চট্টগ্রামে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্র্রোল

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চট্টগ্রামে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্র্রোল

জামালুদ্দিন হাওলাদার, চট্টগ্রাম ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

চট্টগ্রামে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্র্রোল

খোলা স্থানে পেট্রোল ও মবিল বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও চট্টগ্রাম নগরীতে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে দাহ্য সকল পদার্থ। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পেট্রোলের কারণে সামান্য একটু অসাবধানতায় মুহূর্তেই ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ  ঘটনা।

আইন প্রয়োগে তেমন তৎপরতা না থাকায় দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে উন্মুক্ত অবস্থায় এই ব্যবসা। সম্প্রতি ঝুঁকিপুর্ণ এ দাহ্য তেলের ব্যবসা নগরীতে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাঙের ছাতার মতো আনাচে-কানাচে। পেট্রোল বোমা হামলাসহ নানা অপতৎপরতায় এসব দোকানগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে অনেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর জনবহুল এলাকা নিউ মার্কেট মোড়ে গড়ে উঠেছে মবিল ও পেট্রোলের দোকান। ফুটপাত দখল করে লালদীঘি অটো টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জানে আলমসহ একটি সন্ত্রাসী বাহিনী খোলা আকাশের নীচে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন নিউ মার্কেট ও আশে পাশের ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রাম জেনারেল পোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা।

জিপিওর সামনে যাত্রী ছাউনী ঘেঁষে গড়ে উঠা পেট্রোলের দোকানের কারণে পথচারীদের ফুটপাতে যাতায়াতে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। দোকানটিতে আলকরণ, কোতোয়ালী ও সদরঘাট এলাকার সন্ত্রাসীদের আড্ডা খানায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া নগরীর ১৭ নম্বর সড়ক অর্থাৎ চাক্তাই-নিউমার্কেট সড়কের চলাচলরত ম্যাক্সিমা, মাহেন্দ্র, টেম্পু ও টেক্সির চালকরা ওই দোকান থেকে মবিল ও পেট্রোল নেয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকাটিতে যানজট লেগে থাকে। অবৈধভাবে গড়ে উঠা এই সকল দোকানের লোকজন, গাড়ির চালক-হেলপার এবং সন্ত্রাসীরা যাত্রী ছাউনীতে বসে আড্ডা দেয়ায় সাধারণ যাত্রীরা নানা অসুবিধার সম্মুখীন হন। অনেক সময় যাত্রী ছাউনীতে অপেক্ষামান নারী যাত্রীরা তাদের দ্বারা উত্ত্যক্তের শিকার হন।

চাক্তাই থেকে নিউ মার্কেট সড়কে চলাচলরত একাধিক গাড়ির চালক অভিযোগ করেন, মবিল ও পেট্রোলের দোকানটির মালিক জানে আলম শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের তিন শতাধিক গাড়ির মবিল ও পেট্রোল তার দোকান থেকে কিনতে তাদের বাধ্য করানো হয়।

প্রকাশ্যে ফুটপাত দখল করে খোলা মবিল ও পেট্রোল বিক্রি করার কারণে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় জেনারেল পোস্ট অফিস, নিউ মার্কেট, বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম উন্নায়ন কর্তৃপক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। খোলাভাবে বিক্রি করা মবিল ও পেট্রোলের দোকান থাকার কারণে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটে স্থাপনাগুলোতে ক্ষতিসাধণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে জানে আলম ঝুঁকিপূর্ণভাবে মবিল ও পেট্রোল বিক্রি করে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদ করছেন না সংশ্লিষ্ট সংস্থার লোকেরা।

এ ব্যাপারে দোকানের মালিক ও চট্টগ্রামের চন্দনাইশের এলডিপি নেতা মো. জানে আলম বলেন, দোকানটি গাড়ির চালকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে দিয়েছি। দীর্ঘ তিন বছর হলো কোন সমস্যা হয়নি এখনো।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বিষ্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। নিউ মাকের্কেটে এমন ঘটনা, আমাদের দৃষ্টিতে ছিলনা। তবে দ্রুতই এসব অবৈধ তেলের দোকান উচ্ছেদ করা হবে।

এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, এধরনের ব্যবসার জন্য পরিবেশ অধিদফতর থেকে কোনো ছাড়পত্র দেয়া হযনি। এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা শিগগিরই নেয়া হবে।

জেএইচ/এমকে

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও