দীর্ঘদিন নারী কর্মীকে ধর্ষণ, ভুয়া চিকিৎসক আটক

ঢাকা, ২ এপ্রিল, ২০১৯ | 2 0 1

দীর্ঘদিন নারী কর্মীকে ধর্ষণ, ভুয়া চিকিৎসক আটক

কুমিল্লা প্রতিনিধি ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

দীর্ঘদিন নারী কর্মীকে ধর্ষণ, ভুয়া চিকিৎসক আটক

কুমিল্লার লাকসামে নিজ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক তরুণীকে দীর্ঘ চার মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মীর হোসেন নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে র‌্যাব। বুধবার দুপুরে লাকসাম জংশন এলাকার ‘ডিজিটাল এডভাইস সেন্টারে’ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

মীর হোসেন লাকসাম পৌরসভার বাইনছাটিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবং চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করে ভিকটিম তরুণীকে সে দীর্ঘ চার মাস ধরে ধর্ষণ করে এবং প্রতিবারই ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করে। এ ছাড়া তার প্রতিষ্ঠানের আরো কয়েকজন নারী কর্মীকেও ভয়-প্রলোভন দেখিয়ে ধষর্ণের অভিযোগ উঠেছে।

তরুণীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব বুধবার প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে যৌন উত্তেজক বড়ি, শতাধিক কনডম, একটি কম্পিউটার ও ভুয়া সনদপত্র উদ্ধার করে।

এ সময় মীর হোসেন ছাড়াও ‘এডভাইস সেন্টারে’ কর্মরত সুমি নামে আরেক কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, লাকসাম জংশন সংলগ্ন হাজী শাহজাহান মার্কেটে ‘ডিজিটাল এ্যাডভাইস সেন্টার’ নামে একটি ক্লিনিক গড়ে মীর হোসেন সেখানে চিকিৎসক সেজে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছে। এ ছাড়াও সে ওই ক্লিনিকের প্যাথলজি বিভাগের এক তরুণী কর্মীকে বিগত ৪ মাস যাবত ব্যাথানাশক ইনজেকশন পুশ করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বহুবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় গত সোমবার ওই তরুণী বাদী হয়ে র‌্যাবব-১১ কুমিল্লার কোম্পানী কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার র‌্যাবের একটি টিম ডিজিটাল এ্যাডভাইস সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও ভুয়া চিকিৎসক মীর হোসেনকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমি (১৮) নামে আরেক কর্মীকেও নগরীর শাকতলাস্থ র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে আসে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, তরুণী তার লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, বিগত ৪ মাসে মীর হোসেন ব্যাথানাশক ইনজেকশন দিয়ে অন্তত অর্ধশতাধিক বার তাকে ধর্ষণ করেছে। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের আরো কয়েকজন তরুণীকে বিভিন্ন প্রলোভন অথবা চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। মূলত এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই সুমিকে র‌্যাব কার্যালয়ে আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-১১ কুমিল্লার কোম্পানী কমান্ডার প্রণব কুমার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ভিকটিম তরুণীর অভিযোগের আলোকে আমরা ওই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে এর পরিচালক কথিত চিকিৎসক মীর হোসেন আটক করেছি। সুমি নামে এক নারী কর্মীকে আনা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

তারা এখন কুমিল্লা নগরে র‌্যাবে-১১ এর ক্যাম্পে আছে উল্লেখ করে প্রণব কুমার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মীর হোসেনকে থানা পুলিশের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

জেএস/আরপি

 

কুমিল্লা: আরও পড়ুন

আরও