৮৫% গার্মেন্টস শ্রমিক যৌন হয়রানির শিকার

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯ | ১১ চৈত্র ১৪২৫

৮৫% গার্মেন্টস শ্রমিক যৌন হয়রানির শিকার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৮

৮৫% গার্মেন্টস শ্রমিক যৌন হয়রানির শিকার

দেশের পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ৮৫ শতাংশ নারী শ্রমিকের ওপর চলছে অবাধে যৌন হয়রানি। আর এ হয়রানির জন্য দায়ী কারখানার সুপারভাইজার থেকে শুরু করে মধ্যম সারির কর্মকর্তারা।

সোমবার রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পোশাক শিল্পে নারীর প্রতি সহিংসতা’ শীর্ষক সেমিনারে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

নারীদের নিয়ে কাজ করে এমন পাঁচটি সংগঠন (ব্ল্যাস্ট, ব্র্যাক, ক্রিশ্চিয়ান এইড, নারীপক্ষ ও এসএনভি) মিলিত উদ্যোগে ‘সজাগ’ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

উপস্থাপিত পরিসংখ্যানের জন্য মার্চ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকার ৮টি কারখানার ৩৮২ নারী পোশাক শ্রমিকের সঙ্গে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন এবং সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

এর মধ্যে অর্ধেক সজাগ কোয়ালিশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কারখানা। আর পরিসংখ্যানে আসা প্রত্যেকটি কারখানা কমপ্লায়েন্সভুক্ত। কমপ্লায়েন্সের তালিকার বাইরের কারখানাগুলোর পরিসংখ্যান করলে এ হয়রানির পরিমাণ আরো ভয়াবহ বলে ধারণা করা হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শ্রমিকদের ২২ শতাংশ বলেছেন তারা কারখানার ভেতরে অথবা বাইরে শারীরিক, মানসিক এবং যৌন হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন। ৬৬ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন, তারা কারখানার কমিটির কাছে কোনো সহযোগিতা বা প্রতিকার চান না। কারণ, কমিটির কাছে কোনো বিচার পাওয়া যাবে না।

১১ শতাংশ নারী শ্রমিক মনে করেন, তারা কর্মক্ষেত্রে অনিরাপদ। ৮৩ শতাংশ মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে অশালীন বা অকথ্য ভাষায় কথা বলা, কারখানায় প্রবেশের সময় নিরাপত্তা কর্মীর অস্বস্তিকর চেকিং, পুরুষ সহকর্মীর অপ্রত্যাশিত স্পর্শ, যৌন সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা এগুলো হয়রানি। আর ৬৮ শতাংশ বলেন, কর্মক্ষেত্রে তেমন কোনো কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি নেই।

সেমিনারে মিনিস্ট্রি অব লেবার অ্যান্ড ইমপ্লয়মেন্টের ল’ ডিভিশনের অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি বেগম মোর্শেদা, ডাইফির জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট প্রজেক্ট ডিরেক্টর ডিআইজ মতিউর রহমান, রেনেশাঁ গ্রুপের করপোরেট হেড অব এইচআর সৈয়দা শায়লা আশরাফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বেগম মোর্শেদা হাই বলেন, ‘কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের যৌন হয়রানি রোধে সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশের আইন ব্যবস্থা নারীর জন্য উন্মুক্ত করেছে। তারপরও কর্মক্ষেত্রে নারীর হয়রানি বাড়ছে। এটার জন্য সরকারের পাশাপাশি মালিক-শ্রমিকসহ সব পক্ষকেই সচেতন হতে হবে।’

মতিউর রহমান বলেন, ‘কমিউনিটিতে বাণিজ্যিকভাবে ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি ছাড়াও পরবর্তীতে যাতে বিনা বেতনে দীর্ঘদিন ছুটি নিতে পারেন, সে সুযোগ-সুবিধা আইনে আসা দরকার।’

সেমিনারে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক রওশন আরা। পরিসংখ্যানের ওপর আলোকপাত করেন সজাগ কোয়ালিশনের দলনেতা মাহীন সুলতান।

এফএ/আইএম