বিএনপি প্রার্থীর জমা দেয়া আয়কর সনদ ‘গায়েব’

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯ | ১১ চৈত্র ১৪২৫

বিএনপি প্রার্থীর জমা দেয়া আয়কর সনদ ‘গায়েব’

কুমিল্লা প্রতিনিধি ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৮

বিএনপি প্রার্থীর জমা দেয়া আয়কর সনদ ‘গায়েব’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনে মোট ১৩৪ প্রার্থীর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে ৩৬টি মনোনয়ন। এর মধ্যে বিএনপির চার হেভিওয়েট ছাড়াও আওয়ামী লীগের আলোচিত দুই ‘বিদ্রোহী’ রয়েছেন।

 

রোববার ঋণখেলাপি, হলফনামায় ভুল তথ্য, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল, আইনজীবীর করা নোটারি সনদ না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে এসব মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন কুমিল্লার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের ভাই কেএম মজিবুল হকের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। কারণ হিসেবে আয়কর সনদ জমা না দেয়ার কথা বলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

তবে মজিবুল হক রিটার্নিং কর্মকর্তার এই দাবি চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি দাবি করেন, ‘মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আমি আয়কর সনদসহ সকল কাগজপত্র জমা দিয়েছি। জমা দেয়ার সময় সবকিছুর ছবি ও ভিডিও করে রেখেছি। সেখান থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আয়কর সনদ গায়েব করা হয়েছে।’

এ পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে আপিলের পরামর্শ দেন।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. ইউনুসের সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলেও সমস্যা দেখা দেয় আইনজীবীর নোটারি সনদ নিয়ে। চারবারের এই এমপির আইনজীবীর নোটারি রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ নেই।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মজিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয় ১ শতাংশ সমর্থক ভোটারের তথ্যের গরমিলে।

একই কারণে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিদ্রোহী দুই প্রার্থী উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার এবং তার ছেলে আহসানুল আলম কিশোরের মনোনয়নও বাতিল করা হয়।

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. রুহুল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় তার উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ গৃহীত না হওয়ায়।

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ লালমাই ও নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি মো. আবদুল গফুর ভূইয়ার মনোনয়পত্র বাতিল করা হয় ঋণখেলাপির অভিযোগে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, যাচাই-বাছাইয়ে কুমিল্লার ১১টি আসনে ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংক্ষুব্ধ এসব প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন।

জেএস/এআরই/আইএম