‘এক্সিম ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতাদের বদনাম নাই’

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

‘এক্সিম ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতাদের বদনাম নাই’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৮

print
‘এক্সিম ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতাদের বদনাম নাই’

এক্সপোর্ট ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক অব বাংলাদেশ থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করে বিদেশে পালিয়েছেন গ্রাহকরা- এমন বদনাম নেই বলে জানিয়েছেন কোম্পানির মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।

একই সঙ্গে এবারের বাজেটে করপোরেট করহার আড়াই শতাংশ কমানোতে ব্যবসা প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে এক্সিম ব্যাংকের ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তিনি এসব কথা জানান।

এজিএমে শেয়ার হোল্ডারদের সম্মতিক্রমে কোম্পানির পূর্ব ঘোষিত আলোচ্য বিষয়গুলো (এজেন্ডা) অনুমোদন হয়েছে।

এক্সিম ব্যাংকের এ এজিএমে শেয়ার হোল্ডারদের সম্মতিক্রমে ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত বছরের জন্য পূর্ব ঘোষিত ১২.৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড অনুমোদিত হয়েছে।

এছাড়া, হোল্ডারদের সম্মতিক্রমে ২০১৭ সমাপ্ত বছরে জন্য আরও পূর্ব ঘোষিত ৪টি আলোচ্যসূচি (এজেন্ডা) অনুমোদিত হয়। বাকি আলোচ্যসূচি হলো- ২০১৭ সমাপ্ত বছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন, পরিচালক ও স্বতন্ত্র পরিচালক নির্বাচন, নিরীক্ষক নিয়োগসহ নিরীক্ষকের পারিশ্রমিক নির্ধারণ অনুমতি।

এক্সিমের চেয়ারম্যান বলেন, এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহকদের কোনো বদনাম নেই। এ ব্যাংকে কোনো দুর্যোগ হয়েছে এমন ঘটনা ঘটে নি। কেউ ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত ঋণ পরিশোধ করে নাই, এমন অভিযোগও নেই। আবার ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করে বিদেশে পালিয়েছে এমন গ্রাহক নেই এক্সিমে। এটা অত্যন্ত স্বচ্ছ একটি ব্যাংক।

বড় বড় শিল্প গ্রুপ আমাদের গ্রাহক এমন মন্তব্যে করে চেয়ারম্যান বলেন, এক্সিম ব্যাংকে দেশের শীর্ষ গ্রুপের অনেকের একাউন্ট রয়েছে। যা বেশ মান-সন্মানের সাথে ব্যবসা পরিচালন করে আসছে। আমাদের কাজ থেকে ওই গ্রাহকরা শত শত কোটি টাকা লোন নিচ্ছি। আবার সময়মত তা ফেরতও দিচ্ছে। ওইসব শিল্প গ্রুপরা দিন দিন ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সুযোগ তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সমস্যা থাকার পরও ২০১৭ সালে এক্সিম ব্যাংক ৫৮৫ কোটি টাকার উল্লেখ্যযোগ্য পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা ২০১৭ সালে ব্যাংকের আমানত পূর্ববতী বছরের তুলনায় ১৪.২৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৭ সালে ব্যাংকের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। যা ২০১৬ সালে ছিল ২৪ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।

আবার ২০১৭ সালে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ২৯ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। আগের বছর তুলনায় ২০১৭ সালে বিনিয়োগ ১৪.২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

একইভাবে আগের বছর তুলনায় ২০১৭ সালে আমদানিতে ১৬.৩১ শতাংশ, রপ্তানিতে ৫.৪৭ শতাংশ ও রেমিট্যান্সে ২৬.১৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানির পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম স্বপন, মোহাম্মেদ শহিদুল্লাহ. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মেজর খন্দকার নুরুল আফসার (অব), স্বতন্ত্র পরিচালক রঞ্জন চৌধুরী, খন্দকার মোহাম্মেদ সাইফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মেদ হায়দার আলী মিয়া, সচিব মো. গোলাম মাহবুব প্রমুখ।

‘এ’ ক্যাটাগরির এক্সিম ব্যাংক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২০০৪ সালে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৪১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। শেয়ার দর (২৭ ‍জুন) ১২ টাকা।

কোম্পানির রিজার্ভ রয়েছে এক হাজার ২৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়াররের মধ্যে ৪১.৫৮ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন পরিচালকরা। বাকি শেয়ার ধারণ করছেন প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও সাধারণ বিনিয়োগকারী।

জেডএস/এএসটি

 
.



আলোচিত সংবাদ