রোহিঙ্গা ভোটারে কর্মকর্তারা জড়িত, মনে করছেন না কবিতা খানম

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

রোহিঙ্গা ভোটারে কর্মকর্তারা জড়িত, মনে করছেন না কবিতা খানম

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৮:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

রোহিঙ্গা ভোটারে কর্মকর্তারা জড়িত, মনে করছেন না কবিতা খানম

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার বিষয়ে এবার মুখ খুললেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার করা বা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেয়ার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছে বলে মনে করছি না। তবে সুর্নিদিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর লাভ লেইনে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন জবাব দেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। পরে সেখানে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে যোগ দেন।

কবিতা খানম বলেন, ‘কিছুদিন আগে একজন রোহিঙ্গার কাছে কার্ড (স্মার্টকার্ড) পাওয়া গিয়েছিল। ওই কার্ড ২০১৫ সালের। তবে রোহিঙ্গা নাগরিকের নিকট স্মার্টকার্ড পাওয়ার খবর জানতে পেরে ৪৬জন রোহিঙ্গার তথ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা উদ্ধার করেছি। এরা অবশ্য কেউই স্মার্টকার্ড পায়নি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র না পায়, সেজন্য নির্বাচন কমিশন সতর্ক আছে।

দেশে অনুপ্রবেশকারি ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা হয়েছে জানিয়ে কবিতা খানম বলেন, ‘তাদের বায়োমেট্রিক নেয়া আছে। আমরা প্রথমে ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করি। তারপর তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেয়ার আগে আমরা যখন বায়োমেট্রিক নেব, তখন  রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্যের সঙ্গে তা যাচাই করব। রোহিঙ্গা কাউকে পাওয়া গেলে তাদের আলাদা করে ফেলব। এভাবেই আমাদের সিস্টেমটা আমরা তৈরি করেছি। রোহিঙ্গারা যাতে  কোনোভাবেই ভোটার তালিকায় আসতে না পারে বা তারা যাতে এনআইডি না পায় সেজন্য আমরা সতর্ক আছি।’

জনপ্রতিনিধিদের দায়ী করে কবিতা খানম বলেন, ‘জন্ম নিবন্ধনসহ সব ডকুমেন্ট তৈরি করে আমাদের কাছে নিয়ে আসা হচ্ছে। এখন থেকে আমরা সেগুলো ভেরিফাই করব। কিন্তু যারা সেগুলো দিচ্ছে বা যাদের মাধ্যমে পাচ্ছে এবং যারা রোহিঙ্গাদের আত্মীয় পরিচয় দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই কোনো ডকুমেন্টস না পায়। কারণ এসব ডকুমেন্টসের মাধ্যমেই কিন্তু তারা ভোটার তালিকায় আসছে বা এনআইডি পাচ্ছে।’

কবিতা খানম বলেন, পাসপোর্ট করতে গিয়ে যারা ধরা পড়ছে বা যারা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বের করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোহিঙ্গাদের ভোটার করা ও এনআইডি দেয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, ‘দুদকের বিষয়টা আসলে এখনও আমাদের নোটিশে নেই। আমি শুনেছি যে গতকাল (রোববার) একটা টিম তদন্ত করতে এসেছিল। তবে দুদকের মাধ্যমে কোনো কিছু প্রমাণ হলেও নির্বাচন কমিশন সেটা নিজস্বভাবে তদন্ত করে দেখবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, ‘চট্টগ্রামের কয়েকজন নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারী রোহিঙ্গাদের এনআইডি দেয়ার ক্ষেত্রে জড়িত এমন কোনো অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ আছে বলে আমার জানা নেই।’

এমএইচ/

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও