বাবা হওয়ার সুখ সইলো না রবি হরিজনের

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বাবা হওয়ার সুখ সইলো না রবি হরিজনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ১০:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

বাবা হওয়ার সুখ সইলো না রবি হরিজনের

রবি লাল হরিজন (২৫)। হরিজন হলেও পেশায় ছিলেন পুলিশ সদস্য। বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার মাইজদী কোর্ট এলাকায়। বিয়ে করেছেন ৪ বছর আগে হবিগঞ্জে। এক সপ্তাহে আগে হবিগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে বিয়ের ৪ বছর পর একটি ছেলে সন্তান হয়েছে স্ত্রীর গর্ভে।

এই খবর জেনে রবি হরিজন মা তারা রানীকে সাথে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন একমাত্র নবজাতক সন্তানকে দেখতে। সেখানে তিনদিন বেড়ানোর পর ট্রেনে নোয়াখালীর দিকে ফিরছিলেন তারা।

ফেরা পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগে ঢাকাগামী তুর্না এক্সপ্রেসের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এতে মারা যায় ১৬ জন উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনযাত্রী। এই ১৬ জনের একজন রবি লাল হরিজন। তবে তার মা তারা রানী এই ঘটনায় আহত হন।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রবি হরিজনকে আহতবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পর তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। অজ্ঞাত হিসেবে তার মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়। অজ্ঞাত সব মরদেহের পরিচয় সনাক্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর একটি দল কাজ করে। এতে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে রবি হরিজনের পরিচয় সনাক্ত হয়। পরিচয় পাওয়ার পর তার পরিবারের সাথে পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে এসে মরদেহ দেখে।

রবি লাল হরিজনের নিকটাত্মীয় দীলিপ বাবু বলেন, সে পুলিশের ক্লিনার পদে চাকরি করতো। বিয়ের ৪ বছর পর প্রথম সন্তান জন্ম নেয়ায় তার আনন্দের সীমা ছিল না। কিন্তু তার এই সুখ কপালে সইলো না।

এআর/এইচআর

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও