আতঙ্কের রাত শেষে স্বস্তির সকাল...

ঢাকা, ২ এপ্রিল, ২০১৯ | 2 0 1

আতঙ্কের রাত শেষে স্বস্তির সকাল...

জহির শান্ত, কুমিল্লা ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ০৯, ২০১৯

আতঙ্কের রাত শেষে স্বস্তির সকাল...

দেশের অন্যতম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কুমিল্লা ইপিজেডে অগ্নিকাণ্ডের খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে কুমিল্লাবাসী। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া আগুনের ভয়াবহতায় ঘিরে ধরে অজানা আতঙ্ক। রাত বাড়ে; বাড়ে গগনচুম্বি আগুনের শিখা। ইপিজেডের প্রধান দুটি গেটে বাড়তে থাকে উদ্বিগ্ন মানুষ ও ভেতরে থাকা শ্রমিকদের স্বজনের ভিড়।

একদিকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রচেষ্টাকে পাশ কাটিয়ে আকাশচুম্বি হতে থাকে আগুন অন্যদিকে শঙ্কার কালো মেঘ উঁকি দিতে থাকে জনমনে। এভাবেই কেটে যায় আতঙ্কের এক রাত।

অবশেষে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকা আরএন স্পিনিং মিলস্রে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে মঙ্গলবার ভোর ৬টায়। নানা শঙ্কার দীর্ঘ এক রাত শেষে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে স্বস্তিও ফেরে কুমিল্লাবাসীর মাঝে।

এর আগে সোমবার রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা ইপিজেডের আরএন স্পিনিং মিলসে আগুন লাগে। কোম্পানির শ্রমিকরা শিফটের কাজ শেষে কর্মস্থল থেকে ফেরার প্রাক্কালে শুনতে পান ফায়ার অ্যালার্ম। দেখেন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে কোম্পানির গোডাউন। মুহূর্তেই ছড়াতে থাকে আগুনের ব্যাপকতা। তবে নিরাপদেই কারখানা থেকে ফেরেন শ্রমিকরা।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ র‌্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা। গভীর রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি তদারকি করেন তারা।

সারারাত ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ফ্যাক্টরিটি স্টিলের অবকাঠামো দিয়ে তৈরি হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। তা ছাড়া পানির সংকটও দেখা দিয়েছিল। পরে পাম্প চালু করে বিকল্প উপায়ে পানি সংগ্রহ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভের ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কারখানার ভেতরে থাকা মালামালে জ্বলতে থাকা আগুন পুরোপুরি নেভাতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই স্পিনিং মিলের আগুন খুব অল্প সময়েই পুরো কারাখানায় ছড়িয়ে পড়েছিল। গোডাউনসহ ফ্যাক্টরির ভেতরে থাকা মেশিনপত্র ও মালামাল পুড়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

জেডএস/এমএ

 

কুমিল্লা: আরও পড়ুন

আরও