বিমান ছিনতাই: জিজ্ঞাসাবাদে যা জানালেন শিমলা

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

বিমান ছিনতাই: জিজ্ঞাসাবাদে যা জানালেন শিমলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

বিমান ছিনতাই: জিজ্ঞাসাবাদে যা জানালেন শিমলা

ঢাকার আকাশ থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ময়ূরপঙ্খী ছিনতাই চেষ্টার আলোচিত ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিনেত্রী শামসুন্নাহার শিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।

এর আগে শিমলা সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়ায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অফিসে আসেন।

অভিনেত্রী শিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিমলা নিহত পলাশের সঙ্গে পরিচয়, বিয়ে এবং পরবর্তীতে বিচ্ছেদ হওয়া নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। এ পর্যন্ত তদন্ত ও সাক্ষ্যে পাওয়া কিছু তথ্যের সঙ্গে শিমলার দেয়া তথ্যের অনেক ক্ষেত্রে মিল রয়েছে। শিমলার আগের ও আজকের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজনে হলে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের ডাকা হবে।

তিনি বলেন, শিমলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন সাক্ষী। তার দেয়া বক্তব্য মামলার তদন্তে সহায়ক হবে। আমরা ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় বিমানে থাকা পাঁচজন যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এখন যাত্রীদের মধ্যে আরও যারা ছিলেন তাদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছিনতাই চেষ্টা প্রতিরোধের অভিযানে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

রাজেশ বড়ুয়া বলেন, গত ২২ মে ভারতে অবস্থানরত শিমলার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে তাকে দেশে ফিরে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অফিসে এসে বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ করা হয়। এর আগে তার ঠিকানায় নোটিশও পাঠানো হয়। অভিনেত্রী শিমলা গত ২৫ আগস্ট ভারতের মুম্বাই থেকে দেশে ফিরেন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অফিসে নিজেই আসেন এই অভিনেত্রী। দুপুর দেড়টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়।

এদিকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিনেত্রী শিমলা। এ সময় তিনি বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের ফরমালিটির অংশ হিসেবে আমাকে ডেকেছিলেন। আমার কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়েছেন। বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনার পর পরই আমার বক্তব্য আমি মিডিয়ায় দিয়েছি। আজ আবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনেও দিয়েছি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ময়ূরপঙ্খী ঢাকা-চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার জন্য আকাশে উড্ডয়নের পর পরই ঢাকার আকাশে পলাশ আহমেদ নামে এক যাত্রী ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালা। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিমানটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের পর সন্ধ্যার দিকে মাত্র ৮ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পলাশ। অবসান ঘটে সেদিনের বিমান ছিনতাই কাণ্ডের।

এই ঘটনায় বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নগরীর পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পতেঙ্গা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০১২-এর ৬ ধারা এবং বিমান নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ দমন আইন, ১৯৯৭-এর ১১ (২) ও ১৩ (২) ধারায় পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন মামলার বাদী। মামলায় নিহত পলাশ আহমেদ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ওই উড়োজাহাজ থেকে উদ্ধার করা পিস্তল ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তুসহ বেশকিছু আলামত জমা দেয় র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো টিম।

গত ১৩ মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি পিস্তলের ব্যালাস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন দেয় কাউন্টার টেরোরিজমের হাতে। এতে বলা হয়, দুষ্কৃতকারীর হাতের পিস্তলটি ছিল খেলনা।

এই মামলায় নিহত পলাশের স্ত্রী শিমলাসহ ৪২ জন সাক্ষীকে ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এসবি

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও