নতুন শতাব্দীর প্রথম চ্যাম্পিয়ন অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়া

ঢাকা, ২১ মে, ২০১৯ | 2 0 1

ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা— ৮

নতুন শতাব্দীর প্রথম চ্যাম্পিয়ন অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়া

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৯ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৯

নতুন শতাব্দীর প্রথম চ্যাম্পিয়ন অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়া

ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হয় বিংশ শতাব্দী সত্তরের দশকে। সেই সময় ক্রিকেট বিশ্বে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের আধিপত্য। প্রথম দুই আসরের শিরোপাও জেতে তারা। তারপর পাল্টে যেতে শুরু করে দৃশ্যপট। ক্যারিবীয়ান সম্রাজ্যের দাপট কমতে তাকে ধীরে ধীরে।

বিংশ শতকে বিশ্বকাপের মোট ৭টি আসর অনুষ্ঠিত হয়। ওই শতকের সর্বশেষ আসর, অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপ জেতে অস্ট্রেলিয়া। আর ওই আসর থেকেই শুরু হয় ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার স্বর্ণযুগ। যা বজায় ছিল পরবর্তী এক দশকেরও বেশি সময় ধরে।

একবিংশ শতাব্দীর প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। অস্ট্রেলিয়া তখন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। যদিও অবসরে গেছেন স্টিভ ওয়াহরা। দলের নেতৃত্ব ভার পড়ে রিকি পন্টিংয়ের কাঁধে। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের নেতৃত্ব আরো আগ্রাসী ও সর্বজয়ী দলের পরিণত হয় দেশটি।

এই আসরে অংশ নেয় ১৪টি দল। এর মধ্যে ১০টি আইসিসির সদস্য দেশ ও ৪টি সহযোগী দেশ। ‘এ’ গ্রুপে ছিল অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জিম্বাবুয়ে, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও কানাডা।

অষ্টম আসরের সবচেয়ে চমক জাগানিয়া দল ছিল কেনিয়া। গ্রুপপর্বে কানাডা, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশকে হারিয়ে সুপার সিক্সে ওঠে দলটি। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবশ্য ওয়াকওভার পায় তারা। আরেক সহ আয়োজক জিম্বাবুয়েও সুপার সিক্সে যায়।

এদিকে অন্য আয়োজক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা বিদায় নেয় গ্রুপপর্ব থেকেই। এই আসরে বাংলাদেশ ভালো ফল করতে পারেনি। সবকটি ম্যাচে হেরে হেরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা।

গ্রুপপর্ব শেষে সুপার সিক্সে ওঠে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে। সুপার সিক্সেও চমক দেখায় কেনিয়া। বিশ্বকাপের সহ আয়োজক এই দেশটি জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে নিশ্চিত করে সেমি ফাইনাল।

সেমিতে গিয়ে ভারতের মুখোমুখি হয় দলটি। সৌরভ গাঙ্গুলীর ভারতের কাছে অবশ্য বড় ব্যবধানে হেরে স্বপ্নযাত্রা থাকে কেনিয়ার। এদিকে অপর সেমি ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে অস্ট্রেলিয়া।

২৩ মার্চ। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে ফাইনালে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। টসে জিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের পাঠান গাঙ্গুলি। ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের নাকানি চুবানি খাইয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২ উইকেটে ৩৫৯ রান করে অস্ট্রেলিয়া।

ওপেনিং জুটিতেই আসে শতরান। দলীয় ১২৫ রানে দুই ওপেনারকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ৫৭ রানে ও ম্যাথু হেইডেন ৩৭ রানে আউট হয়ে যান। এরপর ড্যামিয়েন মার্টিনকে নিয়ে ১৮৮ বলে ২৩৪* রানের এক অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন অধিনায়ক পন্টিং।

মার্টিন ৮৮* রানে অপরাজিত থাকেন। আর পন্টিং অপরাজিত থাকেন ১৪০* রানে। দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে সেদিন বিশ্বকাপের ফাইনালে সেঞ্চুরি করেন পন্টিং। তার ১২১ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি ছক্কা ও ৪টি চারের মার।

ভারতের হয়ে দুইটি উইকেটই নিয়েছেন হরভজন সিং।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে গ্লেন ম্যাকগ্রা ও ব্রেট লির তোপের মুখে ভেঙ্গে পড়ে ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইন আপ। দলীয় ৪ রানের মাথায় ম্যাকগ্রার শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন দলের ব্যাটিং স্তম্ভ শচীন টেন্ডুলকার (৪)। ওই আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (৬৭৩) ছিলেন লিটল মাস্টার। কিন্তু ফাইনালে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হন তিনি।

অজি পেসাদের তোপের মুখে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েন ভিরেন্দর শেবাগ। রান আউট হওয়ার আগে ৮২ রান করেন এই ওপেনার। এরপর রাহুল দ্রাবিড় কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনিও ব্যক্তিগত ৪৭ রানে আউট হয়ে যান। সর্বশেষ ৩৯.২ ওভারে ২৩৪ রান করতেই অল আউট হয়ে যায় ভারত। ম্যাকগ্রা ৩ এবং লি ও অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস দুইটি করে উইকেট নেন।

ফলে ম্যাচটি ১২৫ রানে জিতে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে অস্ট্রেলিয়া। সেই সাথে একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বকাপের ট্রফিতে প্রথম চুমু খাওয়ার গৌরব অর্জন করেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক পন্টিং। অপরাজিত ১৪০ রানে সুবাদে ম্যান অব দ্য ফাইনালও হন তিনি।

পিএ

আরো পড়ুন :

যে বিশ্বকাপ থেকে শুরু অস্ট্রেলিয়ার স্বর্ণযুগের
লাহোরে শ্রীলঙ্কার বিজয় হুঙ্কার
রঙিন জার্সির প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
ইডেন গার্ডেন্সে অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষার অবসান
বিশ্বকে চমকে দিয়ে ভারতের বিশ্ব জয়
সেই লর্ডসে আবারো ক্যারিবীয়ানদের বিশ্ব জয়
লর্ডসকে সাক্ষী রেখে ক্যারিবিয়ানদের প্রথম বিশ্বজয়

 

ইতিহাস: আরও পড়ুন

আরও