জলের কুমিরকে ডাঙায় ফিরতে বাধ্য করছে পুলিশ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জলের কুমিরকে ডাঙায় ফিরতে বাধ্য করছে পুলিশ

কক্সবাজার প্রতিনিধি ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৯

জলের কুমিরকে ডাঙায় ফিরতে বাধ্য করছে পুলিশ

সুন্দরবন এখন নিরাপদ। প্রায় সাড়ে ৩০০ জলদস্যু আত্মসমর্পণের পরে গত বছর সুন্দরবনকে নিরাপদ ঘোষণা করেছে সরকার। খুলনা, বাঘেরহাট, সাতক্ষীরা অঞ্চলের জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করলেও বঙ্গোপসাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক জলদস্যু।

এবার কক্সবাজার উপকূলের জলদস্যু নামের এই জলের কুমিরদের ডাঙায় তুলে আনছে পুলিশ।

কক্সবাজার উপকূলের প্রায় শ' খানেক জলের কুমির কক্সবাজারে পুলিশের হাতে আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তুত। সব ঠিক থাকলে আগামী শনিবার (২৩ নভেম্বর) কক্সবাজারের মহেশখালীতে এই জলদস্যুরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে।

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ওইদিন কক্সবাজার উপকূলের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়ার জলদস্যুর পাশাপাশি বেশ কিছু অস্ত্র কারিগরও আত্মসমর্পণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন।

এসপি জানান, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন জানান, কক্সবাজার উপকূলের জলদস্যুদের দমনে পুলিশ গত এক বছর ধরে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছিলো। সাগরে জেলেদের মৎস আহরণ নিরাপদ করতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে অনেক জলদস্যু নিহত হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র। জলদস্যু দমনে পুলিশের অভিযানের মুখে আত্মসমর্পণে বাধ্য হচ্ছে এই জলদস্যুরা।

এসপি মাসুদ হোসেন জানান, গত কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে জলদস্যুরা আত্মসমর্পণের চেষ্টা করে আসছিলো। দস্যুতা পরিহার করে, নিজের দোষ স্বীকার করে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়ায় সরকার তাদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিতে সম্মত হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার উপকূলের শীর্ষ সাতটি দস্যু বাহিনীর প্রধানসহ তাদের সহযোগীরা অস্ত্র সরঞ্জামসহ আত্মসমর্পণ করবে। এসব দস্যুর বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এই জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করলে মহেশখালী-কুতুবদিয়াসহ বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী উপকূলের দীর্ঘ কয়েক দশকের জেলেদের উপর অত্ম্যাচার ও নির্যাতন অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে জেলেরা মৎস্য আহরণ করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর র‌্যাবের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে মহেশখালীর ৪৩ জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর আত্মসমর্পণ করে।

এসবি

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও