পান চাষে সাবলম্বী বাগিলারা গ্রামের কৃষকরা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পান চাষে সাবলম্বী বাগিলারা গ্রামের কৃষকরা

জহির শান্ত, কুমিল্লা ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

পান চাষে সাবলম্বী বাগিলারা গ্রামের কৃষকরা

পান চাষ করে সাবলম্বী জীবন-যাপন করছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের বাগিলারা গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক পরিবার। পান বিক্রির টাকায় দৈনন্দিন সাংসারিক চাহিদা মিটিয়ে বছর শেষে লাভের অঙ্কওটাও নেহায়েত মন্দ নয় তাদের। আর শান্ত-সুনিবিড় ছোট্ট এ গ্রামের চাষিদের উৎপাদিত পানেই মিটে জেলার চাহিদা। কখনো কখনো কুমিল্লার গন্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য জেলায়ও বিক্রি হয় বাগিলারা গ্রামের পান।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় শত বছরেরও আগ থেকে বংশ পরম্পরায় বাগিলারা গ্রামের মানুষ পান চাষ করে আসছে। এখানকার মাটি পান চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় একসময়ে এ গ্রামের সব ক’টি পরিবারই পান চাষ করে জীবিকার নির্বাহ করতো। কালক্রমে অনেকেই পেশা বদল করলেও এখনও প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার পান চাষ করছে। বাজারে চাহিদা থাকায় লাভবানও হচ্ছেন তারা।

কৃষকদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাদের লাভের পরিমাণ আরো বাড়তো। সেই সাথে মাথা উচু করে টিকে থাকতো তাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজরিত ঐতিহ্যের পানচাষ।

জানতে চাইলে পান চাষি প্রান্তুষ চন্দ্র পাল বলেন, পূর্বপুরুষদের মত তিনিও গত ৩০ বছর ধরে পান চাষ করেন। সপ্তাহের শনি ও বুধবার জমি থেকে পানপাতা সংগ্রহ করেন। এ কাজে পরিবারের সকল সদস্যই তাকে সহযোগিতা করেন।

প্রান্তুষ চন্দ্রের  ভাষ্য, ‘প্রায় ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৪২ শতক (২ শতকে এক গন্ডা) জমিতে পান চাষ করেছি। পান বিক্রি করেই সংসারের সব খরচ চালাচ্ছি, বাকি টাকা জমিয়ে রাখছি। আশা রাখছি বছর শেষে ৫০/৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।’

স্থানীয় আরেক পান চাষী রনজিৎ পাল জানান, ‘বাগিলারা গ্রামে অন্তত ৫০ জন কৃষক পান চাষ করেন। সপ্তাহের শনি ও বুধবার জমি থেকে সংগ্রহ করা পান দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ বাজার এবং মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজারে পাইকারী দরে বিক্রি করা হয় । ৮০টি পান (স্থানীয় ভাষায় এক বীরা) ১২০ থেকে ১৫০ টাকয় বিক্রি হয়। বাগিলারার পানের স্বাদ অনন্য বলে পুরো জেলাজুড়েরই এর চাহিদা বেশি। কখনো কখনো পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা এসে পান কিনে নিয়ে যায়। ’

তবে পান চাষিদের সমস্যা রয়েছে অনেক। বাগিলারার চারটি পানের ‘বরজ’ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও পান গাছে পোকায় ধরেছে। এ পোকার আক্রমন বন্ধ করতে না পারলে আসছে শীতে পাতা রোগে পান ঝড়ে যাওয়ার আশংকা করছে পান চাষীরা। পাশাপাশি জমি থাকলেও পুজির সংকটেও অনেকে অধিক জায়গাজুড়ে পান চাষ করতে পারছেন না। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে পান চাষের ক্ষতি এড়ানোসহ সার্বিক সহযোগীতা ও পৃষ্ঠপোষকতার লক্ষ্যে পান কৃষি অধিদপ্তরের দৃষ্টি আর্কষণ করেন চাষীরা ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লা উপপরিচালক সুরজিত চন্দ্র দত্ত জানান, বিচ্ছিন্নভাবে কুমিল্লার কিছু এলাকায় পান চাষ হয়। যদিও পান চাষীদের জন্য সরকারি তেমন কোন বরাদ্দ নেই। তবে আমাদের কাছে আসলে আমরা পান চাষীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরমার্শ প্রদান করে থাকি।

পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টা যেহেতু আমি জেনেছি; তাই পান চাষীদের জন্য সরকারিভাবে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যায় কিনা- সে ব্যাপারে চেষ্টা করবো।

জেএস/এফএ 

 

কুমিল্লা: আরও পড়ুন

আরও