পা দিয়ে ছবি এঁকে শ্রেষ্ঠ শিশু মোনায়েম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

পা দিয়ে ছবি এঁকে শ্রেষ্ঠ শিশু মোনায়েম

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী ৯:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

পা দিয়ে ছবি এঁকে শ্রেষ্ঠ শিশু মোনায়েম

দুই হাত ছাড়া জন্মগ্রহণ করলেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আটকাতে পারেনি। ফেনীর দাগনভূঞা একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ আল মোনায়েম। তার ইচ্ছা শক্তি দিয়ে ক্লাসের মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, অর্জন করেছে একের পর এক পুরস্কার।

জানা গেছে, উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে মোনায়েমের জন্মের পর দুই হাত না থাকায় মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের মন খারাপ হয়।

বাড়তি পরিশ্রম করে আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করে তুলেন তার মা বিবি কুলসুম। ৬ বছর বয়সে ভর্তি করান স্কুলে।

এরপর থেকেই মোনায়েম ভালো ফলাফল করতে থাকে। পা দিয়ে প্রতিদিনের পড়া খাতায় নোট করে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মোনায়েম বড়। অন্য সবার মতো তার সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাকে আদর করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। চিত্রাংকনে আগ্রহ দেখে তার মা তাকে উজ্জীবক আর্ট স্কুলে ভর্তি করান। জেলা ও উপজেলায় সেরা পুরস্কার লাভ করে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয় অদম্য মোনায়েম।

শিশু মোনায়েম জানায়, এমন সাফল্যে খুশি তার পরিবার। বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে এমন স্বপ্ন সবসময় মনে লালন করছে।

তার মা বিবি কুলসুম জানান, ৭ মার্চ ও ২৬ মার্চ উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় জেলায় ২য় হয়েছে। মাতৃভাষা দিবস ও বিজয় দিবসেও উপজেলায় ২য় হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আয়োজিত পুষ্টি সপ্তাহে জেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। তার সফলতায় সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

উজ্জীবক আর্ট স্কুলের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, শিশু মোনায়েমকে পা দিয়ে চিত্রাংকনের প্রশিক্ষণ প্রদান করি। তার ইচ্ছাশক্তি তাকে আরো অনেকদূর নিয়ে যাবে আমি আশা করি।

দাগনভূঞা একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ায় শিক্ষকরা তাকে সবসময় সহযোগিতা করেন।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে মোনায়েম উচ্চতর পড়া শেষ করে কর্মক্ষেত্রে সফল হবে এমন প্রত্যাশা করেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোন বাধা নয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মোনায়েম।

এইচআর

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও