‘চুক্তিতে’ ধর্ষিত হয়ে থানায় গিয়ে ধরা তরুণী

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

‘চুক্তিতে’ ধর্ষিত হয়ে থানায় গিয়ে ধরা তরুণী

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

‘চুক্তিতে’ ধর্ষিত হয়ে থানায় গিয়ে ধরা তরুণী

চট্টগ্রামে চুক্তিতে ধর্ষিত হয়ে মামলা করতে থানায় গেলেন কুমিল্লার এক তরুণী। তবে সেই মামলায় নিজেই আসামি হয়ে এখন শ্রীঘরে। সঙ্গে দু’ধর্ষকও রয়েছেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী এখনও পলাতক।

সিএমপির কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মহসীন বলেন, সোমবার রাতে ধর্ষিত ওই তরুণী ও তার দু’ধর্ষককে আটক করা হয়েছে। চক্রের আরও একজন বাহিরে আছে, তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আটকদের মধ্যে ধর্ষিত ওই তরুণী ছাড়াও রয়েছেন, পরিকল্পনাকারী মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী (৩০), দুই ধর্ষক মো. সুমন খন্দকার প্রকাশ রিফাত প্রকাশ হাসান (২৫) ও মো. রবিন প্রকাশ বকুয়া (২০)।

ওসি বলেন, কুমিল্লার এক ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও তার ভাতিজাসহ ৩ জনকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানাধীন লালদিঘীর পাড় হোটেল সৌদিয়া ১০২ ভাড়া নেন এক তরুণীসহ দুই যুবক। ধর্ষণের জন্য তিন হাজার টাকা ও থানায় মামলা নথিভূক্ত হওয়ার পর পরই এক লাখ টাকা চুক্তিতে তরুণী সেখানে যান। পরিকল্পনা ও চুক্তি মতেই দু’যুবক দ্বারা ধর্ষিত হয়ে শুক্রবার রাত ১১টার সময় থানায় যান কুমিল্লার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওসি জানান, তরুণী থানায় এসেই অনেকটা এলোমেলো ভাষায় বলেন চাকুরি দেয়ার কথা বলে তাকে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে এসেছেন ইউপি মেম্বার কবির হোসেন। সাথে ছিলেন ইউপি মেম্বারের ভাতিজা শাহাজাহান। কুমিল্লা থেকে এনে মেয়েটিকে স্টেশন রোডের একটি আবাসিক হোটেলে রাখেন পঞ্চাশোর্ধ বয়সী কবির। সেই হোটেল কক্ষে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন চাচা-ভাতিজা! চাকরির আশায় চট্টগ্রাম এসে সর্বস্ব খুঁইয়ে মেয়েটি কাঁদছে বিচারের আশায়।

ঘটনা শুনে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামানকে ঘটনার তদন্ত করতে দায়িত্ব দেয়া। এরপরই তদন্ত প্রথমেই যান ঘটনাস্থল সেই আবাসিক হোটেলে। সেখানকার রেজিস্ট্রার চেক করে মেয়েটির হোটেলে থাকার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয় টিম কোতোয়ালী। শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য যাচাই করা হয় সিসিটিভি ফুটেজ। কিন্তু ফুটেজে কক্ষে মেয়ে ও দুই ব্যক্তি দেখা গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বয়সের সাথে মিলে না। সারাদিনের ফুটেজ চেক করার পরে সেখানে কোনো বয়স্ক লোক আসা যাওয়া দেখা যায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় থানায় ডাকা হয় ওই তরুণীকে। এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসেন।  সে সময় মেয়ের সাথে কথা বলার ফাঁকে ছেলেটির সাথে গল্পের ছলে কথা বললেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আর এই কথার ফাঁকে তাদের কথার ব্যাপক অসামঞ্জস্য দেখা যায়। এতেই ঘটনা ঘিরে শুরু হয় নতুন ভাবে সন্দেহ। তাদের আটক করে দফায় দফায় চলে জিজ্ঞাসা। এক পর্যায়ে পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে ছেলেটি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নিমসার বাজার নিয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার কবির হোসেন ও তার ভাতিজা শাহ আলমের সাথে বিরোধ আছে স্থানীয় বাসিন্দা মামুনের। কবির ও শাহ আলমকে মামলায় ফাঁসিয়ে ‘শিক্ষা’ দিতেই চট্টগ্রামের তরুণীকে ভাড়া করে মামুন। চুক্তি হয় এক লাখ টাকার। ধর্ষণের মামলা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয় তাই ঠিক করে আবাসিক হোটেল। ধর্ষণের ঝুঁকি এড়াতে ভিন্ন দুইজনের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ‘ধর্ষিত’ও হয়! চক্রের তিনজনকে আটক হয়েছে। বাকি আছে মূলপরিকল্পনাকারী মামুন।

এসবি

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও