মিতুর ছেলে বন্ধু প্যাটেলকে বাদ দিয়েই পুলিশের অভিযোগপত্র

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মিতুর ছেলে বন্ধু প্যাটেলকে বাদ দিয়েই পুলিশের অভিযোগপত্র

চট্টগ্রাম ব্যুরো ১১:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

মিতুর ছেলে বন্ধু প্যাটেলকে বাদ দিয়েই পুলিশের অভিযোগপত্র

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়েরকৃত মামলা থেকে স্ত্রী মিতুর বয়ফ্রেন্ড যুক্তরাষ্ট প্রবাসী ভারতীয় নাগরিক উত্তম প্যাটেলকে বাদ দিয়েই পাঁচজনকে অভিযুক্তকরে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

সিএমপির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই আবদুল কাদের গত সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

চিকিৎসক আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুসহ পাঁচ আসামির বাকি অভিযুক্তরা হলেন- মিতুর মা শামীমা শেলী, বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, ছোট বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা এবং মিতুর এ দেশীয় বয়ফ্রেন্ড ডা. মাহবুবুল আলম।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে কর্তব্যরত নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মিতু, তার বাবা-মা ও বোন এবং বন্ধু ডা. মাহবুবুল আলমসহ মোট পাঁচজনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।’

‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোমবার এটি প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেওয়ার পর আজ (বুধবার) অভিযোগপত্রটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি ডা. আকাশের মা জোবেদা খানম বাদি হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পুত্রবধূ তানজিরা হক চৌধুরী মিতুসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।

ডা. আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ‘থ্রি ডক্টরস’ নামে মেডিকেল ভর্তির একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন।

আর তার স্ত্রী মিতু কমিল্লা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস শেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন করেন। সেখানেই আকাশের সঙ্গে তার পরিচয় এবং ২০১৬ সালে বিয়ে হয়।

বিয়ের পরপরই উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান মিতু।  সেখান থেকে ১৩ জানুয়ারি দেশে ফেরেন তিনি। এরপর ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন আকাশ।

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক’ ও ‘প্রতারণার’ অভিযোগ করে যান ডা. আকাশ। এর ‘প্রমাণ’ হিসেবে মিতুর সঙ্গে তার ‘বন্ধুদের’ বেশ কিছু ছবিও তিনি ফেসবুকে তুলে দেন।

ডা. আকাশের আত্মহত্যার পর নগরের নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়র বাসা থেকে মিতুকে আটক করে পুলিশ।

আকাশের মায়ের করা মামলায় মাহবুবুল আলম নামে এক চিকিৎসককে আসামি করা হয়, তিনি কুমিল্লা মেডিকেলে মিতুর ব্যাচমেট ছিলেন বলে ওই সময় সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল পুলিশ।

গত অগাস্টের শেষ সপ্তাহে উচ্চ আদালত থেকে মিতু এ মামলায় জামিন নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরহন। ঘটনার পর পরই বাসা ছেড়ে পালিয়েছেন মিতুর বাবা-মা। আর প্রবাসে অবস্থান করছেন মিতুর ছোটবোন। আকাশের আত্মহত্যার খবর প্রকাশ হতেই মিতুর বন্ধু মাহবুবুল আলমও আত্মগোপনে চলে যান।

এআরই

 

চট্টগ্রাম: আরও পড়ুন

আরও