কুমিল্লায় জমজমাট ঈদের কেনাকাটা (ভিডিও)

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

কুমিল্লায় জমজমাট ঈদের কেনাকাটা (ভিডিও)

জহির শান্ত, কুমিল্লা ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৯

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দিকে এসে কুমিল্লায় জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদের মাত্র কয়েকদিন সামনে রেখে ক্রেতা সাধারণের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে নগরীর শপিং মলগুলো। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে বেচা-কেনা।

পছন্দের পোশাকের খোঁজে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে ছুটে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা। আর তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দোকানীরাও নতুন নতুন বাহারী ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। সব মিলিয়ে ঈদের কেনাকাটায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে কুমিল্লায়।

গত কয়েকদিনে নগরীর কান্দিরপাড় সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক টাওয়ার, আনন্দ সিটি সেন্টার, নিউ মার্কেট, রেইসকোর্স এলাকার ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজাসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানা শ্রেণি পেশার মানুষের পদচারণায় মধ্যরাত পর্যন্ত মুখর থাকে শপিং কমপ্লেক্সগুলো।

কুমিল্লার বিভিন্ন মার্কেট ও অভিজাত শপিং মলগুলোতে আসা ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেল, ঈদের শেষ মুহূর্তে ভীড় বেশি থাকার কারণে অনেকেই মধ্য রমজান থেকেই কেনাকাটা শুরু করেছিলেন। তারপরও শেষ হয়নি ঈদবাজার। প্রিয়জনকে খুশি রাখতে শেষমুহূর্তের ভিড় ঠেলেই পছন্দের পোশাক খোঁজে বেড়াচ্ছেন এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে।

অন্যদিকে রোজার প্রথমে বা মধ্যভাগে যারা সময় করতে পারেননি- পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের আগ মুহূর্তের কেনাকাটায় যোগ দিচ্ছেন তাড়াও।

মার্কেট ঘুরে ও কথা বলে জানা গেল, এ ধরনের ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। প্রতিদিন ভীড় ঠেলে বাজার ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে একদিনের প্রয়োজনীয় পোশাক ও এ জাতীয় অন্যান্য সামগ্রী কিনে ফেলতে চান তারা।

নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় অবস্থিত খন্দকার হক টাওয়ারে কেনা কাটা করতে আসা গৃহিনী সুমি আক্তার জানান, ‘ঈদের শেষ মুহূর্তে প্রতিটি মার্কেটেই ভিড় থাকে; তাই মধ্য রমজান থেকে বাচ্চাদের নিয়ে এসে জামা-কাপড় কিনে ফেলেছি। কিন্তু বাজার শেষ করতে পারিনি। তাই আবার এসেছি। কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখেছি কিন্তু এখনো পছন্দ হয়নি। হয়তো আবারো আসতে হবে।’

ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজায় বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পছন্দের জামা খুঁজতে আসা তরুণী কানিজ আফরোজ জানান, ‘রোজার প্রথম থেকেই নতুন কালেকশানের জন্য অপেক্ষা করছি। শেষ দিকে এসে কিছু ব্যতিক্রমী ডিজাইনের পোশাক পেয়েছি। এর চেয়ে ভালো কিছু না পেলে সেখান থেকেই নিয়ে যাবো।’ 

তার মতে, ‘পোশাকের দাম গতবারের তুলনায় এবার একটু কম।’

ঈদের কেনাকাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে খন্দকার হক টাওয়ারের ২য় তলায় কৃষ্ণচুড়া কালেকশানের পরিচালক শাহজাদা ইসলাম শাওন বলেন, ‘মাহে রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই কুমিল্লায় ঈদবাজার জমে উঠেছে। শেষ মুহূর্তে এসে কেনাকাটা আরও বেড়েছে। ক্রেতারা আসছেন, পছন্দের পোশাক পেলে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পছন্দ না হলে অন্য দোকানে যাচ্ছেন। বরাবরের মতো একই চিত্র এবারের ঈদবাজারে।’

সাত্তার খান কমপ্লেক্সের সাঈদ ফ্যাশনের কর্ণধার মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের ক্রেতার বিভিন্ন রকমের চাহিদা থাকে। সেজন্য নানা রঙ্গের ও ডিজাইনের নতুন নতুন পোশাকে দোকানে সাজানো হয়েছে। এবার দামও তুলনামূলক কম। সবসময় আমরা ক্রেতাদের ভালো কিছু দেয়ার চেষ্টা করি। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার সাড়াও ভালো পাচ্ছি।’

এদিকে ঈদকে ঘিরে কুমিল্লার মার্কেটগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রতিটি মার্কেটের প্রধান ফটকের সামনে ৫/৭জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশও মাঠে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সালাম মিয়া বলেন, ঈদবাজারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শপিং মলগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও মাঠে রয়েছে। মার্কেটগুলোর সামনে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএইচ

 

কুমিল্লা: আরও পড়ুন

আরও