ছাত্র আন্দোলনে সংকটে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ | ৭ চৈত্র ১৪২৫

ছাত্র আন্দোলনে সংকটে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০১৮

ছাত্র আন্দোলনে সংকটে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা গত এক সপ্তাহে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ঠিকমতো পোশাক শিল্পের আমদানি ও রপ্তানি পণ্য আনা-নেয়া করতে পারিনি।’

সোমবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি এ সব কথা বলেন। ছাত্র আন্দোলন এর প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিজিএমই সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা শঙ্কার সাথে লক্ষ্য করছি ছাত্ররা ঘরে ফিরে গেলেও যানবাহন পরিস্থিতি এখনও  স্বাভাবিক হতে পারেনি। সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে পর্যাপ্ত যানবাহন নামেনি। ফলে, জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প।’

গত এক সপ্তাহে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ঠিকমতো পোশাক শিল্পের আমদানি ও রপ্তানি পণ্য আনা-নেয়া করতে না পারায় বন্দরে কন্টেইনার ভর্তি রপ্তানিতব্য পণ্য পড়ে আছে আর তৈরি পণ্য  জাহাজীকরণের অপেক্ষায় কারখানায় পড়ে আছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় যানবাহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অনেক কারখানা  স্টকলটের শিকার হবে। অনেক কারখানা এয়ার ফ্রেইট করতে বাধ্য হবে। আর এর মাশুল দিতে হবে পোশাক শিল্পকে।’

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্স এর সকল শর্ত পূরন করে নিজেদের মতো করে চলার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন এ ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি আমাদেরকে পিছিয়ে দেয়। আমরা হতোদ্যম হয়ে পড়ি। ক্রেতাদেরও আস্থাহানি ঘটে। শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষূন্ন হয়, যা মোটেই কাম্য নয়।’

বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, ‘আমরা এমন কোন কর্মকাণ্ড চাই না, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত ও স্থবির করে দেয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করে, ব্যবসা-বানিজ্য পিছিয়ে দেয়।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এই সাত দিনে আমাদের কত ক্ষতি হয়েছে তার হিসেব আমাদের কাছে নেই।  ক্রেতারা আগস্ট মাসে আমাদের কাছে পরবর্তী সিজনের জন্য তৈরি পোশাকের অর্ডার নেয় । বিদেশি দুই থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান তাদের বাংলাদেশে আসার ট্রিপ আপাতত বাদ দিয়েছে। অনেকে তাদের ট্রিপ পরিবর্তন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা না আসলে আমাদের তাদের কাছে যেতে হবে। এতে আমাদের ক্ষতি হয়েছে। এটা আমরা পুষিয়ে নিতে পারবো যদি এখন থেকে সব কিছু স্বাভাবিক থাকে। তবে দেশে এমন অস্থিরতা তৈরী হলে আমাদের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়।’

এ সংকটে সামনে ঈদে শ্রমিকদের বেতনর দেয়াতে কোন প্রভাব ফেলবে কী না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জাবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা করতে হলে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি  এস.এম মান্নান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির, পরিচালক মনির হোসেন, পরিচালক ইনামুল হক খান (বাবলু), পরিচালক আ.ন.ম. সাইফউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

এফএ/আরজি