কোটিপতি পিয়ন ইয়াছিন আদালতে

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

কোটিপতি পিয়ন ইয়াছিন আদালতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

কোটিপতি পিয়ন ইয়াছিন আদালতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কোটিপতি পিয়ন ইয়াছিন মিয়াকে (৪৫) আটকের পর সন্দেহজনক মামলায় আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

ইয়াছিন মিয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দির আতুয়াকান্দির হাজী মোহন মিয়ার ছেলে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ২৬ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অডিট দল আসে। অডিটে বিপুল পরিমাণে অর্থ তছরুপের প্রমাণ পায় তারা। এদিন থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন ইয়াসিন মিয়ার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এর প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিস ইয়াসিন নিখোঁজ হওয়ার একটি সাধারণ ডাইরি করে।

শুক্রবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ ইয়াসিনকে আটক করেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে তার সাথে পলাতক থাকা তৃতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় তার বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান করেনি পুলিশ।

ওসি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, ‘ইয়াসিন নিখোঁজের পর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় নিখোঁজ ইয়াছিনের খুঁজে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে অডিট শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় আইআরও এর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের কুমিল্লা আঞ্চলিকে কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

ওসি আরো জানান, ‘তার বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকায় বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ, সাধারণ ডায়েরি ও দুদকে পাঠানো অভিযোগ থাকায় ইয়াছিনকে সন্দেহজনক মামলায় আদালতে পাঠানো। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা তদন্ত করবে দুদক।’

তবে একটি সূত্র জানায়, পলাতক ইয়াছিনের সাথে সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কয়েকজনের যোগাযোগ হয়েছে আগেই। বিষয়টি অবগত ছিল দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন নেতাও। তাদের সাথে ইয়াছিনের সমঝোতা হয়। সমঝোতার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইয়াসিনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। রাতে শহরজুড়ে গুঞ্জন উঠে কোটিপতি পিয়ন ইয়াছিন আটক। পরে মধ্যরাতে ইয়াছিন সদর মডেল থানা এলাকায় অবস্থায় করে এক প্রকার আত্মসমর্পণ করে পুলিশের কাছে।

ইয়াছিন পলাতক থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের ভুয়া চালান রশিদ তৈরি করে ইয়াছিন মিয়া টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অডিট টিম তাদের তদন্তে হিসাব পেয়েছেন ঠিক কত টাকা আত্মসাৎ করেছে ইয়াছিন। ওই আত্মসাতের পরিমাণ ঠিক কত সেটি গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়নি তারা। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২০১৪ সাল থেকে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ইয়াছিন।

কোটিপতি পিয়ন ইয়াছিন নিখোঁজের পরই বেরিয়ে আসে তার বিরুদ্ধে নানান তথ্য। এর মধ্যে আলোচনায় ছিল তার তিন বিয়ে ও ছয় তলা ভবনসহ ফ্লাট বাড়ি। ইয়াছিল প্রায় ২৩ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসে পিয়নের চাকরি করেছেন। দীর্ঘদিন চাকরি করলেও ২০০৬ সালে তার চাকরি সরকারি হয়।

এআর/এইচআর

আরও পড়ুন...
সেই কোটিপতি পিয়ন আটক (ভিডিও)

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও