সম্প্রীতি নষ্টকারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে: পীযুষ

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সম্প্রীতি নষ্টকারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে: পীযুষ

কুমিল্লা প্রতিনিধি ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

সম্প্রীতি নষ্টকারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে: পীযুষ

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশের’ আহবায়ক পীযুষ বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে এতে করে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিতে কুড়াল মারা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনতার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমরা আর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো অনাচার, অত্যাচার দেখতে চাই না। সমাজের সর্বস্তরে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবাইকে এ দায়িত্ব নিতে হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নজরুল ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক ‘সম্প্রীতি সংলাপে’ পীযুষ বন্দোপাধ্যায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যখন সহিংসতা হয়, সেই সহিংসতা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় যখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় সেটি আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে হয়।’

‘এ দেশে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে এবং পরে যে সহিংস ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলো হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়। এ ঘটনাগুলো ঘটিয়ে আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির পায়ে কুড়াল মারা হয়েছে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পিঠে ছুরি মারা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি আঘাত হানা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই অনাচার, অত্যাচার তা দেখতে চাই না। আমরা সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই। এ বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌছে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যদি এ বার্তা পৌঁছানো না যায় তাহলে রাষ্ট্র-সরকার চাইলেও সমাজে সম্প্রীতি আনতে পারবে না। দেশে যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটে এবং যারা ঘটায় তাদের সংখ্যা কিন্তু কম। সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা আর সেসব ঘটনা ঘটাতে পারবে না। যারা সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, যারা সমাজে অনাচার করতে চায়, সমাজে বৈষম্য তৈরি করতে চায়, ভেদাভেদ করতে চায়, যারা নির্যাতন করতে চায়, শুভবাদি মানুষরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

‘সম্প্রীতি সংলাপে’ অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংস্ক্রতি সচিব নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারিছসুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ডা. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া, কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আমীর আলী চৌধুরী, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. তৃপ্তিষ চন্দ্র ঘোষ, কান্দিরপাড় মসজিদের খতীব ও ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নব শালবন বিহারের অধ্যক্ষ শীল ভদ্র মহাথেরো, আওয়ারলেডি অব ফাতিমা গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মালতী মিটিন্তা কোড়াইয়া প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর।

সম্প্রীতি সংলাপের এক পর্যায়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু, নারী নেত্রী পাপড়ী বোস, সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল, সাংবাদিক অশোক কুমার বড়ুয়া প্রমুখ।

জেডএস/এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও