ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যু, তদন্ত কমিটি

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যু, তদন্ত কমিটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ৮:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যু, তদন্ত কমিটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইকপাড়ায় হোপ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গর্ভাবস্থায় শিশুটির মাকে চিকিৎসক উচ্চ ক্ষমতার ওষুধ দেন। ফলে শিশুটি ব্রেইন, হার্ট, কিডনিসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

শিশুটির বাবা সদর উপজেলার শিলাউর গ্রামের মো. আওয়াল হোসেন অভিযোগটি সিভিল সার্জন অফিসে দায়ের করেছেন।

তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছেন।

টিমের সদস্যরা হলেন, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ওবায়দুল হক, সিভিল সার্জন অফিসের আবাসিক চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান ও গাইনি বিশেষজ্ঞ মোহিনী বেগম।

সিভিল সার্জন অফিস ও পুলিশ সুপারের কার্যলয়ে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়াল হোসেন তার স্ত্রী নাসরিনকে গর্ভবতী হওয়ায় ২০ মার্চ প্রথমে হোপ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেই সময় থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত নাসরিন ওই হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার (হ্যাপী)’র তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আওয়াল হোসেন জানান, এসময় ওই চিকিৎসকের অদক্ষতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন। তাছাড়া চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার (হ্যাপী)’র অনভিজ্ঞতায় আমার স্ত্রীকে গর্ভবতী হওয়া সত্ত্বেও কোনো কিছু না জানিয়ে অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগ করে গর্ভের সন্তানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করেছেন। পরবর্তীতে ডাক্তার হ্যাপী গত ১৫ অক্টোবর রাতে আমার স্ত্রীকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ডেলিভারি করেন। পাশাপাশি আমাদের কিছু না জানিয়ে ডাক্তার হ্যাপী আমার স্ত্রীর জরায়ুর অপারেশনও করেন। ডেলিভারির পর আমার নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দেখভাল না করে ফেলে রাখলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি জানান, শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে আমার সন্তানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাই। ঢাকায় বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক আমার নবজাতক সন্তানকে দেখে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, শিশুটির ব্রেইন, হার্ট, কিডনিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। গর্ভবতীকালীন ও গর্ভের পূর্ববর্তী সময়ে শিশুর মাকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ওষুধ ও ইনজেকশন এবং ভুল সিজারিয়ানের ফলে শিশুটির এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ এসব সমস্যা নিয়ে আমার সন্তানটি ১৮ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করে। পরে এসব বিষয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার (হ্যাপী)-কে জানালে তারা আমার সাথে অশোভন আচরণ করেন। এসময় আমার কাছে থাকা হাসপাতালের সিজারিয়ানের কাগজপত্র রেখে দেন ও মোটা অংকের বিল আদায় করেন। এসব ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করি।

এ বিষয়ে হোপ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিস থেকে কোনো চিঠি এখনো পায়নি। আর ডাক্তার ম্যাডাম (হ্যাপী) বলেছেন- তিনি সিভিল সার্জন অফিসে কথা বলবেন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন শাহ আলম জানান, ‘আমরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করে দিয়েছি। তারা ৭ কর্মদিবসে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দেবেন।’

এআর/এইচআর

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও