সোনাগাজীতে এবার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

সোনাগাজীতে এবার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

ফেনী প্রতিনিধি ১১:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

সোনাগাজীতে এবার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

ফেনীর সোনাগাজীতে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় সোনাগাজী মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুজন কুমার দাসকে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এঘটনার তদন্তে গত শুক্রবার রাতে একজন পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলো চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি অফিসের অপরাধ বিভাগের পুলিশ সুপার মো. হাসান বারি নুর, ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আতাউর রহমান, বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার মো. খালেদ হোসেন।

গঠিত কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্তপূর্ব ডিআইজির কার্যালয়ে তাঁদের প্রতিবেদন দাখিল করবে।

সোনাগাজী সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. সাইকুল আহমেদ ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত শুক্রবার রাতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পৌরশহরের তুলাতলী এলাকা থেকে মাহবুবুল হক (৪৫) নামে একব্যক্তি গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সোনাগাজী সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. সাইকুল আহমেদ ভূঁইয়া শনিবার বিকেলে তার কার্যালয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় নয়। এএসআই সুজনকে মুলত দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জেলা পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ গত ১০/১১ তারিখে জমি-জমা সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন। এএসআই সুজনকে ওসি সাহেব অভিযোগটি তদন্তের জন্য দিয়েছিলেন। সুজন কিছুটা কালক্ষেপণ করায় ওই নারী কয়েকবার থানায় এসেছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় আসা-যাওয়ার মাঝখানে দুর্বৃত্তের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি।

গত বুধবার তিনি থানায় এসে অভিযোগ করার পর মামলা রুজু করার আগেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। সুজনের কালক্ষেপণের বিষয়ে থানার ওসি পুলিশ সুপারের কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তানিয়া ইসলামের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদানকালে গণধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ পুলিশ কর্মকর্তা সুজন তাকে দুইবার ধর্ষণ করেছে আদালতকে জানান।

জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. সাইকুল আহমেদ ভূঁইয়া আরও বলেন, এএসআই সুজনের বিরুদ্ধে আদালতে জবানবন্দিতে ওই নারী তাকে সুজন ধর্ষণ করেছে বলেছে বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি শুনার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনো কাগজপত্র পাননি। এঘটনার কাগজপত্র পেলে এবং তদন্ত কমিটির তদন্তে যদি সুজন দোষী সাব্যস্ত হয়। তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও অপরাধে দায় ভার কেউ নিবে না।

গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই নারীতে থানায় ব্যাপকভাবে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তখন তিনি পুলিশের বিষয়ে কিছুই বলেননি। মামলায় পুলিশের কাউকে আসামিও করেননি।

গ্রেফতার আসামি সঞ্জু সিকদারকে ঘটনায় কে কে জড়িত ছিল তার সামনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তখনও তিনি সুজন সম্পর্কে কিছুই বলেননি।

তিনি ধারণা করছেন, অভিযোগ তদন্তে দেরি করায় রাগ ও ক্ষোভ থেকে হয়তো বা তিনি আদালতে সুজনের নাম বলেছেন।

এর আগে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও যৌনহয়রানির মামলা করতে থানায় গিয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান ওরফে রাফির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন সোনাগাজী মডেল থানা সাবেক ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।

নুসরাত হত্যাকাণ্ড এবং তথ্য প্রযুক্তি ও ডিজটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে ওসি মোয়াজ্জেম এখনও জেলহাজতে রয়েছে। একটি ঘটনার রেস না কাটতেই আবারও সোনাগাজী মডেল থানার আরেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় জনমনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, ওই নারী গত ১০ সেপ্টেম্বর জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দেন। পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই সুজন কুমার দাস অভিযোগটি তদন্তে গাফেলতি করেছেন।

গত রোববার বিকেলে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়ে থানায় মামলা করতে এসে আরেক নারী প্রতারক রহিমার খপ্পরে পড়ে দুদফা গণধর্ষণের শিকার হন ওই নারী।

এঘটনায় তিনি নিজে বাদি হয়ে গত বুধবার সঞ্জু সিকদার, আফলাছ ও নারী প্রতারক রহিমা বেগমের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. খালেদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও