভালো শুরু পায়। ৯৯ বলে ১ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তুলে ফেলে তারা। দারুণ ছন্দে ব্যাট করছিলেন সনৎ জয়াসুরিয়া ও কুমার সাঙ্গাকারা।

লঙ্কান ইনিংসের ২৪.৫ ওভারের সময় আবার হানা দেয় বৃষ্টি। ততক্ষণে অবশ্য বিদায় নেন সাঙ্গাকারা (৫৪) ও জয়াসুরিয়া (৬৩)। শ্রীলঙ্কার রান তখন ৩ উইকেটে ১৪৯।

বৃষ্টি শেষে আবার খেলা শুরু হলে শ্রীলঙ্কার জন্য লক্ষ্য স্থির করা হয় ৩৬ ওভারে ২৬৯ রান। ৩২.৫ ওভারে ২০০ রান তুলে ফেলে লঙ্কানরা। ৩৩ ওভারে শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২০৬ রান। এ অবস্থায় আবার বন্ধ হয় খেলা। এবার আলোর স্বল্পতার জন্য।

তখনই ম্যাচ জয়ের উদযাপন শুরু করে দেয় অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা। কিন্তু আম্পায়াররা জানান, যেহেতু আলোর স্বল্পতার কারণে ম্যাচ বন্ধ হয়েছে, তাই ম্যাচের বাকি অংশ পরের দিন খেলা হবে। শ্রীলঙ্কার তখন প্রয়োজন ১৮ বলে ৬৪ রান।

কিন্তু লঙ্কান অধিনায়ক জানান পরের দিন নয় এই স্বল্প আলো নিয়েই ব্যাট করবেন তারা। রিকি পন্টিংও রাজি হন তাতে। তবে তিনি আর পেস বোলার ব্যবহার করেননি, স্পিনার দিয়েই বাকি তিন ওভার বল করান।

প্রায় অন্ধকারে বাকি তিন ওভারে আর ৯ রান যোগ করতে পারে শ্রীলঙ্কা। অর্থাৎ ৩৮ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১৫ রান করে তারা।

ফলে ম্যাচটি ৫৩ রানে জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্য দিয়ে অনন্য এক রেকর্ড গড়ে অজিরা। চারটি ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ে ডন ব্র্যাডম্যানের উত্তরসূরিরা।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম বিশ্বকাপ জেতে এশিয়ায় (১৯৮৭), দ্বিতীয়বার ইউরোপে (১৯৯৯), তৃতীয়বার আফ্রিকা (২০০৩) ও চতুর্থবার (২০০৭) আমেরিকায়।

পিএ

আরো পড়ুন :

নতুন শতাব্দীর প্রথম চ্যাম্পিয়ন অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়া
যে বিশ্বকাপ থেকে শুরু অস্ট্রেলিয়ার স্বর্ণযুগের
লাহোরে শ্রীলঙ্কার বিজয় হুঙ্কার
রঙিন জার্সির প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
ইডেন গার্ডেন্সে অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষার অবসান
বিশ্বকে চমকে দিয়ে ভারতের বিশ্ব জয়
সেই লর্ডসে আবারো ক্যারিবীয়ানদের বিশ্ব জয়
লর্ডসকে সাক্ষী রেখে ক্যারিবিয়ানদের প্রথম বিশ্বজয়

 

ইতিহাস: আরও পড়ুন

আরও