সোনাগাজীতে প্রস্তুত ২ হাজার কর্মী

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

সোনাগাজীতে প্রস্তুত ২ হাজার কর্মী

ফেনী প্রতিনিধি ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

সোনাগাজীতে প্রস্তুত ২ হাজার কর্মী

সোনাগাজীতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় দুর্যোগকালীন উদ্ধার তৎপরতাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য সিপিপির দেড়হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ ২ হাজার কর্মী প্রস্তুত রয়েছে। মজুদ রাখা হয়েছে শুকনো খাবার। অর্ধশত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার উপজেলার সব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলার সব কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ সর্তকতা জারি করা হয়েছে।

বুলবুলের প্রভাবে সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর গুড়িগুড়ি বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ বাড়তে শুরু করেছে। শনিবার সকাল থেকে সোনাগাজী উপকুলীয় এলাকায় বৃষ্টি না দলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনাসহ জনগণকে সর্তক করার লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সোনাগাজীতে অর্ধশত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ উপজেলার সব কয়টি বিদ্যালয়কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলায় একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে এবং ১০টি চিকিৎসক দল, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দুর্যোগকালী উদ্ধার তৎপরতাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য সিপিপির দেড়হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ ২হাজার কর্মী প্রস্তুত রয়েছে। মওজুদ রাখা হয়েছে শুকনো খাবার।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি এলাকায় জনগণকে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে সর্তক করে জানমাল ও গবাদিপশুর নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছেন। উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদেরকে দুর্যোগকালীন সময়ে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান বলেন, সমগ্র জেলায় ৭৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় খাবার স্যালাইনসহ প্রাথমিক ঔষধ মজুদ রেখেছেন। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বিপন্ন মানুষের জন্য ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল, ৬’শ মেট্রিক টন গম, চিড়া, মুড়ি গুড়সহ বিশুদ্ধ পানির মজুদ রাখা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনের বাড়ির মালামালে নিরাপত্তা পর্যাপ্ত পুলিশ নিয়োজিত থাকবে।

এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট, স্বেচ্ছাসেবক, সিপিবি, রোভার, আনসার বিডিপির সদস্যরা দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের পাশে নিয়োজিত থাকবে। সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, উপকূলীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখবে। মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু ও খামারের পশুদেরও নিরাপদ স্থানে নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে কৃষি বিভাগ, মৎস বিভাগসহ সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় সব বিভাগ কাজ করবে বলে জানান।

এএসটি/

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও