ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় ১৪ দিন হাজতবাস!

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় ১৪ দিন হাজতবাস!

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় ১৪ দিন হাজতবাস!

রাজবাড়ীতে হত্যা মামলায় ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় এক ব্যক্তির ১৪ দিনের হাজতবাসের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর নাম আবদুল মান্নান খা (৩৮)। পেশায় রাজমিস্ত্রী মান্নান রাজবাড়ী শহরের পৌর এলাকার ধুঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা।

মান্নানের ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৬ আগস্ট দুপুরে বাড়িতে থানা থেকে পুলিশ আসে। এ সময় আমার ভাই পঞ্চগড় জেলার একটি হত্যা মামলার আসামি বলে জানায়। কিন্তু আমার ভাই কখনো পঞ্চগড় যায়নি। তিনি কীভাবে হত্যা মামলার আসামি হবেন বলার পরও সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম তাকে ‘গ্রেপ্তার’ করে থানায় নিয়ে যান। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। রাজবাড়ীর এক নম্বর আমলী আদালতের বিচারক আবু হাসান খায়রুল্লাহ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত ছিলাম আমার ভাই কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। আইনজীবীর পরামর্শে রাতেই আমি পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। তিন-চারদিন আদালত ও থানায় ঘোরাঘুরি করার পর জানতে পারি আমার ভাইয়ের নামে সেখানে কোনো মামলা নেই। এমনকি ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটিও ভুয়া।

ওই ভুয়া মামলায় (৪৫২/১৩) কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়নি বা ওই নম্বরে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। এর পর রাজবাড়ীর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত থেকে খণ্ডনথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও চালানের কপি পঞ্চগড় দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

গত ২ সেপ্টেম্বর এসব নথি পাওয়ার পর পঞ্চগড়ের দায়রা জজ জালাল উদ্দিন আহাম্মদ বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দায়রা সহকারীকে নির্দেশ দেন। দায়রা সহকারী ওই দিনই প্রতিবেদন দাখিল করেন।

দায়রা সহকারীর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মামলাটি রেজিস্ট্রার বইতে নিবন্ধন করাই হয়নি। ২০১৩ সালে মোট ১৪৩টি মামলা নিবন্ধন করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার রেজিস্ট্রার যাচাই করে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৬ ফ্রেব্রুয়ারি ১০২/ফৌজদারি স্মারক নম্বরে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ওই আদালত থেকে ইস্যু করা হয়নি।

এর পর দায়রা জজ আদেশ দেন, যে মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে উক্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি জাল, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও সৃজনকৃত। কোনো একটি সংঘবদ্ধ চক্র আসামিকে হয়রানি, অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল এবং ক্ষতি করার মানসে উক্ত গর্হিত কাজটি করেছে। অতএব অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না হলে বিধি মোতাবেক মুক্তি প্রদান করে পঞ্চগড় দায়রা আদালতকে অবহিত করার জন্য রাজবাড়ী জেলা কারাগারের জেল সুপারকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর রাতে আমার ভাইকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান খা বলেন, ‘বিনা দোষে আমি হাজতবাস করেছি। সুভাগ্যক্রমে আমার পরিবার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় আমি মুক্তি পেয়েছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সেইসঙ্গে আমার আর্থিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির বিচার দাবি করছি।’

রাজবাড়ী জেলা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী স্বপন কুমার সোম বলেন, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। বিচার বিভাগের জন্যও বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। এতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকতে পারেন। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এমএইচএম/আরপি

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও