‘৮০% তৈরি পোশাক কারখানা লোকসানে’

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫

‘৮০% তৈরি পোশাক কারখানা লোকসানে’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৪, ২০১৮

print
‘৮০% তৈরি পোশাক কারখানা লোকসানে’

‘মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায়ের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছে ঘুষ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা-কর্মচারী।’

বুধবার এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম এসব অভিযোগ করেন।

হাতেম বলেন, সম্প্রতি পোশাকশিল্পের মালিকরা ঠিক মতো ভ্যাট দেয় কি না তা খতিয়ে দেখতে অডিট শুরু করেছে এনবিআর। নিয়ম অনুসারে পরিবহন খরচ, প্যাকেজিংসহ অন্যান্য ব্যয়ের ওপর ভ্যাট দিতে হয়।

তিনি বলেন, কিন্তু এখন আবার মিসেলিনিয়াস (অন্যান্য) ব্যয়ের ওপরও ভ্যাট দেওয়া হচ্ছে কি না দেখা হচ্ছে। এর মানে অন্যান্য খরচের মধ্যে বিভিন্ন কার্য সম্পাদনের জন্য যে ঘুষ দেওয়া হয় সেটাও যুক্ত আছে। এজন্য আমাদের (গার্মেন্টস মালিক) ঘুষের ওপরও ভ্যাট দিতে হচ্ছে।

এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আয়করের ওপর ব্যবসায়ী ও সাধারণ পর্যায়ে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু ভ্যাটের বিষয়ে সেই ধরনের গ্রহণযোগ্যতা এখনো সেই পর্যায়ে নেই। এজন্য অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায় কম হয়। এ কারণে আমাদের অডিট প্রক্রিয়ায় যেতে হয় এবং প্রত্যেকটি অডিটে অনাদায়ী ভ্যাট আদায় হতে দেখা যায়। 

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮০ শতাংশ পোশাক কারখানা লোকসান দিয়ে ব্যবসা করছে। মাত্র ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মুনাফা করছে। কিন্তু সবাইকে ভ্যাট, ট্যাক্স ও উৎসে কর দিতে হচ্ছে। এজন্য লস দিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা খুবই কষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, বায়াররা ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না। এর বাইরে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে কাঁচামালের দাম। এর বাইরে ব্যবসায়ীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। অডিটের নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট সিস্টেম এবং স্থানীয় ও রাজস্ব অধিদপ্তর ব্যবসায়ীদের ব্যাপক হয়রানি করছে।

বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএপিএমই)র পক্ষ থেকে বলা হয়, রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। আসন্ন বাজেটে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা দরকার। বিদেশি বায়াররা নিট পণ্যের ন্যায্য দাম দিচ্ছে না, অন্যদিকে এ শিল্পের কাঁচামালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় এ শিল্পকে রক্ষা করতে হলে উৎসে কর হার কমানোর বিকল্প নেই।

এফএ/এসবি

 
.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ




আলোচিত সংবাদ