৫ জন মিলে খুন করে ডাক্তার শাহ আলমকে

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

৫ জন মিলে খুন করে ডাক্তার শাহ আলমকে

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১১:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

৫ জন মিলে খুন করে ডাক্তার শাহ আলমকে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে খুনের শিকার ডাক্তার শাহ আলম’র এক খুনিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টায় নগরীর রেল স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এই খুনে জড়িত আরও চারজন এখনও আত্মগোপনে।

গ্রেফতার ওমর ফারুকের উদৃতি দিয়ে র‌্যাবের উপ-পরিচালক তারেক আজিজ জানান, ওই রাতে ওমর ফারুক সেইফ লাইনের আল মনুসর পরিবহনের লেগুনাটির চালকের আসনে ছিলেন। চালকের সহকারী ও যাত্রীর ছদ্মবেশে আগ থেকে সেই গাড়িতে ছিলেন আরও দুইজন। ডাক্তার শাহ আলম গাড়িতে ওঠার পর আরও দুইজন যাত্রীবেশে সেই গাড়িতে উঠে। সে সময় তারা ডাক্তার শাহ আলমকে বলে ‘যা কিছু আছে তা দিয়ে দে’।

তবে ডাক্তার শাহ আলম দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করে হয়। ওই সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তার মুখে আঘাত করে খুনিরা। গাড়িতেই ডাক্তার শাহ আলম মারা যান। পরে শাহ আলমের লাশ রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে ফেলে দিয়ে খুনিরা গাড়ি ওমর ফারুকের বাড়ি বাড়বকুণ্ডে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে বালতি নিয়ে সাগরপাড়ে গিয়ে গাড়ি থেকে রক্ত ধুয়ে পরিষ্কার করে তারা। কিন্তু পুরোপুরি রক্তের দাগ মুছতে পারেনি তারা। খুনে ব্যবহৃত ছুরিটিও তারা পরিষ্কার করে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাশকুর রহমান জানান, গ্রেফতার ওমর ফারুক খুনে জড়িত ৫ জনের নাম প্রকাশ করেছে। অতি দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা হবে। 

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকালে গ্রেফতার ওমর ফারুক চট্টগ্রাম মূখ্য হাকিম ৩য় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা বাইপাস থেকে ডাক্তার শাহ আলমের ভাগনে মো. ইজাব তাকে সেফ লাইনের আল মনসুর পরিবহনের একটি লেগুনাতে তুলে দেন। ইজাব ভেবেছিলেন অন্যদিনের মতো তার মামা চান্দগাঁওয়ের বাসায় পৌঁছে গেছেন। কিন্তু বাসায় না পৌঁছায় স্ত্রী-সন্তান ধরে নিয়েছিলেন ডাক্তার শাহ আলম সীতাকুণ্ডেই অবস্থান করছেন। এ সময় ডাক্তার শাহ আলমের লাশ পড়েছিল সীতাকুণ্ড ঘাটঘর এলাকায় রাস্তার পাশে এক ঝোপের মাঝে।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়দের দেয়া সংবাদে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরে ওই রাতেই (শুক্রবার) লাশ শনাক্ত হওয়ার পর শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে স্ত্রী-সন্তানরা লাশ বুঝে নেন।

১৯ অক্টোবর আসর নামাজের পর নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

খুনের শিকার ডাক্তার শাহ আলম সীতাকুণ্ড কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরার মরহুম মাস্টার আজিজুল হকের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) থেকে এমবিবিএস শেষ করে চমেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল গনি শিকদারের মেয়ে অমরানা আজমিরি শিকদার কান্তার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

কান্তা নগরীর মরহুম আবু শাহিদ দোভাসের মেয়ের ঘরের নাতনি। শাহ আলম-কান্তার সংসারে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। একজন বিবিএ প্রথম বর্ষে পড়ছেন, অপরজন দশম শ্রেণিতে। ডাক্তার শাহ আলম দীর্ঘ ৩০ বছর সৌদি আরবের একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছর ১৭ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডে নিজ গ্রামে শিশুদের জন্য ‘চাইল্ড কেয়ার’ নামে মানসম্পন্ন একটি ক্লিনিক চালু করেন।

এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও