রোহিঙ্গাদের এনআইডি: ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

রোহিঙ্গাদের এনআইডি: ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৩:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

রোহিঙ্গাদের এনআইডি: ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামে পাঁচজনের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও ডিজিটাল আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নগরের ডবলমুরিং থানার নির্বাচনী কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

এরআগে সোমবার দিনগত রাত ১১টার দিকে পটিয়ার দুই ভাইবোনকে ডেকে নিয়ে তিনজনকে আটক করে চট্টগ্রাম নির্বাচন কর্মকর্তাসহ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। পরে রাতেই পুলিশ খবর দিয়ে তাদের তিনজনকে সোপর্দ করা হয়।

কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নির্বাচন অফিসের কর্মচারী। গত রাতে যে তিনজনকে আটক হয়েছে। তারা তিনজনসহ মোট পাঁচজন এই মামলার আসামি। বাকি দুইজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ওসি মোহাম্মদ মহসিন নির্বাচন কার্যালয় থেকে আটক তিনজনকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

মামলার তিন আসামীর মধ্যে একজন ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. জয়নাল আবেদিন (৩০)। বাকি দুজন গাড়িচালক বিজয় দাশ (২৬) ও তার বোন সীমা দাশ ওরফে সুমাইয়া আক্তার (২৩)।

বিজয় দাশ জয়নাল আবেদিনের বন্ধু এবং পেশায় গাড়িচালক এবং সীমা চট্টগ্রাম সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অস্থায়ী ভিত্তিতে আয়া পদে আছেন।

মামলার বাকি দুই আসামি সাগর ও সত্যসুন্দর দে। পাঁচ আসামি পরস্পরের যোগসাজশে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালে খোয়া যাওয়া ল্যাপটপটি জয়নালের হেফাজতে ছিল। সেটি ব্যবহার করেই কয়েকজন রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশের এনআইডি পাইয়ে দেয়া হয়েছে এবং তাদের তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে পাঠানো হয়েছে। জয়নাল ল্যাপটপটি রেখেছিল তার ঘনিষ্ঠ বিজয় ও সীমার হেফাজতে।

উল্লেখ্য, লাকী নামের এক নারী গত ১৮ আগস্ট স্মার্টকার্ড তুলতে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে তার হাতে পুরোনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে জেরার মুখে লাকী নিজের প্রকৃত নাম রমজান বিবি এবং ২০১৪ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার পর টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছিলেন বলে স্বীকার করেন। ওই রোহিঙ্গা নারী ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তৈরি করিয়েছেন ওই জাল এনআইডি। অথচ ওই ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্যও নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে।

এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটি তদন্তে নেমে নির্বাচন অফিসের কারও যোগসাজশে এই ঘটনা ঘটছে বলে তথ্য পায়। এরপর নির্বাচন কমিশনের আরেকটি বিশেষ টিম তিনদিন কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে এক দালালসহ সাতজনকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যে জয়নাল আবেদিনের বিষয় উঠে আসে এবং তাকে আটক করা হয়। পরে খোয়া যাওয়া ল্যাপটপটি দিতে এসে বিজয় ও সীমা আটক হয় বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

এসবি
আরও পড়ুন...
রোহিঙ্গাদের এনআইডি, চট্টগ্রাম নির্বাচন অফিসের কর্মচারীসহ আটক ৩

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও