তওবার পরও লোকেরা বিষোদগার করছে?

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

তওবার পরও লোকেরা বিষোদগার করছে?

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৫:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯

তওবার পরও লোকেরা বিষোদগার করছে?

সত্যাশ্রয়ী অনেক ভাই বোন আছেন, যারা নিজেদের অতীতের ভুল, অন্যায় বা অপরাধ থেকে ফিরে এসেছেন। অশ্লীলতা-পাপাচার থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করেছেন। বর্তমানে সত্যনিষ্ঠ পবিত্র জীবন যাপন করছেন। সাধ্যানুযায়ী দাওয়াতের কাজও করছেন।

তবু কিছু অসৎ বন্ধু, অবুঝ নিকটাত্মীয় বা দ্বীনের আলোহীন কিছু প্রতিবেশী এমন থেকে যায়, যারা এই মানুষগুলোর অতীতের অন্ধকার টেনে বারবার তাদের সুন্দর বর্তমানকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে, কানাঘুষা করে, কখনো বা এমনও বলে যে- “এসব কিছুই না, ভালোর লেবাস জড়িয়েছে শুধু, ভণ্ডামি যতসব”!

আপনার সাথেও যদি এমনটা হয়ে থাকে, আপনার হৃদয়টা যদি বারবার ভেঙ্গে দেয় তারা, তাহলে আশাহত হবার কিছু নেই। এই ঘটনাগুলোকে ইতিবাচকভাবে নিন। আল্লাহ ভাঙ্গা হৃদয়ের মানুষদের সাথে থাকেন। ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয়টি তার মাঝে আল্লাহর আলো প্রবেশের পথ প্রশস্ত করে দেয়। আপনি বরং তখন ভাঙা মন নিয়ে আল্লাহর কাছে সমর্পিত হোন। চোখের পানিগুলো অজুর পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। দু’রাকাত নামাযে দাঁড়িয়ে যান। তাঁর কাছে সিজদায় খুলে বলুন হৃদয়ের যত ব্যথা, যত আর্তি।

আপনি সঠিক পথেই আছেন। মন খারাপ করবেন না। পিছু হটারও কারণ নেই। আপনি বরং সাধ্যানুযায়ী আরও বেশি নেক কাজ করতে থাকুন, দাওয়াতের কাজে আরও মনোনিবেশ করুন। আপনাকে আরও কিছুদিন লড়াই করে এ ধাপটা পার হয়ে যেতে হবে। আল্লাহ সহায় হবেন ইনশাআল্লাহ। অন্যরা খারাপ বলতে বলতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে ছেড়ে দিবে এসব।

ভালো পথে আসলে, ভালো কাজ করতে গেলে বাঁধা আসবেই। দমে না গিয়ে অটল থাকা নবী রাসূলদের সুন্নত। আমাদের প্রতিপালক বলেন,

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:١٧] وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا [٤:١٨

“অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে,অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়,তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।” [সূরা নিসা, আয়াত:১৭-১৮]

তিনি আমাদের মর্যাদা ও দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে আরও ইরশাদ করেন,

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ ۗ

তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত:১১০]

এমএফ/

 

কুরআনের আলো: আরও পড়ুন

আরও